Main Menu

ছাত্রলীগ নেত্রীর নির্যাতনে হল ছাড়লেন ইবি শিক্ষার্থী!

ইবি প্রতিনিধি: নবীন ছাত্রীকে রাতভর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শাখা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। গত ১২ ফেব্রুয়ারী রবিবার রাত ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের গণরুমে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, অভিযুক্তরা হলেন- পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, তার সহযোগী ফিন্যান্স এ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাবাসসুম ও তার ৭-৮ জন সহযোগী। ঘটনার পর ওই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ভয় পেয়ে হল ছেড়ে চলে যায়।

ভুক্তভোগী ফুলপরি খাতুন ফিন্যান্স বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

এদিকে এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তাদের বিরুদ্ধে প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা ও হল প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে উপস্থিত হতে গত ৭ ফেব্রুয়ারী শেখ হাসিনা হলের ৩০৬ নম্বর রুমে এলাকার পরিচিত আপুর কাছে উঠে ফুলপরী খাতুন। ৯ ফেব্রুয়ারী তাবাসসুম তাকে রুমে দেখা করতে বলে। অসুস্থ থাকায় যথাসময়ে রুমে যেতে পারেনি ফুলপরী। এরপর থেকেই তার উপর চড়াও হয় তাবাসসুম ও তার সহযোগীরা। পরবর্তীতে রুমে গেলে তার সাথে খারাপ আচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হল থেকে ঘাড় ধরে বের করে দেয়ার হুমকি দেন তারা। এসময় না জানিয়ে হলে উঠার জন্য তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে থাকেন অভিযুক্তরা। এ ঘটনার জের ধরে ১১ ফেব্রুয়ারী রাতে ফুলপরীর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এছাড়া তাকে হল থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্তরা। পরদিন বিকেলে হল প্রভোস্ট ও সহকারী প্রক্টরের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

এদিকে ওইদিন রাত ১১টায় ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরাসহ ৭-৮জন ভুক্তভোগীকে গণরুমে নিয়ে যান। রুমে নিয়ে কথায় কথায় তাকে তারা সবাই একসঙ্গে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে। কেনো মারছেন জানতে চাইলে তার মুখ চেপে ধরেন ও সজোরে চোয়ালে থাপ্পড় মারতে থাকেন। এসময় তারা ভুক্তভোগীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘চিনিস আমাদের, আমরা কত খারাপ। আমরা তোর কি পারি জানিস তুই? কোনো আইডিয়া আছে আমাদের সম্পর্কে তোর?’

অভিযোগ পত্রে ভুক্তভোগী বলেন, এসময় আমি কান্না করে ওনাদের পা ধরে মাফ চাইতে গেলে তারা আমাকে পা দিয়ে লাথি মারেন। আমার বাবা-মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে আমার বুকের উপর হাত দিয়ে সজোরে থাবা মারেন ও গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ধরে রাখেন আবার ছাড়েন। একপর্যায়ে তারা একটা ময়লা গ্লাস আমাকে দিয়ে চেটে পরিষ্কার করিয়ে নেয় ও সেটার ভিডিও ধারণ করে। পরে তারা জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে সেটার ভিডিও ধারণ করেন। এসময় তারা বলেন, ‘যদি বাইরের কাউকে এসব কথা বলিস, তাহলে তোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দিবো। এছাড়া ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি অন্তরা বলেন, তুই যদি প্রশাসনের কাছে কোনো অভিযোগ দিস, তাহলে তোকে মেরে কুত্তা দিয়ে খাওয়াবো। পরে রাত তিনটার দিকে তারা আমাকে একটি গণরুমে পাঠিয়ে দেয়। পরদিন সকালে ভয়ে হল থেকে পালিয়ে আমি গ্রামের বাড়ি পাবনাতে চলে যাই।

এসব বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ঘটনা। আমার সাথে এর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ওই ছাত্রীর এক ভাই ফোন কলে আমাকে তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কমিটি করে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, “আমি এ বিষয়ে একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টা আমলে নেওয়া হয়েছে।”

ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শেলীনা নাসরীন বলেন, “ওই ছাত্রীর বিষয়টি শুনেছি। আমরা বরাবরই র‌্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করি। সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই র‌্যাগিং অ্যালাউ না। আমি নীতিগতভাবে এটা কখনো সমর্থন করি না। বিষয়টা কিভাবে কি ঘটলো আমি সংশ্লিষ্টদের সাথে বসে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”

Share





Related News

Comments are Closed