সম্পত্তির লোভে গুম-খুন করতে পারেন মোশাররফ
ডেস্ক রিপোর্ট: নিজের সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়ে গুম বা হত্যাকান্ডের শিকারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নগরীর চৌকিদেখী এলাকার সালিশ ব্যক্তিত্ব মরহুম আব্দুল হামিদের ছেলে ব্যবসায়ী আবুল কাশেম আছাদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার পরিবারের মান-সম্মান ধুলায় মিশিয়ে দিচ্ছেন ভূমিখেকো হিসাবে পরিচিত তারই চাচাত বোনের স্বামী মোশাররফ হোসেন।
মঙ্গলবার ( ১৭ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, আম্বরখানা মৌজার জেএল নং ৯২ এবং হালনাগাদ ১৩৪৫ নং দাগের (সাবেক ১৮০) ৭ শতক ভূমির রেজিস্ট্রি আমমোক্তারনামার মাধ্যমে আমি মালিক। সাবেক ১৮১নং দাগের মালিক আমার চাচাত বোন নাছরাত রহমান নাদিয়া। তার স্বামী হবিগঞ্জের মো. জরিফের ছেলে মোশাররফ হোসেন এখানে ঘরজামাই হিসাবে আছেন। তিনি একসময় র্যাবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে লোভী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠলে তিনি চাকটিচ্যুত হন। এখন তিনি আমার চাচাতো ভাইবোনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিতে লিপ্ত। সম্পত্তির লোভে অন্ধ হয়ে তিনি আমাদের গোটা পরিবারেরই মান-সম্মান ধুলায় লুটিয়ে দিচ্ছেন। সম্প্রতি সিলেট সিটি করপোরেশন রাস্তা ও ড্রেন প্রশস্তের জন্য আমার দাগের ভূমির দেয়াল ভাঙে। পরে আমি কাউন্সিলরের পরামর্শে ৪ ফুট উঁচু দেয়াল তৈরির কাজ শুরু করি। মোশাররফ হঠাৎ করে ভূমির মালিকানা দাবি করে বাধা দিলে পুলিশ ইনজাংশন জারি করে। তারপর তিনি লিগ্যাল এইডে মামলা করেছিলেন। কিন্তু ডকুমেন্ট না থাকায় মামলাটি তুলে নিতে বাধ্য হন। তখন সিলেটের সিনিয়র সহকারী জজ ফাইরুজ তাসনীম তাকে তিরস্কার করেন। কিন্তু পরে আবারও দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করেন। আমার বাধার মুখে জায়গা দখল করতে না পেরে ক্রোধান্বিত হন এবং এয়ারপোর্ট থানায় আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়েরের চেষ্টা করেন। পুলিশ সাজানো মামলা না নিয়ে আপোষে নিষ্পত্তির পরামর্শ দেয়। এয়ারপোর্ট থানার কমিউনিটি পুলিশের সভাপতিসহ দু’পক্ষের আত্মীয় স্বজনের মাধ্যস্থতায় এক বৈঠকে সমঝোতা হলেও লিখিত আপোষনামায় স্বাক্ষর করতে তিনি অস্বীকার করেন। পরে তিনি তার এক প্রভাবশালী আত্মীয়ের সহযোগীতায় সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট ৩য় আদালতে আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর মামলা দায়ের করেন। আমরা আত্মসমর্পণ করি এবং জামিন পাই। সেদিনই তিনি আবারও দেয়াল নির্মাণ শুরু করলে আমি ৯৯৯- এ কল দেই। পুলিশ এসে কাজ বন্ধ করে। মোশাররফ শুধু আমার জমি দখল চেষ্টাই নয়, আমার চাচা আব্দুর রহমান মারা যাওয়ার পর তার উত্তরাধিকারীদের জমিতে ৯তলা ভবন তৈরির কাজ শুরু করেছেন। বিভিন্নজনকে ফ্ল্যাট দেয়ার নাম করে টাকা নিচ্ছেন। এতে ক্রেতারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আমার আশঙ্কা। কারণ, এ ব্যাপারে আদালতে মামলা চলছে।
আছাদ বলেন, গত ১৩ জানুয়ারি আবারও জোরপূর্বক দেয়াল নির্মাণ শুরু করেন মোশাররফ। আমি কাজ বন্ধের অনুরোধ করি। না মানায় পুলিশ এসে কাজ বন্ধ করে। এরপর তিনি ফেসবুক লাইভে এসে আমি, আমার স্ত্রী, বোন ও ভাইকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এ ব্যাপারে আমি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে তার আত্মীয়-স্বজন আছেন। যখন তখন তিনি আমাকে গুম, এমনকি হত্যাও করতে পারেন বলে আমার আশঙ্কা।
সংবাদ সম্মেলনে তার স্ত্রী সাকেরা বেগম বলেন, আমার সন্তানরা স্কুলে যায়। মোশাররফ আমার মতো নির্দোষ মানুষকেও যখন আজেবাজে গালাগাল করতে পারেন, তখন সন্তানদেরও ক্ষতি করতে পারেন। আমরা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। আছাদের বড় বোন জোনাকী বেগমও তার ছেলে গুমের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
আছাদ আইনশৃঙখলা বাহিনীর কাছে সার্বিক নিরাপত্তা চেয়েছেন। তিনি মোশাররফের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতেও সিলেটবাসীর প্রতি আহবান জানান। প্রয়োজনীয় দলিল ডকুমেন্টসহ তার অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে খন্ডানোর চ্যালেঞ্জও ছুঁড়েছেন তিনি।
Related News
রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান না করা নিয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির বিবৃতি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরভবনে অনুষ্ঠিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেRead More
গণতন্ত্র পেয়েছি, রক্ষা করা এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশেRead More



Comments are Closed