Main Menu

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম বীর প্রতীককে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একাত্তরে রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আবদুল হালিম বীর প্রতীক কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় স্থানীয় টেংরাটিলা হাইস্কুল মাঠে নামাজে যানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা প্রিয়াংকা ও ওসি দেবদুলাল ধরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাকে সশস্ত্র গার্ড অব অনার প্রদান করে। এসময় বিউগলে বেজে উঠে করুন সুর।

দেশপ্রেমিক এই বীর সন্তানের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন, মুহিবুর রহমান মানিক এম পি, জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, পুলিশ সুপার এহসান শাহ্,সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন, অধ্যক্ষ বীর প্রতিক ইদ্রিস আলী, উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান আল তানভীর আশরাফী চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আহমেদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ডাঃ আবুল কুদ্দুস, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সফর আলী,ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, মিলন খান, জহিরুল ইসলাম, আবুল হামিদ, আবদুল ওয়াহিদ, শামিমুল ইসলাম শামিম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, শাহাজাহান মাষ্টার, আবুল খালিক, আমিরুল হক, খন্দকার মামুনুর রশীদ, কাজী আনোয়ার মিয়া আনু ও হারুন অর রশীদ প্রমুখ।

বীর প্রতিক আব্দুল হালিমের বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার টেংরাটিলা গ্রামে। তিনি ১৯৭১ সালে সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এলাকার কয়েকজন ছাত্র-যুবককে নিয়ে যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভারতের রেঙ্গুয়া বাজারে গিয়ে তাঁরা নাম লেখান মুক্তিবাহিনীতে। ইকো-১ ট্রেনিং সেন্টারে এক মাসের ট্রেনিং শেষে তাঁদের পাঠানো হয় ৫ নম্বর সেক্টরের বালাট সাব-সেক্টরে। সেখানে এক যুদ্ধে আহত হন তিনি। বালাট এলাকা সম্পর্কে তাঁদের কোনো ধারণা ছিল না। পরে তাঁদের নিজেদের এলাকায় পাঠানো হয়। তাঁদের মোট ৭৩ জন সেলা সাব-সেক্টরে এসে যোগ দেন। তিনি দোয়ারাবাজারের টেংরাটিলা,নরসিংহপুর, আলীপুর, হাছনবাহার, বালিউড়া, ছাতকের হাদাটিলা ও দুরবিনটিলা এলাকায় যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। ১৩ অক্টোবর ১৯৭১ তাঁর নেতৃত্বে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের জাউয়া সেতু উড়িয়ে দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে বীর প্রতিক খেতাব দেওয়া হয়।

তিনি বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দোয়ারাবাজারের সুরমা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। মৃত্যুকালে স্ত্রী, ১ পুত্র ও ২ কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আব্দুল হালিম দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, কিডনি ও বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভোগছিলেন।

এদিকে আব্দুল হালিম বীরপ্রতীকের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন, জেলা জজকোর্টের পিপি ও জেলা পরিষদের আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ড.খায়রুল কবির রুমেন, দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক,দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান তানভীর আশরাফী চৌধুরী বাবু,উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক ফরিদ আহমদ তারেক,জেলা আওয়ামীলীগ নেতা এডভোকেট চান মিয়া,এডভোকেট আব্দুল আজাদ রুমান,আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক আল-হেলাল প্রমুখ।

উল্লেখ্য বুধবার বেলা দেড়টায় ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

0Shares





Related News

Comments are Closed