খালেদার মুক্তির মেয়াদ ষষ্ঠবারের মতো বাড়ানোর আবেদন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দুই মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়াতে আবেদন করেছে তার পরিবার।
রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন।
চিঠিতে তিনি খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়ারও অনুরোধ করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘চিঠি রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানো হয়েছে।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বিজন কান্তি দাস চিঠি পৌঁছে দেন।
এ বি এম আব্দুস সাত্তারের বরাত দিয়ে শায়রুল কবির খান বলেন, ‘ম্যাডামের মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।’
সরকার খালেদার আবেদন আমলে নিলে তিনি ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত কারাগারের বাইরে থাকতে পারবেন।
রাজধানীতে শনিবার এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক খালেদার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয় নিয়ে কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, খালেদার পরিবার চাইলে এবং আবেদন করলে সরকার তার মুক্তির মেয়াদ বাড়াবে।
খালেদা জিয়াকে মুক্তির জন্য দুটি শর্ত বেঁধে দেযা হয়েছিল। একটি তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত, তাকে চিকিৎসা নিতে হবে দেশে থেকেই।
অবশ্য নানা সময়ে খালেদাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর দাবি করে বিএনপি। এমনকি সেই দাবিতে দলটি বেশ কিছুদিন সারা দেশে নানা ধরনের কর্মসূচিও পালন করেছে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে আবারও জানিয়ে দিয়েছেন, খালেদাকে মুক্তি দেয়া হলেও তাকে কোনোভাবেই বিদেশে চিকিৎসা নিতে যেতে দেয়া হবে না।
অবশ্য এবার যে আবেদন করা হয়েছে, সেখানে খালেদাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তার ভাই শামীম ইস্কান্দার।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে যান বেগম খালেদা জিয়া। পরে উচ্চ আদালত সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে ওই বছরের অক্টোবরে। একই সপ্তাহে বিচারিক আদালতে ঘোষিত হয় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা, যাতে সাত বছরের কারাদণ্ড হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর।
১৭ বছরের সাজা নিয়ে বিএনপি নেত্রীর জামিনের আবেদন যখন বারবার উচ্চ আদালত নাকচ করছিল, তখন ২০২০ সালের মার্চে করোনা হানা দেয় দেশে। সে সময় বিএনপি নেত্রীর পরিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন নিয়ে গেলে তিনি তার নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করলে ২৫ মার্চ মুক্তি পান বিএনপি নেত্রী। এরপর আরও পাঁচ দফায় বাড়ানো হয় সাময়িক মুক্তির মেয়াদ।
এবার যদি সরকার মেয়াদ বাড়ায়, তবে সেটি হবে ষষ্ঠবারের মতো মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো।
Related News
১১ দলীয় ঐক্যের দ্বিতীয় লংমার্চের তারিখ ঘোষণা, দাবিতে নতুন দফা যোগ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ছয় দফা দাবি এখন রূপান্তরিতRead More
জামিনে মুক্ত বিদিশা সিদ্দিক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড পাওয়া সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রাক্তনRead More



Comments are Closed