Main Menu

সিলেটে থালায় চাল-কচু নিয়ে চা-শ্রমিকদের ‘ভুখামিছিল’

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে থালায় চাল ও কচু আর শরীরে নানা স্লোগান লিখে ‘ভুখামিছিল’ করছেন সিলেটের চা-শ্রমিকেরা। রোববার (২১ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সিলেটের বিক্ষুব্ধ চা-শ্রমিকদের ব্যানারে সিলেট শহরতলীর মালনীছড়া দুর্গামন্দিরের পাশে জড়ো হন শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে তিন শতাধিক শ্রমিক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

সকাল থেকেই মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চা-শ্রমিকদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে মালনীছড়া চা বাগান এলাকা। সিলেটের বিভিন্ন বাগানের চা-শ্রমিকেরা সেখানে যোগ দিতে থাকেন। ভুখামিছিলে যোগ দেন তরুণ শ্রমিকেরাও। ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে তাদের বুকে ও পিঠে বিভিন্ন স্লোগান লেখা দেখা গেছে।

বিপ্লব প্রধান নামের এক তরুণ তার গায়ে লিখেছেন, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরো দেব রক্ত; দালালির চুক্তি, মানি না মানব না।’ উজ্জ্বল মিয়া নামের আরেক শ্রমিকের পিঠে লেখা ‘৩০০ টাকা মজুরি দে, নাইলে বুকে গুলি দে।’ বনমালী সবর নামের এক শ্রমিক লিখেছেন, ‘প্রতারণার চুক্তি, মানি না মানব না; ২০-২৫ মানি না, ৩০০ ছাড়া বুঝি না।’

শ্রমিকদের গায়ে দাবি-সংবলিত স্লোগান লিখে দিচ্ছিলেন বাদল বাউড়ি নামের এক তরুণ। তিনি বলেন, শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত। বারবার তাদের মজুরি নিয়ে প্রহসন হয়েছে। এখন বাধ্য হয়েই আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকেরা। ১৩ দিন ধরে আন্দোলনে থাকায় শ্রমিকেরা কোনো মজুরি বা রেশন পাননি। এ অবস্থায় অভুক্ত অবস্থায় আন্দোলন করছেন শ্রমিকেরা।

দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে গত ১৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন শ্রমিকেরা। ধর্মঘটের অষ্টম দিনে শনিবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের কার্যালয়ে শ্রম অধিদপ্তর ও সরকারের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে বসেন চা-শ্রমিকনেতারা। বৈঠক শেষে চা-শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল ২৫ টাকা বাড়িয়ে মজুরি ১৪৫ টাকা করায় ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেন। তবে ওই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি সাধারণ চা-শ্রমিকেরা। তারা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সিলেটসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে চা-শ্রমিকনেতা নিপেন পালও সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

চা শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ :
দৈনিক মজুরি ১৪৫ টাকা প্রত্যাখ্যান করে নূন্যতম ৩০০ টাকা করার দাবিতে আবারও আন্দোলনে নেমেছে সিলেটের চা-শ্রমিকরা। আন্দোলনের এক পর্যায়ে তারা সিলেট- বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে মিছিল ও সমাবেশ করেন। রোববার (২১ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে ফের আন্দোলন শুরু করা সিলেট ভ্যালির চা-শ্রমিকরা দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত সিলেট-বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান দিতে থাকেন। এসময় সড়কের দুইপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।

পরে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরীর আশ্বাসে ২৪ ঘণ্টার জন্য সড়ক অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করে লাক্কাতুরা চা বাগানের দুর্গা মণ্ডপের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা।

এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের দাবী মানা না হলে আগামীকাল সোমবার থেকে ফের সড়ক অবরোধ করবেন বলে জানান তারা। এছাড়া পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালনের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন শ্রমিকরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চা-শ্রমিকের সন্তান ও আন্দোলনকারীদের একজন দেবাশীষ গোয়ালা বলেন, চা-বাগান মালিকরা আমাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছেন। ১২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা করে আমাদের দয়া দেখাচ্ছেন তারা। কিন্তু আমরা কারও দয়া চাই না। আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি চাই। বর্তমান যুগে কোথাও এই মজুরি নেই।

আন্দোলন প্রত্যাহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেখানে শ্রমিকের অধিকার বাস্তবায়ন হয় নাই, সেখানে প্রত্যাহার নয় প্রত্যাখ্যান হওয়া জরুরি। তাই আমরা আমাদের দাবিতে অনড় অবস্থায় আবারও মাঠে নেমেছি।

এদিকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে শনিবার রাতে বৈঠকে বসেন সিলেটের বিভিন্ন চা-বাগানের শ্রমিকনেতারা। এরপর ধর্মঘট স্থগিতের কথা জানিয়েছিলেন চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা। কিন্তু এ সিদ্ধান্তের কিছুক্ষণ পরই মত পরিবর্তন করেন তিনি। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ওই শ্রমিকনেতা। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে সিলেট ভ্যালির শ্রমিকেরাও আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

Share





Related News

Comments are Closed