Main Menu

চা শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার নয়, প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক পর্যন্ত স্থগিত

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করিনি। প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক পর্যন্ত স্থগিত করেছি। প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর থেকে ফিরে আমাদের সাথে বসবেন বলে জানিয়েছেন। তার সম্মানে আমরা ততদিন পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমানের সাথে বৈঠক শেষে এমনটি জানিয়েছেন চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা।

দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির দাবি চা শ্রমিকদের চলমান ধর্মঘট প্রত্যাহার নিয়ে বিভক্তির প্রেক্ষিতে শনিবার (২০ আগস্ট) রাতে সিলেট ভ্যালির শ্রমিক নেতাদের নিয়ে আবারও বৈঠকে বসেন জেলা প্রশাসক।

বৈঠক শেষে রাজু গোয়ালা বলেন, আমাদের মজুরি মাত্র ২৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে আমরা কেউই সন্তুষ্ট না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যেহেতু আশ্বাস দিয়েছেন, ভারত থেকে ফিরে আগামী মাসে আমাদের সাথে বসবেন। আমাদের দাবি দাওয়া শুনবেন তাই আমরা তার প্রতি সম্মান জানিয়ে ধর্মঘট আপাতত স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করি, প্রধানমন্ত্র্রী আমাদের দাবি দাওয়া শুনে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।

রাজু বলেন, সারাদেশের কথা জানি না। তবে আমাদের সিলেট ভ্যালির ২৩ বাগানের শ্রমিকরা আন্দোলন স্থগিত করতে সম্মত হয়েছি। এখন আমরা আবার সব বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সাথে বসবো।

রোববার (২১ আগস্ট) থেকে শ্রমিকরা যথারীতি কাজে যোগ দেবে বলে জানান রাজু।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমানও জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সম্মান দেখিয়ে রোববার থেকে চা শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে সম্মত হয়েছেন।

বৈঠকে সিলেটের স্থানীয় সরকার উপপরিচালক মো: মামুনুর রশীদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: আনোয়ার সাদাত, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজমেরী হক ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে সিলেটের তারাপুর চা বাগানের ব্যাবস্থাপক রিংকু চক্রবর্তী জানান, আমরা জেলা প্রশাসকের বৈঠকে উপস্থিত হয়েছি। চলমান সঙ্কট নিরসন হয়েছে। রোববার চা শ্রমিকেরা কাজে যোগদান করবে। আপাতত ১৪৫ টাকা মজুরী দেয়া হবে। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে করণীয় ঠিক করা হবে।

দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা উন্নীতের দাবিতে গত ১৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন চা শ্রমিকরা। ধর্মঘটের ৮ দিনের মাথায় শনিবার দুপুরে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের কার্যালয়ে শ্রম অধিপ্তর ও সরকারের প্রতিনিধির সাথে বৈঠকে বসেন চা শ্রমিক নেতারা।

বৈঠকে শ্রমিকদের মজুরী ২৫ টাকা বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিকদের সাথে বৈঠক করবেন বলে জানানো হয়। এমন আশ্বাসের পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দেয়ার কথা জানান শ্রমিক নেতারা।

বৈঠকের পর বিকেলে চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করছি। আমাদের মজুরি ২৫ টাকা বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর থেকে এসে আমাদের সাথে বসবেন বলে জানিয়েছেন। সেখানে আমাদের দাবিদাওয়া তাকে জানানো হবে। তাই তার আশ্বাসে আমরা আপাতত ধর্মঘট প্রত্যাহার করছি। রোববার থেকে সব শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবে।

এদিকে, নেতাদের এই সিদ্ধান্তের পর শ্রম দপ্তরের সামনেই বিক্ষোভ শুরু করেন সাধারণ শ্রমিকরা। তারা ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ারও কথা জানান তারা।

বিকেলে সিলেটে জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠকের পরও শ্রমিকদের একটি অংশ সমঝোতা না মেনে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। সন্ধ্যায় তারা নগরে বিক্ষোভ মিছিলও করে। মিছিলে নেতাদের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে শ্রমিকরা দাবি আদায়ে ধর্মঘট অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

আন্দোলন নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে এমন বিভক্তির পর রাতে আবারও শ্রমিক নেতাদের সাথে বৈঠকে বসেছেন জেলা প্রশাসক। বৈঠকে সিলেটের সবগুলো বাগানের পঞ্চায়েত নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তবে মাত্র ২৫ টাকা মজুরি বাড়ানোতে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ জানিয়ে চা শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সভাপতি রিতেশ মোদী বলেন, শ্রমিকরা এই সমঝোতা মানে না। তারা আন্দোলন চালিয়ে যেতে চায়। রোববার থেকে তারা কাজে যোগ দেবে কি না তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

Share





Related News

Comments are Closed