Main Menu

সিলেটের ধোপাদীঘিতে নির্মিত নান্দনিক ওয়াকওয়ে’র উদ্বোধন

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে ‘বিউটিফিকেশন অব ধোপাদিঘি’ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১১জুন) সকালে ‘বিউটিফিকেশন অব ধোপাদিঘি’ উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো.তাজুল ইসলাম এমপি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এমপি, ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

জানা যায়, একসময় সিলেট পুরনো কারাগারের পাশের দীঘিটিতে স্থানীয় ধোপারা কাপড় ধৌত করতেন। এ থেকেই দীঘিটির নাম ধোপাদিঘী আর এলাকার নাম হয় ধোপাদিঘীরপাড়। একপর্যায়ে দীঘির পাড় দখল করে প্রভাবশালীরা নির্মাণ করে স্থাপনা। নগরের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ এই দীঘিটি সংরক্ষণ ও সৌন্দর্য্যবর্ধনের লক্ষ্যে ভারত সরকারের অর্থায়নে ‘বিউটিফিকেশন অব ধোপাদিঘী’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। প্রকল্পের অধীনে দিঘী খনন, চারপাশে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ, রেলিং ও লাইটপোস্ট বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়।

প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ২০১৮ সালের শেষদিকে ধোপাদীঘি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালায় সিটি করপোরেশন। ২০২০ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারনে কাজে ধীরগতি দেখা দেয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুরোদমে শুরু হয় প্রকল্পের কাজ। প্রকল্পে ভারত সরকার ২১ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থায়ন করে।

ধোপাদিঘীর পাড়ের সৌন্দর্য্যবর্ধনের জন্য গ্রহণ করা হয় ‘ধোপাদিঘী এরিয়া ফর বেটার এনভায়মেন্ট এন্ড বিউটিফিকেশন’ প্রকল্প। প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে ‘ডালি কনস্ট্রাকশন’ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে শতভাগ কাজ শেষ করে প্রতিষ্ঠানটি। দীঘির চারদিকে নির্মাণ করা হয়েছে ওয়াকওয়ে। দর্শনার্থীদের বসার জন্য স্থাপন করা হয়েছে বেঞ্চ। পুকুরে নামার জন্য বসানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ঘাট। পুকুরের নোংরা পানি পরিষ্কার করা হয়েছে। বৃক্ষপ্রেমীদের পরামর্শে সবুজ বৃক্ষ লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওয়াকওয়ে ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে একাধিক টয়লেট। এসব টয়লেট ও বর্জ্যের ব্যবস্থাপনার জন্য রয়েছে আলাদা পাইপলাইন। নির্মিত টয়লেটের পাইপলাইনের সংযোগ পুকুর থেকে আলাদা রাখা হয়েছে। পুকুরপাড়ে সিটি কর্পোরেশন নির্মিত মসজিদের উত্তর পাশে রাখা হয়েছে প্রবেশ পথ। লোকজনের হাটাচলার জন্য নিরাপদ স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে ওয়াকওয়েটি। দিঘীর চারদিকের ওয়াকওয়েতে রয়েছে আলোকসজ্জা। সবমিলিয়ে ধোপাদিঘীর পাড়ে একটি নান্দনিক ওয়াকওয়ে গড়ে উঠেছে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, পরিবেশবাদীদের দাবী ছিল এখানে রেষ্টুরেন্ট না করতে। আমরা সেটা করিনি। পুকুরের তলদেশও পাকা করিনি। পরিত্যক্ত একটা পুকুরকে সুন্দর রুপ দিয়েছি। রক্ষণাবেক্ষনের স্বার্থেই ধোপাদিঘীর পাড় ওয়াকওয়ে লিজ দেয়া হতে পারে। লিজ দেয়া না হলে এর সৌন্দর্য্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

 

Share





Related News

Comments are Closed