Main Menu

বিশ্বনাথে জোড়া খুনের মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনের সাজা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সিঙ্গেরকাছ বাজারে পূর্ব বিরোধের জের ধরে ২০১২ সালের ৮ অক্টোবর দু’পক্ষের সংঘর্ষে গুলি ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন সিঙ্গেরকাছ গ্রামের আব্দুর নূর ও আব্দুল খালিক। ওই ঘটনায় নিহত আব্দুল খালিকের পুত্র নূর উদ্দিন বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের ৪৩ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন (বিশ্বনাথ জিআর মামলা নং ১৭৪/২০১২ইং)।

অপর দিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় প্রতিপক্ষের আজমান আলী বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেন (বিশ্বনাথ জিআর মামলা নং ১৭৮/২০১২ইং)। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর মামলা বিচারাধীন থানার পর বৃহস্পতিবার (৯ জুন) সিলেটের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মো. ইব্রাহিম আলী দুটি মামলার রায় ঘোষণা করেছেন।

নিহতের ঘটনায় নূর উদ্দিন এর দায়েরকৃত মামলায় উপজেলার সিঙ্গেরকাছ গ্রামের মৃত ইন্তাজ আলীর পুত্র অভিযুক্ত আব্দুল কাদিরকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড একই গ্রামের মৃত সমুজ আলীর পুত্র আব্দুল মনাফ, তার পুত্র সুহেল ও মৃত আছদ্দর আলীর পুত্র ইলিয়াছ আলীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, দশঘর গ্রামের মৃত ওয়াছিদ উল্লাহর পুত্র ধন মিয়াকে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং সিঙ্গেরকাছ (পশ্চিমগাঁও) গ্রামের মৃত তেরাব আলীর পুত্র আব্দুল মতিন, মৃত আরব আলীর পুত্র ইসলাম উদ্দিন, মৃত ইউনুছ আলীর পুত্র আলম, ইজার আলীর পুত্র রেজাউল করিম ও ছাতক উপজেলার কাদিপুর গ্রামের গেদু মিয়ার পুত্র রুবেলকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।

অপর দিকে, আজমান আলী বাদী হয়ে দায়েরকৃত মামলায় নূর উদ্দিন পক্ষের সিঙ্গেরকাছ গ্রামের মৃত রাশিদ আলীর পুত্র সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবারক আলী ও এইক গ্রামের মৃত মদরিছ আলীর পুত্র আকবর আলীকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ের ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।

রায় ঘোষণার পর আদালত সাজাপ্রাপ্ত আসামী আব্দুল মনাফ, ধন মিয়া, আব্দুল মতিন, রুবেল, আবারক আলী ও আকবর আলীকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী আব্দুল কাদির এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামী সুহেল, ইলিয়াছ আলী, ইসলাম উদ্দিন, আলম, রেজাউল করিম পলাতক রয়েছেন।

তবে, আদালতের এ রায়ে আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম ইয়াহইয়া চৌধুরী সন্তুস্টি প্রকাশ করলেও হতবাক হয়েছেন মামলার বাদী নুর উদ্দিন এবং তার আইনজীবীরা।

এ প্রসঙ্গে নুর উদ্দিন বলেন, প্রধান আসামিসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। আইনজীবীদের মাধ্যমে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে শিঘ্রই আপিল করা হবে।

রায়ের সত্যতা জানিয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান ও অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজাল বলেন, আদালতের এই রায়ে তারা হতবাক হয়েছেন। কারণ ডবল মার্ডারের ঘটনায় একজনকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয় কোন বিধানে। সেজন্য বাদী পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলেও জানান তারা।

 

 

0Shares





Related News

Comments are Closed