২০২২-২৩ বাজেটে দাম কমবে যেসব পণ্যের
বৈমাখী নিউজ ডেস্ক: বাজেটে সবার চোখ থাকে কোন পণ্যের দাম কমল আর কোন পণ্যের দাম বাড়ল সেদিকে। বাজেট ঘোষণার ওপর বাজারের বিভিন্ন পণ্যের মূল্য ওঠা-নামা বা নতুন দাম নির্ধারণ নির্ভর করে। এবারের প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেটে জনস্বার্থে কিংবা দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় বিভিন্ন পণ্যে থাকছে শুল্ক ছাড় এবং ভ্যাট অব্যাহতি। এ কারণে কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন।
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী এ কথা জানান।
জাতীয় সংসদে স্বাধীন বাংলাদেশের ৫১তম বাজেটের মূল স্লোগান ‘কোভিডের অভিঘাত কাটিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন।’ যেখানে মূল লক্ষ্য সক্ষমতার উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক ঝুঁকি কাটিয়ে অর্থনীতির স্থিতিশীলতার সঙ্গে জনজীবনে স্বস্তি ফেরানো।
২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে বিভিন্ন সুবিধা দিচ্ছে সরকার, পাশাপাশি বৈদেশিক মূদ্রা সুরক্ষায় বিলাসবহুল পণ্যে আমদানি নিরুৎসাহিত করছে।
দাম কমবে যেসব পণ্যের
বাজেটে জুয়েলারি শিল্পের প্রসারে স্বর্ণ আমদানিতে অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে স্বর্ণাংলাকার আগের চেয়ে তুলনামূলক কম দামে মিলতে পারে।
শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের শ্রবণ সহায়ক যন্ত্রের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে কম বাজারে ওই শ্রবণ যন্ত্র পাওয়া যেতে পারে।
হুইল চেয়ারে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ১০ শতাংশ অগ্রিম কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এতে কমতে পারের হুইল চেয়ারের দাম।
এছাড়া শুল্ক কমানোর প্রস্তাবে দাম কমতে পারে পানির ফিল্টার, বিমানের জন্য ব্যবহৃত টায়ার, কাজু-বাদাম ও পেস্তা বাদামের।
‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করা হয়েছে। নতুন এ বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এতে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশে রাখার কথা বলা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় ৭৪ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা বেশি। আর সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৮৪ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা বেশি। নতুন বাজেটে সরকারের আয়ের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা হতে যাচ্ছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। অনুদান ছাড়া ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। আর অনুদানসহ ঘাটতি ২ লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা।
আয়ের লক্ষ্যমাত্রা চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের তুলনায় ৪৪ হাজার ৭৯ কোটি টাকা বেশি। কর বাবদ ৩ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা আয় করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। নতুন অর্থবছরে এনবিআরকে আগের বছরের তুলনায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দিচ্ছে সরকার। এনবিআর বহির্ভূত কর থেকে আয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। আর কর ছাড়া আয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। বৈদেশিক অনুদান থেকে আয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৭১ কোটি টাকা।
Related News
১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক, ব্যবহার ও কি সুবিধা?
Manual3 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।Read More
দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
Manual2 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কয়েক দফা কমানোর পর দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দামRead More



Comments are Closed