Main Menu

স্থানীয়দের সাথে ইবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ২০

Manual4 Ad Code

শাহাব উদ্দীন ওয়াসিম, ইবি প্রতিনিধি: স্থানীয়দের সাথে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী শেখপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

Manual2 Ad Code

স্থানীয়দের অভিযোগ মদ্যপ কিছু শিক্ষার্থী তাদের উপর হামলা করে তাদের দোকান ভাংচুর করেছে। পরে স্থানীয়দেরকে মাইকিং করে ছাত্রদের মারার হুমকি দিতে দেখা যায়।

Manual1 Ad Code

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্থানীয়দের সাথে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন বলেও জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের উদ্দ্যেশে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা কুষ্টিয়াগামী গড়াই বাসে উঠেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চার জন শিক্ষার্থী। বাসে জিনিসপত্র রাখা নিয়ে কন্ডাক্টরের সঙ্গে তাদের বাকবিতন্ডা হয়। এসময় কন্ডাক্টর তাদের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। বাসটি ক্যাম্পাস সংলগ্ন শেখপাড়া বাজারে পৌঁছলে শিক্ষার্থীদের বাস থেকে জোর করে নামিয়ে দেয়া হয়। সেখানে ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হয়ে কন্ডাক্টরকে ধাওয়া করলে দৌড়ে পাশের দোকানে ঢুকে পড়েন। তাকে দোকান থেকে বের করতে গেলে দোকানদারের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় শিক্ষার্থীদের। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে কয়েকজন ওই দোকানদারদের ধাক্কা দেন। এসময় দোকানী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে উভয় পক্ষের ২০জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয়রা হকিস্টিক, লাঠি, চাপাতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেন। এসময় ক্যাম্পাসের আবাসিক হল থেকে ছাত্ররা বের হয়ে আসে এবং স্লোগান দিতে থাকে। অন্যদিকে শেখপাড়া বাজারেই স্থানীদেরকে দেশীয় অস্ত্রসহ অবস্থান নিতে দেখা যায়। এসময় তারা মাইকে ছাত্রদের হুমকি দিতে থাকেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে স্থানীয় ও শিক্ষার্থী উভয়ের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়েছে বলেও জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাসের কন্ডাক্টরকে ঠেকাতে গেলে শিক্ষার্থীরা আমাদের উপর চড়াও হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েকজন ছিলো মাদকসেবী ও মানসিক ভারসাম্যহীন। তারা না বুঝেই অতর্কিতভাবে আমাদের উপর হামলা ও কয়েকটা দোকানে ভাঙচুর করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষকদের দাবি আবাসিক হলগুলোতে মাদকের আড্ডা বেড়ে গেছে। এগুলোর লাগাম টেনে না ধরলে এ ধরণের ঘটনা আরও বড় পর্যায়ে যেতে পারে। এছাড়াও মাদকের কারণেই ক্যাম্পাসে সিনিয়র জুনিয়র সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলশ্রুতিতে প্রায়ই জুনিয়র কর্তৃক সিনিয়ররা লাঞ্ছিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রক্টরিয়াল বডির তৎপরতা বাড়ানো উচিত বলেও মনে করেন তারা।

Manual3 Ad Code

ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শফিকুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন এবং শাহাবুব আলম উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে রাত ১২টার দিকে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনায় বসেন প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। এসময় যাদের দোকানে ভাঙচুর হয় তাদের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেয় প্রক্টরিয়াল বডি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা রাতেই প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। ভিসি স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক পুনরায় স্থানীয়দের সঙ্গে বসে আলোচনা করা হবে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে আমরা চেষ্টা করবো।

Manual3 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code