Main Menu

ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে পৌছলো জ্বালানী তেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার স্পর্শ করেছে। এ অস্থিতিশীলতার পেছনে দায়ী করা হচ্ছে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে। বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন জ্বালানি ব্যবসায়ীরা। এ কারণে রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি বড় রকমের প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়েছে। শীর্ষ উৎপাদক দেশটির রফতানি ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি পণ্যটির সরবরাহ সংকট আরো তীব্র হয়ে ওঠার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (৪ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ কয়েক বছরের সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। এ কারণে পণ্যটির মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিমূল্য বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার ৮৪ সেন্টে স্থির হয়েছে। সে হিসেবে বাজার আদর্শটির মূল্য ৯ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।

রাশিয়ার জ্বালানি তেল পরিশোধন খাতকে লক্ষ্য করে পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞার পর এমন মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। রাশিয়ার জ্বালানি রফতানি খাতও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাশিয়া বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিকারক ও পরিশোধকের মুকুট সৌদি আরব থেকে ছিনিয়ে নিতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। দেশটি প্রতিদিন ৭০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল বিশ্ববাজারে রফতানি করে। এর মধ্যে অর্ধেকই সরবরাহ করা হয় ইউরোপের বাজারে।

কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলোর একের পর এক নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার জ্বালানি খাতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন এখনো দেশটির তেল-গ্যাস রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। কারণ এ খাতে নিষেধাজ্ঞা দিলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা প্রকট আকার ধারণ করবে।

তবে রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা না পড়লেও ঝুঁকি এড়াতে রুশ জ্বালানি পণ্য কেনা বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বুধবার পর্যন্ত রুশ জ্বালানি তেলের অন্তত ১০টি ট্যাংকার ক্রেতা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছে।

রেইস্ট্যাড এনার্জির সিইও জেরান্ড রেইস্ট্যাড বলেন, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পরোক্ষ প্রভাব পড়বে রাশিয়ার জ্বালানি তেল রফতানিতে। এ কারণে আমরা মনে করছি রফতানি দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল কমতে পারে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরো বাড়বে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ব্যারেলপ্রতি ১৩০ ডলার ছাড়াতে পারে পণ্যটির বাজারদর।

এদিকে গত মাসেও সীমিত আকারেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন নীতিতে অটল ওপেক প্লাস। মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয় জোটটি। জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোটটি তাদের বিদ্যমান লক্ষ্য অর্জনে নিয়মিতভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। এছাড়া সীমিত উত্তোলনের কারণে শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশগুলোয়ও সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছে না। এ বিষয়ও দাম বাড়াতে সহায়তা করছে।

ওপেকের মিত্র দেশগুলো নিয়ে গঠিত জোটটি ওপেক প্লাস নামে পরিচিত। বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সরবরাহের ৪০ শতাংশই উত্তোলন করে রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন এ জোট। মহামারীর কারণে সৃষ্ট সরবরাহ সংকট কাটাতে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও বেশ কয়েকটি দেশ জোটটিকে উত্তোলন বাড়ানোর আহ্বান জানায়। কিন্তু আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে বিদ্যমান নীতিতেই অটল জোটটি।

বর্তমানে ওপেক প্লাস প্রতি মাসে দৈনিক চার লাখ ব্যারেল উত্তোলন বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে। জোটটি দাম বাড়ার পেছনে ব্যবহারকারী দেশগুলোকে দায়ী করছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে স্থানান্তরের কারণে শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশগুলো জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed