জেনে-বুঝে কেয়ার ওয়ার্কার ভিসার জন্য আবেদনের পরামর্শ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ঢাকায় নিযুক্ত বৃটিশ হাই কমিশনার রবার্ট সি. ডিকসন জেনে-বুঝে কেয়ার ওয়ার্কার ভিসার জন্য আবেদনের পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বৃটেনে স্বাস্থ্যখাতে কর্মী সংকট রয়েছে। কেয়ার ওয়ার্কার ভিসার ক্ষেত্রে কারা আবেদন করতে পারবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বৃটিশ হ্ইাকমিশনের ওয়েবসাইটে রয়েছে। এজন্য জেনে বুঝে এ ভিসার জন্য আবেদন করা প্রয়োজন। কোন এজেন্সি যাতে এ ভিসা নিয়ে প্রতারণা করতে না পারে, সে বিষযে সতর্কভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে প্রার্থীকেই। একইভাবে, স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রেও জেনে ও বুঝে আবেদন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন বৃটিশ হাই কমিশনার।
বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রয়ারী) বিকেলে সিলেট স্টেশন ক্লাব লিমিটেড-এ সিলেটের বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান বৃটিশ হাইকমিশনার। প্রায় দেড় ঘন্টা ব্যাপী এই মতবিনিময় সভায় বৃটিশ হাই কমিশনার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের খোলা মেলা উত্তর দেন এবং বৃটেন ও বাংলাদেশের দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করতে দু‘দেশের সরকারী ও বেসরকারী তরফে গৃহিত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। সভায় ঢাকাস্থ বৃটিশ হাই কমিশনের গর্ভানেন্স পলিটিক্যাল টিমের প্রধান টম বুর্গ, প্রেস এন্ড কমিউনিকেশন্স অফিসার নারায়ন দেবনাথ, ক্যাম্পেইন এন্ড পার্টনারশীপ অফিসার আহসান সাজিদ, সিলেট কনস্যুলেট অফিসার রাহিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
বৃটিশ হাই কমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও বৃটেনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সিলেটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ বৃটিশ বাংলাদেশী স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, যার ৯০ ভাগেরই আদি নিবাস সিলেট। সিলেট-ই বাংলাদেশের একমাত্র শহর যার সাথে আকাশ পথে সরাসরি বৃটেনের যোগাযোগ রয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বৃটিশ-বাংলাদেশীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্যে প্রবাসীরা অনেক পরিশ্রম করেন। সেখানকার খাদ্য সেক্টরে তাদের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৃটিশ-বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার ক্ষেত্রেও বিপুল সাফল্য অর্জন করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জগন্নাথপুরের শাহারপাড়ায় বৃটিশ-বাংলাদেশী আব্দুল ওহাব কামালীর উদ্যোগে ‘গ্রাম জিপি’ এবং বিয়ানীবাজারে ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠানর কথাও উল্লেখ করেন। বাংলাদেশীদের সাফল্যের বর্ণনা দিতে দিয়ে তিনি বৃটিশ হাউজ অব কমন্সে চারজন বাংলাদেশী এমপি’র প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের শিক্ষাদান পদ্ধতি বিশ্বমানের। বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা সেই সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই।
বৃটিশ হাই কমিশনার রবার্ট ডিকসন আরো বলেন, গত ৪ ফেব্রুয়ারী বৃটেন ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে। এই ৫০ বছরে বৃটেন ও বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হয়েছে। দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্কে জড়িয়ে আছে, যা দিনে দিনে আরো সুদৃঢ় হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার অর্ধ শত বর্ষপূর্তি এবং বৃটেন ও বাংলাদেশের কুটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকীকে স্মরণীয় করতে ‘বৃট-বাংলা বন্ধন‘ নামে বছর ব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে বৃটেনের সরকার ও জনগণ এবং সেখানকার বসবাসকারী বৃটিশ-বাংলাদেশীরা বাংলাদেশের পক্ষে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখেন। তাদের ভূমিকার কারণে বাংলাদেশের পক্ষে বিশ^ জনমত গঠন করা হয়েছিল। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমেই লন্ডন সফর করেন, সেখানে সংবাদ সম্মেলন করেন ও বৃটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অ্যাডওয়ার্থ হিথের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করেছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উত্তীর্ণ হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনেতিক প্রবৃদ্ধি ৮ থেকে ৮ শতাংশ। পরিবার পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, শিশু মৃত্যুরোধ, পুষ্টিখাতসহ সকল খাতেই বাংলাদেশের অগ্রগতি ঈর্ষণীয়। ২০২৬ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে। বাংলাদেশের এই অগ্রগতি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
তিনি জানান, বৃটেনের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা বহাল আছে। বাংলাদেশের তৈরী পোষাকের তৃতীয় বৃহৎ বাজার হচ্ছে বৃটেন। বৃটেনের ভোক্তারা এর সুবিধা ভোগ করছেন। বৃটেনও বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী এবং তৃতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগ কর পরিশোধকারী।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের ব্যাপক আগ্রহের বিষয়টি উল্লেখ করে বৃটিশ হাই কমিশনার বলেন, বৃটেনের কমপক্ষে ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে তাদের ক্যাম্পাস চালু করার আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। ২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের কয়েকজন সদস্য যুক্তরাজ্য সফর কালে বিষয়টি তাদের কাছে উপস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশের বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চাওয়া হয়। কিন্তু, এখন পর্যন্ত এ বিষযে কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। তিনি জানান, ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া তাদের বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের ৫টি শাখা চালু হয়েছে শ্রীলঙ্কায় একাধিক বৃটিশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা রয়েছে। অনুমতি পেলে বাংলাদেশেও এটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বৃটিশ হাই কমিশনার বলেন, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হলে এখানে বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে একটি সুসংহত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। আর এ কারণে ২০২৩ সালের নির্বাচনটি যাতে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন কিভাবে হবে, তা বাংলাদেশের জনগণ নির্ধাণ করবে, এক্ষেত্রে বিদেশী শক্তির বলার কিছু নেই। তবে, বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী বিশ্ব শক্তিগুলো বাংলাদেশের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
রোহিঙ্গা ইস্যুকে ‘একটি ট্রাজিক ইস্যু’ উল্লেখ করে বৃটিশ হাইকশিনার বলেন, তাদেরকে নিরাপদে, সম্মানজনক উপায়ে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে। ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে স্থান দেয়া বাংলাদেশের একটি বিশাল উদারতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে বিশ্ব জনমত গঠনে তারা কাজ করছেন। বিষয়টি জাতীয় সংঘ নিরাপত্তা পরিষদ পর্যন্ত গড়িয়েছে। তিনি বলেন, আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে এই সমস্যা সমাধানের পক্ষে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি করা গেলে রোহিঙ্গাদেরকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে।
Related News
সিলেটে শ্রীমৎ রাধারমণ গোস্বামীর ৫৬তম তিরোধান উৎসব উদযাপিত
Manual2 Ad Code ডেস্ক রিপোর্ট: ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সিলেটে সিদ্ধ মহাত্মাRead More
শহীদ ওয়াসিম ও মোস্তাকের কবর জিয়ারতে সিলেট মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ
Manual2 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্র ঘোষিত মাসব্যাপীRead More



Comments are Closed