নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম কমানোর দাবি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসির) সভাপতি সহিদুল্লাহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান এক বিবৃতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দাম কমানোর জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন। একইসাথে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারসাজিতে জড়িত সিন্ডিকেটের মূল উৎপাটন এবং গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির অপচেষ্টা থেকে সরে আসার জন্যও জোড়ালো দাবী জানিয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন চাল, ডাল, তেল, আটা, চিনিসহ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে সাম্প্রতিক কালে তা সাধারন মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে। এতে নিম্নআয়ের মানুষের জীবন রীতিমতো দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। কয়েকমাস আগে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি করে সকল ধরনের পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষকে। সম্প্রতি নতুন করে গ্যাসের দাম বর্তমানের চেয়ে দিগুণ এরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি ও রেগুলেটরি কমিশন।
মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে যেখানে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত, কলকারখানা বন্ধ হয়ে যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ কর্মহীন ও বেকার, দ্রব্যমূল্যের ক্রমবর্ধমান উর্ধগতিতে যেখানে নিম্নআয়ের মানুষ দিশেহারা, তখন সরকারি সংস্থার এহেন অযৌক্তিক ও অবিবেচনাপ্রসূত প্রস্তাবের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বর্তমানে দেশের নিম্নআয়ের মানুষের দুর্বিসহ অবস্থায় দিনাতিপাত করছে সেখানে এহেন অবিবেচক সিদ্ধান্ত নেয়া হলে শ্রমিক কর্মচারীসহ সাধারণ মানুষকে আরো দুর্বসহ অবস্থার দিকে ঠেলে দেয়া হবে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে দেশ ও দেশের অধিকাংশ মানুষের স্বর্থবিরোধী গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করার প্রস্তাব প্রত্যাহার করার জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধির ফলে একদিকে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী আর্থিকভাবে দৈন্যদশার মধ্যে নিপতিত হচ্ছে, অন্যদিকে গুটিকয়েক মুনাফাখোর মানুষ রাতারাতি বিপুল সম্পদের মালিক হচ্ছে। আমাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আয় সীমিত। খেটে খাওয়া এ সব মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে তার আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সঙ্গতি রাখতে পারছে না। শ্রমজীবী মেহনতি মানুষ এমনিতে নানারকম সমস্যায় জর্জরিত, তার ওপর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি তাদের জন্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু নিম্ন আয়ের মানুষ নয়, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত সবার জীবনেই নেমে এসেছে চরম হতাশা। শ্রমজীবী মানুষকে তাদের সীমিত আয়ে কোনোমতে জীবন বাঁচাতে যখন হিমশিম খেতে হচ্ছে তখন যদি কারণে—অকারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্যের মূল্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায় তাহলে মানুষের দুর্দশা সত্যি অবর্ণনীয় হয়ে দাঁড়ায়।
গত কয়েক বছরে বিভিন্ন প্রকার খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে ক্ষেত্রবিশেষে তিনগুণ পর্যন্ত। সেই তুলনায় মানুষের আয় বৃদ্ধি পায়নি। ফলে অনেকেই ধার করে কিংবা অতীত সঞ্চয় নিঃশেষ করে কোনোমতে বেঁচে থাকার চেষ্টা চালাচ্ছে। এদিকে পাইকারি ও খুচরা বাজারে পণ্যমূল্যের পার্থক্য উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক বাজারে যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কম, তখন বাংলাদেশে তা হুহু করে বাড়ে কেন? সংবাদ তথ্য বলছে, বিশেষ সিন্ডিকেটের মধ্যমে মজুতদারি কিছু লোক জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে নিজেরা হাজার হাজার কোটি টাকার মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে দুর্যোগ পোহাতে হচ্ছে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর। কাজেই সিন্ডিকেটের চক্র ভেঙে দিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
Related News
মার্কিন ভিসার শর্ত ভাঙলেই স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ভিসায় অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে ভবিষ্যতে দেশটিতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ীRead More
গাজীপুরে ট্রাক চাপায় দুইভাইসহ নিহত ৩, আহত ৩
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গাজীপুরে ট্রাক চাপায় দুই ভাইসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিনজন।Read More



Comments are Closed