Main Menu

ছাতকে শিক্ষার্থীকে পেটানো মাদ্রাসা সুপার আটক

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের ছাতকে তিন এতিম শিশুকে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগে মাদ্রাসা সুপারকে আটক করেছে পুলিশ। উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট থেকে বুধবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরের দিকে মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল মুকিত (৪০)কে আটক করা হয়।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। মুকিত হাজী ইউসুফ আলী এতিমখানা হাফিজিয়া মাদ্রাসার সুপার এবং উপ‌জেলার ইসলামপুর ইউপির রহমতপুর গ্রা‌মের আব্দুল গ‌নির পুত্র।

হাজী ইউসুফ আলী এতিমখানা হাফিজিয়া মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল মুকিত গত বছরের ২০ ডিসেম্বর এতিমখানার তিন শিশুকে বেধড়ক মারধর করেন। চলতি বছরের ৫ ডিসেম্বর ওই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর মাদ্রাসা সুপার আব্দুল মুকিতকে অব্যাহতি দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

নির্যাতিত শিশুরা হ‌লো উপ‌জেলার কালারুকা ইউ‌পির করছখালী গ্রা‌মে মৃত ইদ্রিছ আলীর পুত্র মাদ্রাসার ৩য় শ্রেনীর শিশু ছাত্র আবু তাহের (৯), গো‌বিন্দগঞ্জ সৈ‌দের গাও ইউ‌পির দিঘলী চাকলপাড়া গ্রা‌মের মৃত হাফিজুল ইসলাম মামুনের পুত্র রবিউল ইসলাম নিলয় (১০), জাউয়াবাজার ইউ‌পির গনিপুর গ্রা‌মের কাজী শওকতুর রহমানের পুত্র কাজী শফিউর রহমান শাফি (১১)।

জানা যায়, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কয়েক মাস আগের। নির্যাতনের ঘটনাটি মাদরাসার অন্য কোনো শিক্ষক গোপনে ধারণ করে। এ নিয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বলছে, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় আমরা সেই নির্যাতনকারী শিক্ষক এবং যে ভিডিও ধারণ করেছিল তাকেও অব্যাহতি দিয়েছি।

দুই মিনিট দুই সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, পাজামা-পাঞ্জাবি পড়া তিন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে আছে। ওই মাদরাসা শিক্ষক তাদের মধ্যে এক শিশুর দুই হাতে বেত দিয়ে আঘাত করছেন। ভিডিওতে আরো ও দেখা যায়, শিক্ষকের পিটুনি খেয়ে শিশুটি উচ্চকণ্ঠে হুজুর আর ইতা করতাম না হুজুর, আর ইতা করতাম না বলে চেঁচিয়ে কাঁদছে। তবে এর পরেও শিশুটির শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বেত দিয়ে আঘাত করতে থাকেন ওই শিক্ষক। এক পর্যায়ে শিশুটি ওই শিক্ষকের পায়ে ধরে‌ছে। পরে স্টিলের স্কেল দিয়ে ওই শিক্ষক তা‌কে দফায় দফায় মারতে থাকে। তার আগে আরও দুই শিশু শফিউর ও নিলয়কেও পেটানো হয়।

গ্রেফতার মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল মুকিত জানান, তিন জন ছাত্র বিছানায় একা‌ধিকবার প্রস্রাব করার অপরাধে গত ২০২০ সা‌লে ২০‌ ডি‌সেম্বর সকা‌লে এ ঘটনা ঘ‌টে। মাদ্রাসার শিক্ষকদের রুমে অত্র মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক মাওলানা জুবায়ের আহমদ সানি, মোঃ আবু বক্কর এবং মাদ্রাসার হাফিজি শিক্ষক মিছবাহ উদ্দিনদের উপস্থিতিতে এই ৩ ছাত্রকে শারীরিক ভাবে বেধরক মারধর করা হয়।

এ ঘটনাটি একই মাদ্রাসার হাফিজি শিক্ষক মিছবাহ উদ্দিন তার ব‌্যক্তিগত মোবাইল দি‌য়ে ধারণ করে রেখে দেন। মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল মুকিত ও রেকর্ডকৃত ভিডিও ধারণকারী হাফিজি শিক্ষক মিছবাহ উদ্দিনের মধ্যে এ ঘটনা নি‌য়ে বিরোধ দেখা দেয়। প‌রে হাফিজি শিক্ষক মিছবাহ উদ্দিন মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল মুকিতকে ফাঁসা‌নোর প‌রিকল্পনা নি‌য়ে দীর্ঘ প্রায় এক বছর পর শিক্ষক মিছবাহ উদ্দিন তার পরিচিত Saymon Anwar এর ফেইসবুক আইডির মাধ্যমে মাদ্রসার সুপার কর্তৃক মারধরের ভিডিও গত ৫ ন‌ভেম্বর ফেইসবুকে আপলোড করেন। এ মারধরের ঘটনার ভিডিওটি ফেইসবুক সহ বিভিন্ন ইলেক্টনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়া ব্যাপক ভাবে প্রচার ও ভাইরাল হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হ‌য়।

কালারুকা ইউ‌পির রামপুর গ্রা‌মে লন্ডন প্রবা‌সি‌দের উ‌দ্দ্যো‌গে হাজী ইউসুফ আলী এতিমখানায় হাফিজিয়া দাখিল মাদরাসার মোহতামিম (অধ্যক্ষ) হিসেবে মো.আব্দুল মুকিত কয়েক বছর আগে নিয়োগ পান।

এব‌্যাপা‌রে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মো. কমর উদ্দিন জানান, ঘটনাটি বেশ আগে ঘ‌টে‌ছে। এ ঘটনায় নির্যাতনকারী শিক্ষকসহ ভিডিও ধারণকারী শিক্ষকও জড়িত। দু’জনের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়ায় ভিডিওটি ভাইরাল হয়। তাই আমরা দুজনকেই চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছি।

এব‌্যাপা‌রে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. গোলাম রসুল জানান, মাওলানা আব্দুল মুকিতকে মাদরাসা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিন শিশুকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, তাকে আমরা আটক করে থানায় এনেছি। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share





Related News

Comments are Closed