Main Menu

শাহ আরেফিন টিলা থেকে ২৫১ কোটি টাকার পাথর লুট, দুদকের মামলা

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরপিন টিলার ইজারাদার মোহাম্মদ আলীর (৪০) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কাঠালবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।

বুধবার (১৩ অক্টোবর) রাতে দুদক সিলেটের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

শাহ আরেফিন টিলা থেকে ২৫১ কোটি ৫২ লাখ টাকা মূল্যের ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫০ ঘনফুট পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন করে আত্মসাতের দায়ে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে মর্মে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চিকাঢুরা মৌজার শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলনের পর আত্মসাত করা হয়েছে। ইজারাদার মোহাম্মদ আলী মেসার্স বশির কোম্পানীর নামে ১৩টি শর্তে ২০০৫ সালের ৫ এপ্রিল থেকে কোয়ারিটি এক বছরের জন্য লিজ নেন। কিন্তু, ইজারাদাতা খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তিনি সেখানে পাথর উত্তোলন অব্যাহত রাখেন।

এজাহারে বলা হয়, ইজারা গ্রহিতা হিসেবে সর্বপ্রথম পাথর মহাল হিসেবে সাধারণ পাথর উত্তোলনের জন্য ২৫ হেক্টর তথা ৬১ একর জায়গা ইজারা মঞ্জুরি নিলেও মোহাম্মদ আলী খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ১৩৭.৫০ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত সম্পূর্ণ টিলা থেকে পাথর উত্তোলন করেন। এ কারণে দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ১৩৭ দশমিক ৫০ একর আয়তনের শাহ আরেফিন টিলার নিচে রয়েছে বড় বড় পাথর খন্ড। এসব পাথর উত্তোলন করতে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে সরকারি খাস খতিয়ানের বিশাল এই টিলা। লালচে, বাদামি ও আঠালো মাটির এই টিলার পুরোটা খুঁড়ে তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য গর্তের। ফলে টিলার অস্থিত্বই এখন সঙ্কটে।

টিলার মাটি কেটে গর্ত খুঁড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে প্রায়ই মাটি ধসে এখানে শ্রমিকের মৃত্যু হয়। গত পাঁচ বছরে এই টিলা ধসে অন্তত ২৫ জন পাথর শ্রমিক মারা গেছেন।

শাহ আরেফিন টিলা ধ্বংস করে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাথর উত্তোলনের বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে উঠে আসে গণমাধ্যমে। ২০১৬ সালে এই টিলা থেকে পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ করে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়। তবু ঠেকানো যায়নি অবৈধ পাথর উত্তোলন।

মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের সিলেট জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় মামলা করা হয়েছে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০০৪ সালের এপ্রিলে শাহ আরেফিন টিলার ৬১ একর ভূমি পাথর উত্তোলনের জন্য ১৩ শর্তে মোহাম্মদ আলীকে ইজারা দেওয়া হয়। তবে ইজারা নেওয়ার পর শর্তভঙ্গ করে পাথর উত্তোলন শুরু করেন মোহাম্মদ আলী। এতে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে টিলা থেকে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে খনিজ সম্পদ উন্নয় ব্যুরো।

তবে মোহাম্মদ আলী এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাথর উত্তোলন অব্যাহত রাখেন। এমনকি ৬১ একর ভূমি ইজারা নিলেও তিনি টিলার পুরো ১৩৭ একর জায়গা থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন শুরু করেন। পাথর উত্তোলনের পূর্বে পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা নেননি ইজারাদার।

এসব অভিযোগ এনে মামলার এজাহারে বলা হয়, সার্বিক বিচারে অবৈধভাবে ৬২ লাখ, ৮৮ হাজার ৭৫০ ঘনফুট সরকারি পাথর অভেধভাবে উত্তোলন করে ২৫১ কোটি ৫৫ লাখ ৯০ হাজার টাকার পাথর লুট করেছেন মোহাম্মদ আলী। যা দ-বিধি ৪২০/৪০৬ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এরআগে ২০১৭ সালে পাথর উত্তোলনকালে একসাথে ৫ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায়ও এই টিলায় অবৈধ কার্যক্রমের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। সেসময় জেলা প্রশাসনের তদন্তেও ইজারাদারের অনিয়মের প্রমাণ মেলে। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৬৫ একর ভূমি লিজ নিয়ে ১৩৭ একরের পুরো টিলাটি ইজারাদার ধ্বংস করে দিয়েছেন।

সিলেটের তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা হাকিম (এডিএম) আবু সাফায়াৎ মুহম্মদ শাহেদুল ইসলামকে প্রধান করে গঠিত ওই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে টিলা ধ্বংসের সাথে জড়িত ৪৭ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। টিলা কেটে পাথর উত্তোলনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শাহ আরেফিন খানকা শরীফের খাদেম এবং ইজারাদার জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে থেকে ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন বছরে শাহ আরফিন টিলায় সর্বোচ্চ ২৮ শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

Share





Related News

Comments are Closed