নৌকার মাঝি পায় ২০০, চাঁদাবাজরা ৫৫০ টাকা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও দেশের একমাত্র জলাবন রাতারগুলে পর্যটকবাহী নৌকা থেকে চাঁদা আদায় করছে একটি চক্র। চাঁদাবাজরা দরিদ্র মাঝিদের কষ্টার্জিত অর্থ কখনো পুলিশ আবার কখনো সাংবাদিক ম্যানেজের নামে আত্মসাৎ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, এক্ষেত্রে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রাণিও করছে।
রোববার (৩ অক্টোবর) বিকেল তিনটায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের রামনগর ও বাগবাড়ি গ্রামবাসীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আয়োজকরা।
গ্রামবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রশিদ বলেন, রাতারগুল ঘাটে রামনগর ও বাগবাড়ি গ্রামের ২৬ জন নৌকা চালক পর্যটকবাহী নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাদের উপর নির্যাতনের খড়গ চালিয়ে যাচ্ছিল রাতারগুল ও দেওয়ানেরগাও গ্রামের একটি চাঁদাবাজ চক্র। এই চক্রের সদস্যরা হলেন জুবায়ের আহমদ, হারিস মিয়া, আরব আলী, মিনহাজ উদ্দিন, আব্দুল কাদির, আমীর আলী প্রমুখ। তারা সরকারিভাবে নির্ধারিত নৌকার প্রতি ট্রিপ ৭৫০ টাকা হলেও নৌকার দরিদ্র মাঝিরা পান মাত্র ২০০ টাকা। বাকি ৫৫০ টাকা ওই চক্র পুলিশ ও সাংবাদিক ম্যানেজের নামে নিজেরাই আত্মসাত করে। তাদের এসব কুকর্মের প্রতিবাদ করায় রামনগর ও বাগবাড়ির নৌকার মাঝিদের এখন আর নৌকাই চালাতে দিচ্ছেনা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৪ মাস ধরে নৌকা চালাতে না পেরে ওই ২৬ নৌকার মাঝি বা চালক আমরা আয়হীন মানবেতর জীবন যাপন করছি। শুধু তাই নয়, তারা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে আমাদের অযথা হয়রানী করছে। ইতিমধ্যে তারা রামনগর ও বাগবাড়ি গ্রামের ১৪ জন দরিদ্র মানুষকে আসামী করে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাও করেছে।
মামলার আসামিরা হলেন, ফখর উদ্দিন মেম্বার, আব্দুর রশিদ, আরমান আলী, মনশাদ উদ্দিন, আব্দুল আহাদ, কামরুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ মিয়া, আব্দুল ওয়াহিদ আইযুব আলী, আব্দুল মতিন, আব্দুল মালিক, কয়ছর আহমদ, শরিফ উদ্দিন ও জুবের আহমদ। আরও মামলা এবং হামলাসহ প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে রশিদ আরও বলেন, আমরা চেয়ারম্যান মেম্বারসহ স্থানীয় গণ্যমান্যদের কাছে বিষয়টির সমাধান চেয়েও কোন সমাধান পাইনি। তারা এতই প্রভাবশালী যে পুলিশের কাছে অভিযোগ দিলেও তারা এ ব্যাপারে কোন ভূমিকা রাখেননি। আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পর্যন্ত গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিষয়টি সমাধান করতে গিয়ে তাদের খারাপ ব্যবহারের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তবু অজ্ঞাত কারণে তিনি নিরব।
সংবাদ সম্মেলনে রাতারগুলে শান্তি এবং পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরপত্তা নিশ্চিতে ৩ দফা দাবি ঘোষণা করেন চাঁদাবাজির শিকার মাঝিরা। দাবিগুলো হচ্ছে, রামনগর ও বাগবাড়ির ২৬ জন অসহায় মাঝিকে রাতারগুল ঘাটে নৌকা চালানোর সুযোগ, ফোনে নৌকার ট্রিপ বুকিং নামক প্রতারণা ও স্থায়ীভাবে চাঁদাবাজি বন্ধ, এবং ঘাটে একজন নিরপেক্ষ ম্যানেজার নিয়োগ করা। এ দাবি দাওয়া বাস্তবায়ন করতে তারা জেলা প্রশাসক, জেলার পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুল মতিন, আরমান আলী ও আব্দুল মালিকসহ ২৬জন নৌকার মাঝি।
Related News
ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরু, শেষ হবে ৩১ জুলাই
Manual2 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট জেলায় ভোটার তালিকাRead More
ফটো সাংবাদিক তুরাবের ২য় মৃত্যুবার্ষিকীতে ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের শ্রদ্ধা
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জুলাই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ফটো সাংবাদিক এটিএম তুরাবেরRead More



Comments are Closed