Main Menu

মেয়র আরিফের বক্তব্য নিয়ে যা বললো সিলেট নগর আ.লীগ

Manual4 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগ।

Manual7 Ad Code

শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন অনতিবিলম্বে তার (মেয়র আরিফ) এই বক্তব্য প্রত্যাহারের আহবান জানান।

বিবৃতিটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

বর্তমান মেয়রের সরকার ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি প্রচারিত হয়েছে যা সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

সে বক্তব্যে সিটি মেয়র অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক ভাষায় ইঙ্গিতপূর্ণভাবে আওয়ামী লীগ ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিষেদাগার করেছেন এবং সরকার বিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।

Manual8 Ad Code

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন এক যুক্ত বিবৃতিতে সিটি মেয়রের কটুভাষ্য ও শালিনতা বর্জিত বক্তব্যের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এক যুক্ত বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, “সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের কাছ থেকে সিলেটের মানুষ দায়িত্বশীল ও শিষ্টাচারযুক্ত আচরণ আশা করে। সিলেটের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিপন্থী এমন আচরণ ও ভাষা একজন জনপ্রতিনিধির নিকট থেকে নগরবাসী আশা করে না।

বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, ” আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দল এবং তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত তার সাংগঠনিক বিস্তৃতি। বাংলাদেশের জন্ম থেকে এদেশের সকল সু-মহান অর্জনের সাথে আওয়ামী লীগের নাম সম্পৃক্ত। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং সিলেটে শত শত কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের তৎপরতায় অসংখ্য প্রকল্প সিলেট সিটি কর্পোরেশনসহ সমগ্র জেলার সার্বিক উন্নয়নে বরাদ্দ হয়েছে।

Manual8 Ad Code

সরকার সিলেট নগরীকে একটি আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে যখন বদ্ধপরিকর এবং তার জন্যে প্রকল্প বরাদ্ধ দিয়ে চলেছে তখন সিটি মেয়র সরকার ও মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কৃতিত্ব আড়াল করে নিজেকে জাহির করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। আওয়ামী লীগের গণভিত্তিক রাজনীতির ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। জনগণই আওয়ামী লীগের শক্তির ভিত্তি। অতীতে আওয়ামী লীগ জনগণকে সাথে নিয়ে বিএনপি-জামাত জোটের নৈরাজ্যিক অগ্নিসন্ত্রাসকে মোকাবিলা করেছে। সিটি মেয়রের ছল চাতুরীর রাজনীতি ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের জবাব হচ্ছে আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র ও হুমকি ধামকির রাজনীতিকে ভয় পায় না”।

নেতৃদ্বয় বিবৃতিতে বলেন, ” নগর পরিচালনার ক্ষেত্রে সিটি মেয়রের একক কর্তৃত্বপরায়নতা, স্বজনপোষণ-আত্মীয়করণ, লাঠিয়াল ‘হেলমেট বাহিনী ‘লালন সহ নানাবিধ কর্মকান্ডের জন্যে জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। দুর্যোগের সময় নগরবাসীকে সেবা প্রদান ও আস্বস্থ করতে ব্যর্থতা, নগর সেবার মান না বাড়িয়েই পানির বিল বৃদ্ধিসহ নানা ধরনের আর্থিক বোঝা নগরবাসীর ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ায় মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছেন। বর্তমান সরকার যখন সিলেট সহ নগরীকে আধুনিক রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্প বরাদ্দ দিচ্ছেন তখন নগর মেয়রের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও উস্কানিমূলক বক্তব্যে সচেতন মহল তার অভিসন্ধি সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন।”

Manual8 Ad Code

মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ এ দুই নেতা বিবৃতিতে, সিটি মেয়রের বিভ্রান্তিকর অসৌজন্যমূলক কটুভাষ্যের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অনতিবিলম্বে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করার আহবান জানান। নেতৃদ্বয় আশা প্রকাশ করেন যে, তিনি ভবিষ্যতে এরকম হীন উদ্দেশ্যজাত শিষ্টাচার বহির্ভূত ভাষা ব্যবহার ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান হতে বিরত থাকবেন। অন্যথায় আওয়ামী লীগ নগরবাসীকে নিয়ে রাজনৈতিক জবাব দিতে বাধ্য হবে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার মেয়র সাহেবকেই বহন করতে হবে।

উল্লেখ্য, উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর এম সাইফুর রহমানের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে মৌলভীবাজারে এক স্মরণসভায় সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘এই (সিলেট) অঞ্চলে সাইফুর রহমানের যে স্মৃতিগুলো থেকে সাইফুর রহমানের নাম মুছে ফেলে দেয়া হয়েছে; তেমনি আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার নামও মুছে ফেলা হয়েছে। আমাদের নেতা শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলছে। কিন্তু মুছে ফেললেও মানুষের মুখ থেকে নতুন নাম কিন্তু উচ্চারণ করাতে পারছে না। মানুষ এখনো জানে সেই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সেই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, আজকে যেটা গর্ব করে বলেন—বিভাগীয় স্টেডিয়াম, যা-ই বলেন না কেন এই অঞ্চলে বলতে গেলে অনেক বলতে হবে। আমি শুধু বলবো, এদের সম্পর্কে কিছু বলে লাভ নেই। এদেরকে ধিক্কার দেয়া ছাড়া কোনো বক্তব্য আমার মুখেও আসতেছে না। এদের চামড়া এতো শক্ত হয়েছে; যে গন্ডারের চামড়া থেকে আরও বেশি। এদের গায়েও কিছু লাগে না।’

বক্তৃতাকালে আরিফ আরও বলেন, আর ঘুম থেকে উঠে তারা বিএনপি’র পরিবারের ওপর শহীদ জিয়া থেকে শুরু করে বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান পর্যন্ত শেষ হয়। তসবির মতো জপতে থাকে। তাদের আর কোনো কাজ নেই। তারা সরকারে বসে ঘুম থেকে উঠে কি বলবো, ভাষায় বলার মতো নেই। এখন তারা শেষ পর্যন্ত সব ধ্বংস করে দিয়ে এখন লাগছে পদকটা নিয়ে টানাটানি। এদের যে কী দশা হবে আল্লাহ জানে। আসলে তারা ভীত।’

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code