Main Menu
শিরোনাম
সিলেটে করোনায় আরো ১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৭         সিলেটে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, বৃদ্ধ খুন         নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মিছিল সমাবেশ         জৈন্তাপুরে হিন্দু-বৈদ্য খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের বিক্ষোভ সমাবেশ         বিশ্বনাথে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতৃবৃন্দের মধ্যে ফরম বিতরন         বিশ্বনাথে সাইফুলের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল         ছাতকে ১০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল         ছাতকে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার         বিশ্বনাথে দুই হত্যা মামলার প্রধান আসামী সাইফুল গ্রেপ্তার         কোম্পানীগঞ্জে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু         গোলাপগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেপ্তার         শান্তিগঞ্জে পানিতে ডুবে দুই চাচাতো বোনের মৃত্যু        

ছাতকে নারী কাউন্সিলর কাকলীসহ ৪জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছাতক সংবাদদাতা: সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর তাছলিমা জান্নাত কাকলীসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) সুনামগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ছাতক-সুনামগঞ্জ আদালতে ইজিবাইক স্ট্যান্ড ছাতকের ম্যানেজার আতিকুল মিয়া বাদী হয়ে সি আর মোকাদ্দমাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামীরা হলেন, নারী কাউন্সিলর তাছলিমা জান্নাত কাকলী, তার স্বামী মাছুম আহমদ (৪৫), কাকলীর ভাই নোমান ইমদাদ কানন (৩৫) ও কার্জন মিয়া (২৮) ।

মামলার বাদী আতিকুল মিয়া জানান, গত ২২ আগস্ট দুপুর ১২ টার দিকে ১নং আসামী কাউন্সিলর কাকলীর ছত্রচ্ছায়ায় থেকে অন্যান্য আসামীরা এলাকায় অপরাধ সংঘটিত করে থাকে। ছাতক বাজারে খোকন চৌধুরীর মার্কেটের সামনে ব্যাটারিচালিত (অটো বাইক-ইজি বাইক) গাড়ি চলাচল করে এবং আমি এই স্ট্যান্ডের ম্যানেজার হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে দায়িত্বপালন করে আসছি। ব্যাটারচালিত গাড়ি বন্ধ থাকা সরকারি নির্দেশনা থাকিলেও ড্রাইবার ও শ্রমিকদের জীবন-জীবিকার জন্য চালকগণ উল্লেখিত স্ট্যান্ড হতে গ্রামীন এলাকায় গাড়িগুলো লোকজন নিয়ে চলাচল করে থাকে। ছাতক পৌরসভা কর্তৃক সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক গাড়িগুলো বন্ধ থাকার তাগিদ থাকা সত্ত্বেও গরীব চালকরা পরিবার পরিজন ও জীবিকা নির্বাহের দায়ে উক্ত স্ট্যান্ড হতে গাড়িগুলো চালিয়ে আসছিলো।

এলাকার প্রভাবশালী চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা উল্লেখিত কাকলী, মাছুম, নোমান, কার্জন আসামীগণ প্রায়ই স্ট্যান্ডে এসে আমাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিলো এবং চাঁদা না দিলে আসামীরা গাড়ি চলাচল বন্ধ, মারিপিট ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলো। ১নং আসামী কাকলীর নেতৃত্বে অন্যান্য আসামীরা আমাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা নিয়েছে এবং প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা চাঁদা না দিলে আমাদেরকে মারপিঠ করে গাড়ি ভাংচুর করে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিবে বলে হুমকি দিয়েছিলো।

মামলার এজাহারে বাদী আতিকুল মিয়া আরও উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালের আকিজ প্লাস্টিক গ্রুপে চাঁদাবাজির কারণে ১নং আসামী কাকলীর উপর চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছিলো। গত ২২ আগস্ট দুপুর ১২ টায় ১নং আসামী কাকলী ও মাছুম, নোমান, কার্জন আসামীরা হাতে ডেগার, পিস্তল, রামদা ও অবৈধ বন্দুক ইত্যাদি প্রাণনাশের অস্ত্র নিয়ে আমাদের ইজিবাইক স্ট্যান্ডে আসে এবং আমাকে দায়িত্বরত অবস্থায় রাস্তার উপর পেয়ে সাক্ষীগণের সামনে অস্ত্রসহ ঘেরাও করে মাসিক ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় আমার উপর আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ১নং আসামী হুকুম দেয় যে “৫ হাজার টাকা চাঁদা না দিলে শালারপুতরে মারিয়া মাটির সাথে মিশিয়ে দে, গাড়িগুলো ভাংচুর করে ফেলো”।

আসামীরা অজ্ঞাতনামা অন্যান্য আসামীগণের হাতে থাকা অস্ত্র-সস্ত্র দিয়ে গাড়িগুলোতে আঘাত করতে থাকলে উপস্থিত সাক্ষী ও প্রতিকরা আসামীদের হাত থেকে আমাদের হাত রক্ষা করে অথবা আসামীরা আমাদের মেরে ফেলতো। আসামীগণ যাওয়ার সময় আবারো আমাদেরকে হত্যা করে আমাদের লাশ ঘুম করে ফেলবে বলে এ কথা বলে চলে যায়।

আতিকুল মিয়া মামলায় উল্লেখ করেন, আসামীদের দ্বারা তার জান-মালের নিরাপত্তার বিঘ্ন হওয়ার আশংকায় তিনি আদালতে মামলা দায়ের করছেন বলে জানান।

প্রসঙ্গত : সুনামগঞ্জের ছাতক পৌর ভবনে ভাঙচুরের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর তাছলিমা জান্নাত কাকলীসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছে আদালত। ৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আব্দুর রহিমের আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র (নং-২৪০/১০ তারিখ-০৬/০৯/২০২১) গ্রহণ করা হয় বলে জানিয়েছেন ছাতক থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান। মামলায় কাউন্সিলর কাকলী ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন- কাউন্সিলর কাকলীর স্বামী মাছুম আহমদ (৪৫), কাকলীর ভাই নোমান ইমদাদ কানন (৩৫) ও কার্জন মিয়া (২৮)। এদের মধ্যে প্রধান আসামি কাউন্সিলর কাকলী ছাতক থানায় ২০১৯ সালে একটি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি এবং কার্জন মিয়া ছাতক থানায় বিভিন্ন সময়ে দায়েরকৃত সাতটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান জানান, ‘ গত সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর মঙ্গলবার শুনানী শেষে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত।’

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘অবৈধ ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার অনুমোদন প্রদান না করার বিষয়ে ছাতক পৌরসভার সংশ্লিষ্টদের অবস্থান হার্ডলাইনে। কিন্তু ছাতক পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর তাছলিমা জান্নাত কাকলীর নেতৃত্বে তার স্বামী, ভাই এবং কার্জন মিয়া গং চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা চলাচল করিয়ে আসছিল। এ নিয়ে তাদের সাথে অটোরিকশা চালক ও মালিকদের বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তারা তাদের বিরুদ্ধে পৌরসভার মেয়র বরাবরে অভিযোগ করেন।

’অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ‘গত ১৮ আগস্ট বাগবাড়ী কবরস্থান ইজিবাইক স্ট্যান্ডের ম্যানেজার ও মালিকরা পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ করলে ২২ আগস্ট কাউন্সিলরদের সমন্বয়ে মেয়রের কক্ষে আলোচনার আয়োজন করা হয়। আলোচনা চলাকালে নারী কাউন্সিলর কাকলীর নেতৃত্বে ২০-২৫ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মেয়রের কক্ষে প্রবেশ করে গালাগালি শুরু করে।’‘একপর্যায়ে তারা পৌরভবনের বিভিন্ন কক্ষে দরজা, জানালা, টেবিলের গ্লাস ভাঙচুর করে; এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন হয়। পাশাপাশি তারা মেয়রের বিরুদ্ধে উস্কানীমূলক স্লোগান দিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় ছাতক পৌরসভার অফিস সহায়ক দীপ্ত বনিক বাদী হয়ে থানায় মামলা (নং-২৮/ ২৭-০৮-২০২১) দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর তদন্তে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের বক্তব্য, পৌরভবনে থাকা সিসিক্যামেরার ফুটেজ, ঘটনার সময়ে স্থিরচিত্র ও আলামত পর্যালোচনায় ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ চারজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ছাতক পৌর মেয়র কালাম চৌধুরীসহ ৩১ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে।’

0Shares





Related News

Comments are Closed