১৪০ বছর বয়সেও চশমা ছাড়া পড়তে পারেন শামস উদ্দিন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং আসামপাড়া গ্রামের মৃত হাজী কলিম উদ্দিন শিকদারের ছেলে শামস উদ্দিন। স্থানীয়রা তাকে গাউবুড়া হিসাবেই চেনে। তার বর্তমান বয়স ১৩৯ পেরিয়ে গেছে। বায়োবৃদ্ধ এই মুরব্বি এখনো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন। মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি রমজান মাসে খতম তারাবিও দাঁড়িয়ে ইমামের পেছনে আদায় করেছেন।
প্রতিদিনই পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এমনকি দৈনিক পত্রিকা সমূহ পড়তে পারেন চশমা ছাড়াই। বয়সের ভারে নূজ্য দেখালেও এই বায়োবৃদ্ধ মুরব্বি চাল, চলন এবং কাজ কর্ম দেখলে বিশ্বাসই হয়না তিনি ১৪০ বছর বয়সের মানুষ।
তার জন্ম ভারতের আসামে গড়পেটা জেলার হাতিযানা গ্রামে ১৮৮২ সালের শুরুর দিকে। বায়োবৃদ্ধ এই মুরব্বি এখনোও কাক ডাকা ভোরে উঠে ফসলের মাঠে চসে বেড়ান। জমি জমা কিংবা পারিবারিক কোন অফিসিয়াল কাজ হলে গোয়াইনঘাটের অফিস আদালত কিংবা থানায় নিজেই ছুটে যান। নিজেই সব কাজ কর্ম করছেন স্বাভাবিক নিয়মে। প্রায় ১৪০ বছর বয়স হতে চলা এ বায়োবৃদ্ধ মুরব্বির খাবার দাবারও এখনো স্বাভাবিক। মাছ, মাংস, শাক-সবজি ও দুধ পান করেন নিয়মিত।
স্থানীয় এক সাংবাদিকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ১৯৬৩ সালে বাবা, মাসহ স্ব-পরিবারে তারা জাফলং আসামপাড়া গ্রামে আসেন। ভারতে তাদের সহায় সম্পত্তি বিনিময় করে বাংলাদেশে একেবারে চলে আসেন তৎকালীন সময়ে। ১৯৬৩ সালের আগে তিনি আসামের ১১১ নং থাকালিয়া পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করেন। লেখাপড়া চলে সেখানকার মাইনরি (মাইনরটি) স্কুলে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত। মাদ্রাসায়ও কিছু দিন পড়াশোনা করেছেন।
লেখাপড়া এবং সমাজের একজন ভাল মানুষ হিসাবে তাকে সেখানকার গাউবুড়া (হেডম্যান) উপাধি দেয়া হয়। বাংলাদেশে আসার পর তিনি জাফলং বাজারে ব্যবসাও করতেন। জমি জমা চাষাবাদের পাশাপাশি ব্যবসা করে চলছে তাদের পরিবারের দৈনন্দিন পরিক্রমা।
৬ ছেলে ও ৩ মেয়ের জনক শামস উদ্দিন গাউবুড়া জানান, তিনি ভারতে আসামের ১১১ নং থাকালিয়া পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করে সেখানে ২৭ বছর শিক্ষকতাও করেছেন। সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রাতিষ্ঠানিক কোন চাকুরীতে সে সময়ে সর্বোচ্চ ৫ম শ্রেণী পাসকৃতরাই চাকুরীর যোগ্যতা অর্জন করতেন।
মেধাবী এবং চৌকস থাকায় সেখানেও তার নাম ডাক ছিল। একান্ত আলাপ চারিতায় তিনি জানান, আল্লাহর রহমতে আর মানুষের দোয়ায় এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ্য আছি। মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামাজের পাশাপাশি রমজান মাসে তারাবির ২০ রাকাত নামাজও ইমামের পেছনে পড়তে পারি। প্রতিদিনই পবিত্র কোরআন শরীফ ও বিভিন্ন পত্রিকা পড়তে পারি চশমা ছাড়াই। স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি ফসলের মাঠ এমনকি নিজের পারিবারিক যে কোন কাজে অফিস আদালতে যেতে হলে তিনি নিজে গিয়ে সারেন বলেও জানান। পারিবারিক স্বচ্ছলতা থাকায় সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা তিনি গ্রহণ করেন না। তবে সমাজের পিছিয়ে পড়া, হত দরিদ্র কিংবা বায়োবৃদ্ধ অসহায়দের প্রতি সরকারি ত্রাণ সহায়তা বা রিলিফ বন্টনে বৈষম্য না দেখাতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান এই বায়োবৃদ্ধ।
Related News
ঢাকা-সিলেট রুটে আসছে নতুন ট্রেন
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: যাত্রীদের চাপ মোকাবিলায় ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটে নতুন এক জোড়া বিরতিহীনRead More
জব্দ করার ২ দিন পরই উধাও কোটি টাকার পাথর
Manual2 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে জ্বালানি ওRead More



Comments are Closed