Main Menu

সিলেটে বিরামহীন বৃষ্টি, নদীতে বেড়েছে পানি

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে শনিবার সকাল থেকে চলছে টানা বৃষ্টি। এ বৃষ্টিতেই চলছে মানুষের নিত্য দিনের কাজ। চলছে গন্তব্যে ছুটেচলা। ছুটির দিন হওয়ায় অফিসগামী মানুষের ভোগান্তি কম হলেও কষ্ট কম নেই নিম্ন আয়ের মানুষের। সকাল থেকে ঝুম বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিম্ন আয়ের মানুষ বেরিয়েছে জীবিকার তাগিদে।

এদিকে বৃষ্টির কারণে বেলা ১২ টা পর্যন্ত নগরে মানুষের চলাচল অনেকটা কম থাকলেও দুপুরের পর থেকে কিছুটা বাড়তে দেখা গেছে। সেই সাথে সড়কের আশপাশ বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকতেও দেখা গেছে। এমনকি টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বেড়েছে সিলেটের নদ নদীর পানি। এমন অবস্থায় নিম্নাঞ্চলের কিছু জায়গা প্লাবিত হওয়ার শংকা দেখা দিয়েছে।

এমনকি পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বন্যার শংকাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুজ্জামাজ সরকার।

তিনি জানান সিলেটে প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, ছাতক ও দোয়ারাবাজারে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো)-এর বুলেটিনে জানানো হয়, শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় কানাইঘাটে সুরমা বিপদসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া, সিলেটে সুরমা বিপদসীমার ৬১ সেন্টিমিটার, আমলসীদে কুশিয়ারা বিপদসীমার ১৯৬ সেন্টিমিটার এবং শেওলায় কুশিয়ারা বিপদসীমার ১৭৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া, ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা, কানাইঘাটে লোভা, জৈন্তায় সারি এবং কোম্পানীগঞ্জে ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধিও অব্যাহত আছে।

গত কয়েক দিনের তুলনায় শনিবার বৃষ্টি অনেকটাই বেড়েছে, তাপমাত্রাও কমেছে। বৃষ্টির এই প্রবণতা আগামী তিনদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, বিহার, হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুর ইসলাম বলেন, ‘শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।’

এ সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামী তিন দিন বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানান এই আবহাওয়াবিদ।

Share





Related News

Comments are Closed