তিনটি হাসপাতাল ঘুরেও মিলল না আইসিইউ বেড
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের করোনা ডেডিকেডেট সেন্টার শহিদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসিইউ-তে বেড খালি না থাকায় নরমাল বেডে ভর্তি হয়েছেন একজন বৃদ্ধা করোনা রোগী।
বুধবার (৭ জুলাই) সকালে করোনা আক্রান্ত রোকেয়া বেগম (৬০) কে রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে অবশেষে শামসুদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
সিলেটের এই তিনটি হাসপতালে খালি নেই আইসিইউ বেড। পরে নরমাল বেডেই ভর্তি হতে হয় ফেঞ্চুগঞ্জের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব রোকেয়া বেগমকে।
সিলেটে একটি আইসিইউ বেডের জন্য করোনাক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের স্বজনদের রীতিমতো মাতম চলছে। সিলেটে করোনা ডেডিকেটেড ১০০ শয্যার সরকারি চিকিৎসালয় শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাসহ সিলেটের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে গত কয়েকদিন ধরেই মিলছে না আইসিউ বেড।
বুধবার (৭ জুলাই) দুপুরে শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের সামনে দিশেহারা হয়ে হাটতে দেখা যায় সিলেটের বালাগঞ্জের মোস্তফা আহমদ নামের এক যুবককে। তিনি তাঁর সত্তর বছর বয়েসি মাকে নিয়ে এসেছেন এ হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভর্তি করাতে। বুধবার তাঁর মায়ের করোনা রোগ শনাক্ত হয়। বুধবার সকাল পর্যন্ত নগরীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসারত ছিলেন। কিন্তু করোনা পজিটিভ আসার পর এবং শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আর সেখানে রাখেননি। পরামর্শ দেন শামসুদ্দিনে ভর্তি করার। সেখান থেকে বেরিয়ে মোস্তফা তার মাকে ভর্তি করাতে বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে নিয়ে আসেন শামসুদ্দিনে। এসেই শুনতে পারেন দু:সংবাদ, এখানেও খালি নেই আইসিইউ বেড।
এভাবে শুধু মোস্তফা নয়, প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ২-৩টি করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীর স্বজনরা আইসিইউ বেডের চাহিদা নিয়ে শামসুদ্দিন হাসপাতাল প্রাঙ্গনে আসছেন এবং কাঙ্ক্ষিত সিট না পেয়ে নিজের প্রিয়জন নিয়ে কান্নাভেজা চোখে অন্য হাসপাতালের দিকে ছুটছেন দিশাহারা হয়ে।
জানা গেছে, একই চিত্র সিলেটে করোনা চিকিৎসা দেয়া বেসরকারি হাসাপাতাল নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মাউন্ড এডোরা হসপিটাল ও নুরজাহান হসপিটালে।
সিলেট শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সৈয়দ নাফি মাহদি জানান, শামসুদ্দিনে বর্তমানে রোগীর এত চাপ যে- করোনা ইউনিটের ১০০ বেডের বাইরে আরও ৩টি বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। এই ১০৩ টি-ই এখন পরিপূর্ণ। আর আইসিইউ-এর ১৬টি বেড তো গত ৪ দিন থেকেই পরিপূর্ণ। প্রতিদিন ২-৩ জন মুমূর্ষু রোগীকে ফেরত পাঠাতে হচ্ছে। বিষয়টি আমাদেরকেই পীড়া দিচ্ছে।
তিনি বলেন, গত ৩/৪ দিন থেকে সারাদিনে করোনা ইউনিটে ভর্তি হতে আসা অন্তত: ১৫ জন রোগীকে ফেরত পাঠাতে হচ্ছে।
Related News
‘হৃদবন্ধন সাহিত্য পরিষদ’র ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও অভিষেক অনুষ্ঠিত
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হকRead More
সিলেটে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিল
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি সংসদে পাশ হওয়া শরীয়াহ বিরোধী আইন সম্পত্তি হস্তান্তরRead More



Comments are Closed