সিলেটে কঠোর লকডাউনে যান ও জনশূন্য সড়ক, সিসিকের মাইকিং
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে সিলেটসহ দেশব্যাপী শুরু হয়েছে “কঠোর লকডাউন।” সরকারী এই বিধিনিষেধ চলবে ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত।
সকাল ১১টার পর নগরীর বিভিন্ন সড়কে সেনা সদস্যদের টহল দিতে দেখা যায়। লকডাউনের প্রচারণায় সিলেট সিটি কপোরেশনের উদ্যোগে সকাল থেকে নগরীতে মাইকিং করা হচ্ছে।
কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনে যান ও জনশূণ্য অবস্থায় রয়েছে সিলেটের রাস্তাঘাট। ব্যস্ততম সড়কগুলোও রয়েছে ফাঁকা। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া বাসা-বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না মানুষ।
নগরীর প্রবেশদ্বার ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। এছাড়া লকডাউন বাস্তবায়নে রাস্তায় টহল দিচ্ছে র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী।
এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউনের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সকালে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে নগরীর কোর্ট পয়েন্ট, চৌহাট্টা পয়েন্ট, আম্বরখানা, মদিনামার্কেট, শেখঘাট জিতু মিয়ার পয়েন্ট ও পাঠানটুলাসহ বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। রাস্তায় বের হওয়া লোকজন ও যানবাহন আটকে ঘর থেকে বের হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করছে তারা। সদুত্তর না পেলে যাত্রীদের ফিরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। আর যানবাহনের কাগজপত্র না থাকলে হাতে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে মামলার কাগজ।
সকাল থেকে নগরীর রাস্তায় রিকশা চলাচল করলেও তা অন্যদিনের তুলনায় কম। বাস, সিএনজি অটোরিকশা, লেগুনাসহ সবধরণের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। অতি জরুরি প্রয়োজনে কেউ প্রাইভেট গাড়ি বা মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তায় বের হলে পড়তে হচ্ছে পুলিশী জেরা ও তল্লাশির মুখে। রিকশা আটকেও যাত্রীদের ঘর থেকে বের হওয়ার কারণ জানতে চাচ্ছে পুলিশ।
এছাড়া নগরীর প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত চন্ডিপুল, হুমায়ূন রশিদ চত্বর, টিলাগড়, বিমানবন্দর সড়ক, কুমারগাঁওয়ে চৌকি বসিয়ে যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচল রোধ করছে পুলিশ।
নগরীতে নিত্যপণ্য, ফার্মেসি ও জরুরি সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সবধরণের দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতাসমাগম খুবই কম।
এদিকে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সিলেটে অভিযান শুরু করেছে সিসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সকাল সাড়ে ১১টায় সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে নগরীর কোর্ট পয়েন্ট এলাকা থেকে অভিযান শুরু করা হয়।
এসময় স্বাস্থ্যবিধি না মানায় সিসিকের সামনে ২ রিকশা আরোহীকে ২শত টাকা করে ৪শত টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় জরিমানা আদায়রের পাশাপাশি পথচারিসহ কয়েকজনকে মাস্ক দেয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনন্দা রায়। তিনি বলেন, সরকারেরে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নের জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে সিসিক।
অপরদিকে সকাল ৬টা থেকে কঠোর লকডাউন কার্যকর করতে সিলেটে পুলিশ, বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল থেকে সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি ও র্যাব সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। কেবল অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে যানবাহন চলাচল করছে। রাস্তায় মানুষের চলাচল সীমিত রয়েছে।
বুধবার (৩০ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মানুষের চলাচলে “বিধি-নিষেধ” আরোপ করে ২১ দফা নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
জরুরি সেবা ছাড়া সব দোকানপাট, সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালত, শিল্প কারখানা, যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে৷ আর্থিকসহ অন্যান্য সেবা দেয়ার প্রয়োজনে কিছু অফিস সীমিত আকারে খোলা থাকবে৷ তবে পোশাক কারখানা খোলা থাকবে।
সরকারি বিধিনিষেধ এবং মানুষের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে নিয়োজিত থাকবে পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড, আনসার ও সেনাবাহিনী।
অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এই সময়ে বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না।
পুলিশ জানিয়েছে, বিনা কারণে বাড়ির বাইরে বের হলেই গ্রেফতার করা হবে।
সরকার কর্তৃক আরোপ করা বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সব সিনিয়র সচিব, সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে।
Related News
শাবিপ্রবি ছাত্রদলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ডেঙ্গু সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিRead More
১০ অক্টোবর থেকে সিলেটে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট অঞ্চলে প্রায় তিন বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাণিজ্য মেলা। আগামীRead More



Comments are Closed