Main Menu

হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর ৭০২তম ওরস বৃহস্পতিবার

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর ৭০২তম বার্ষিক ওরস শরিফ মহামারি করোনা ভাইরাস কোভিট-১৯ এর কারণে নেওয়াজ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকালে শুরু হবে।

মাজারে গিলাফ চড়ানো, খতমে কোরআন সহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ওরস পালন করা হবে। করোনা ভাইরাসের কারণে আশিকান, বক্তবৃন্দ সমাগম না করে নিজ নিজ ঘরে বসে ওরস বার্ষিকী পালন করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন দরগাহ্- হযরত শাহজালাল (রহ.) এর সরেকওম, মোতাওয়ালী ফতেউল্লাহ্ আল আমান।

দরগাহের খাদেম সামুন মাহমুদ খান বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে নেওয়াজ অনুযায়ী ওরস উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দরগাহ কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার দিবাগত রাতে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ওরস শেষ হবে বলে জানান তিনি। ।

ওলিকুল শিরোমণি মুজররদে ইয়ামনী হজরত শাহজালাল (রহ.) এর ৭০২তম ওফাত দিবস বৃহস্পতিবার (১ জুলাই)। অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার-অবিচল ভাবমূর্তি নিয়ে এই অঞ্চলে আগমন ঘটে হজরত শাহজালাল (রহ.) এর। মানুষকে শান্তির-সুন্দর পথ প্রদর্শন করে ১৩৪১ খৃস্টাব্দে (১৯ জিলক্বদ) ৬০ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন তিনি। তার জন্ম হয় ১২৭১ খৃস্টাব্দে আরবের ইয়ামন প্রদেশের কুনিয়া বা কানিয়া নামক স্থানে।

হজরত শাহজালাল (রহ.) এর ওফাতের পর থেকে প্রতি বছরই সিলেটে তাঁর মাজার প্রাঙ্গণে দুদিনব্যাপী নানা কর্মসূচী পালিত হয়ে আসছে। দেশ বিদেশের বিপুল সংখ্যক ভক্ত এতে অংশ নেন। এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে এইসব কর্মসূচী বাতিল করা হয়েছে। তবে ভক্ত অনুরাগীদের নিজ নিজ ঘরে থেকে দোয়া দুরুদ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

সততা, ন্যায় ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সুদূর ইয়েমেন থেকে সিলেটে এসেছিলেন হজরত শাহজালাল (রহ.) আজ থেকে আটশ বছর আগে। তাঁর মিশন ছিলো অন্যায়, অত্যাচার ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে। এই অঞ্চলে তখন চলছিলো হিন্দু রাজা গৌড়গোবিন্দের দুঃশাসন। তার অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করতে করতে এই অঞ্চলের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিলো। তখন তারা খুঁজতে থাকে মুক্তির উপায়। এই অবস্থায়ই তাদের সামনে এলেন হজরত শাহজালাল (রহ.)। তিনি রাজা গৌড়গোবিন্দকে পরাজিত করে ইসলামের সুমহান বাণী প্রচার শুরু করেন। তাঁর পুরো নাম জালাল উদ্দিন। তবে তিনি শায়খ জালাল বা শাহজালাল নামে সকলের কাছে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি যে কেবল সিলেট অঞ্চলেই ইসলামের সুমহান বাণী প্রচার করে মানুষকে শান্তির পথ প্রদর্শন করেন তা নয়, তিনি ছিলেন পুরো মুসলিম বাংলায় ইসলাম প্রচারের পথিকৃত। এক কথায় বলা যায়, হজরত শাহজালাল (রহ.) ছিলেন এদেশে মুসলিম জাতিসত্ত্বার আদি রূপকার।

ঐতিহাসিকদের মতে, পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালা শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর উম্মতদের মধ্য থেকে যুগে যুগে মানুষদের সঠিক পথে পথ প্রদর্শন করার জন্য ওলি বা মুজাদ্দেদ প্রেরণ করেন। যেহেতু শেষ নবীর পরে কোনো নবীর আগমনের সম্ভাবনা নেই, তাই ওলি বা মুজাদ্দেদরাই আল্লাহর মনোনীত ইসলামের বাণী যুগে যুগে প্রচার করে যাবেন। এরা হচ্ছেন ওলি, সুফী, সাধক, দরবেশ। এরাই বিপথগামীকে নিয়ে আসবেন সুপথে, সত্য ধর্মে।

হজরত শাহজালাল (রহ.) ছিলেন এমনি একজন সাধক পুরুষ। ইসলামের সংকটময় মুহূর্তে তিনি পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। আরবের মক্কা শরীফের প্রখ্যাত কুরাইশ বংশের অন্যতম কৃতী পুরুষ হজরত মুহাইন ইয়ামনের ঘরে ৫৯৮ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন হজরত শাহজালাল (রহ.)। জন্মের পূর্বে পিতা এবং জন্মের পর মাতা হারান তিনি। এতিম শিশু হজরত শাহজালাল (রহ.) লালিত পালিত হন তাঁর মামার কাছে। আর তাঁর মামাই হচ্ছেন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা গুরু।

হজরত শাহজালাল (রহ.) ও তাঁর সফরসঙ্গী তিনশ’ ৬০ আউলিয়া নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এই অঞ্চলে প্রচার করেছেন শান্তির ধর্ম ইসলামের সুমহান বাণী। গুণীজনরা বলেন, ওলি আউলিয়াদের নিকটবর্তী না হলে আল্লাহর পরিচয় পাওয়া যায় না। এই অঞ্চলের মানুষ হজরত শাহজালাল (রহ.) ও তিনশ’ ৬০ আউলিয়াসহ অন্যান্য ওলি আউলিয়াদের কাছে চিরঋণী এই জন্য যে, তাঁদের একাত্মতা আর অফুরন্ত পরিশ্রমের ফলে এখানে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠা পেয়েছে শান্তির ধর্ম ইসলাম।

Share





Related News

Comments are Closed