সিলেটে সাবেক সাব রেজিস্ট্রারসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরীর রিকাবীবাজারে গীর্জা ও কবরস্থানের প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৮০ শতক ভূমি প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের ঘটনায় এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, সিলেটের সাবেক সাব রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান পাটোয়ারীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার সকালে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় সিলেটের সহকারী পরিচালক ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন, রংপুর আরএমপি’র কোতোয়ালি থানার ধাপকটকিপাড়ার (রোড নং-১ , বাসা নং-১৩) মৃত নজব উদ্দিন পাটোয়ারির পুত্র সিলেট সদর উপজেলার সাবেক সাব-রেজিস্টার (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) মো. মজিবুর রহমান পাটোয়ারি (৬৭), নগরীর তালতলার সুরমা টাওয়ারের ১৪/ই এর মৃত হামিদ আলী ওরফে হাসিদ আলীর পুত্র ইম্পালস বিল্ডার্স লি. এর চেয়ারম্যান এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম (৬০), নগরীর শেখঘাটের (বাসা নং শুভেচ্ছা-৭৮) মো. আব্দুস সাত্তারের পুত্র সিলেট সদরের সাবেক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, মিউনিসিপ্যালিটি ভূমি অফিস (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) মো. আসবাহ উদ্দিন (৬০) ও কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড়ের (দত্ত হোস্টেল রোড, বাসা নং-২১) মৃত মাখন লাল করের পুত্র সিলেট সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সাবেক কানুনগো (বর্তমানে বরখাস্তকৃত) মলয় কর (৫৫)।
দুদক, সিলেটের উপপরিচালক মো. নুর-ই-আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে সত্যতার পরই বাদী মামলাটি দায়ের করেন। বাদী ও দুদকের সহকারী পরিচালক ইসমাইল হোসেনই মামলাটি তদন্ত করবেন। মামলার সকল আলামত ও নথিপত্র জব্দ করার পাশাপাশি আসামিদেরকেও তিনি গ্রেফতার করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
জানা যায়, সিলেট নগরীর রিকাবীবাজারে খ্রিষ্টানদের গির্জার জায়গা দখল করে ২২ তলা বহুতল ভবন তৈরী করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪ তলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে।
এর আগে জায়গাটির প্রকৃত শ্রেণি গোপন রেখে নানা কৌশলে সাবরেজিস্ট্রার, ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগোর যোগসাজশে ৮০ শতক জায়গার অবৈধ কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে। এরপরই এ জায়গার উপর করা হচ্ছে ‘ইম্পালস বিল্ডার্স’ নামের একটি ২২ তলা ভবন।
দীর্ঘদিন থেকে এ জায়গার মালিকানা নিয়ে দেওয়ানি মামলা চলে আসলেও এবার দুদকের অনুসন্ধানে মিলেছে প্রাথমিক সত্যতা। তাই এ ঘটনায় ৪ জনকে আসামি করে দুদকের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, হেরেঙ্গা লুসাই নামে ব্রিটিশ পুলিশ বাহিনীতে চাকরি করতেন এক ব্যক্তি। তিনি ছিলেন লুসাই সম্প্রদায়ের খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার মিউনিসিপালিটি মৌজায় ৪০০৮ এবং ৪০০৯ নং দাগে ১.৩৭০১ একর ভূমি পুলিশলাইন্সে বসবাসরত খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রার্থনা এবং মৃতদেহ কবর দেওয়ার জন্য বরাদ্দ দিয়ে গির্জার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য হেরেঙ্গা লুসাইকে এই গির্জা সমিতির চেয়ারম্যান করা হয়। পরবর্তীতে এ গির্জায় সমাহিত হন হেরেঙ্গা লুসাই। কালের পরিক্রমায় এ জায়গার দেখভালের দায়িত্ব পড়ে হেরেঙ্গা লুসাইর উত্তরসূরি যৌবেল লুসাই নামের একজনের কাঁধে। কিন্তু তার দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে ইম্পালস বিল্ডার্সের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম নানা কৌশলে এখানকার ৮০ শতক জায়গা আত্মসাৎ করার চেষ্টা করে আসছেন। এক পর্যায় তিনি এ ভূমি লিজ নেন এবং পরবর্তীতে তিনি একটি আমমোক্তারনামা তৈরি করেন। এভাবে তিনি কৌশল অবলম্বন করে উক্ত ভূমিকে কেন্দ্র করে ১৫টি রেজিস্টার্ড লিজনামা, ১ টি রেজিস্টার্ড বায়নামা, ১টি সাফকাবাল বেআইনি দলিল, ১টি আনরেজিস্টার্ড লিজনামা সম্পাদিত করে পরবর্তীতে সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সাবেক সাবরেজিস্ট্রার, বরখাস্তকৃত কানুনগো, ও ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার যোগসাজশে তা নিজের নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে নেন। পরবর্তীতে এসব কাগজপত্রের বলে খ্রিষ্টানদের গির্জার ৮০ শতক জায়গা ভোগদখল শুরু করেন।
Related News
জুন মাসে সিলেটে গ্রেপ্তার ২ হাজার ৩২২ জন
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট মহানগরীর ৬টি থানাপুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগে গত জুনRead More
সিলেটে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদযাপিত
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা, সাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক সংকটের এই সময়েRead More



Comments are Closed