Main Menu

সিলেটে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় তিন ভাই-বোন গ্রেপ্তার

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট নগরীর উত্তর কাজিটুলায় পাঁচ তলা ভবনের নিচ থেকে রাবিদ আহমদ নাজিম নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার তিন ভাই-বোনকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকেলে তাদেরকে আদালতে হাাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। কোতয়ালী থানার ওসি এম এম আবু ফরহাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- কাজীটুলা চৌধুরী ভিলার পঞ্চম তলার ভাড়াটে শাহনিয়া বেগম (৩০) এবং তার দুই সহোদর আকবর (২৬) ও ইয়ামিন আহমদ (২৪)।

কোতোয়ালী থানার এস আই মো: আবু সাঈদ সোমবার দিবগাত রাত ৩টায় কাজিটুলা এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করেন।

এরআগে সোমবার সকালে নগরীর কাজিটুলার চৌধুরী ভিলা নামের ৫ তলা ভবনের নিচ থেকে রাবিদ আহমদ নাজিম (২৭)কে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে দুপুর ২টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নাজিম সিলেটের শাহপরাণ থানাধীন পিরেরবাজার এলাকার আটগাও কেউয়া গ্রামের নুর মিয়ার ছেলে। অন্যদিকে এই বাসা থেকে ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নাজিমের ভাই জামিল আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সোমবার সকালে স্থানীয়রা ফোন করে জানান, আমার ভাই নাজিম পাঁচতলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা হাসপাতালে এসে ভাইকে মৃত দেখতে পাই। তিনি বলেন, ‘রোববার রাতে কে বা কারা আমার ভাইকে ফোন করে কাজিটুলায় নিয়ে আসে। রাতে আর সে বাড়ি ফেরেনি। রাতে তার ফোনও বন্ধ ছিল। এখনও বিস্তারিত কিছু জানি না।’

এদিকে, নাজিম ঊঁচাসড়কস্থ চৌধুরী ভিলা নামক ৫ তলা বাসার পঞ্চম তলার বি/৫ ফ্ল্যাটটি খালাতো ভাই-বোন পরিচয়ে এক ছেলে ও মেয়ের সঙ্গে বাসা ভাড়া নেন। সেখানে তিনি প্রায়ই রাত কাঁটাতেন। মৃত্যুর পর তার থাকার কক্ষ থেকে নানা রকমের মাদকদ্রব্য ও সেবনের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করেছে পুলিশ। নাজিম যাদের সঙ্গে ভাড়া (সাবলেট) থাকতেন সেই ছেলে ও মেয়ে তার খালাতো ভাই-বোনও নন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

নাজিমের স্বজনরা দাবি করেন, ঊঁচাসড়কস্থ চৌধুরী ভিলার যে ফ্ল্যাটে নাজিম ভাড়া থাকতো সেটি তাদের জানা ছিল না। নাজিম বিবাহিত, তার দুটি সন্তানও রয়েছে। বিবাহিত জীবনে সে অসুখিও ছিলো না। কী কারণে তাকে মৃত্যুবরণ করতে হলো তা খতিয়ে দেখা দরকার।

এসএমপির কতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আবু ফরহাদ বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এটি আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা নাকি হত্যা তা এখনই বলা যাচ্ছে না। ওই যুবকের বাসা থেকে ইয়াবাসহ কিছু মাদক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান ওসি। তিনি জানান, নাজিম সাবলেট থাকতেন। বাসার অন্যান্য লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আটককৃত তিনজন জিজ্ঞাসাবাদে এ ঘটনার বিষয়ে মুখ খুলছে না। এ জন্য তাদেরকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed