নওগাঁর সাপাহারে শুরু হয়েছে আমপাড়া উৎসব
মাহমুদুল হাসান, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ দেশে আম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা নওগাঁয় শুরু হয়েছে আমপাড়া উৎসব। মঙ্গলবার (২৫ মে) বিকেলে জেলার সাপাহার উপজেলার বরেন্দ্র এগ্ৰো ফার্ম বাগানে আনুষ্ঠানিকভাবে আমপাড়া কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
একইদিন আমপাড়া উদ্বোধন উপলক্ষে সাপাহার উপজেলা সদরে আমচাষি ও বিপণনকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্যাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ, পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান মিয়া, নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামছুল ওয়াদুদ, সাপাহার উপাজেলা কৃষি কর্মকর্তা মজিবুর রহমান, উপজেলা আম চাষি সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান, আম আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান বলেনসহ প্রমুখ।
সভায় আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা বলেন, নওগাঁর আম স্বাদে ও গুনে খুবই ভালো। ব্র্যান্ডিংয়ে পিছিয়ে থাকায় এই এলাকার আম দেশের বিভিন্ন বাজারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর আম বলে বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে গত বছরের মতো নওগাঁ আম উৎপাদনে দেশের শীর্ষ স্থান দখল করেছে। আমের রাজধানী এখন নওগাঁ । ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও নওগাঁকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য গণমাধ্যম ও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।
আম বাজারজাতকরণে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে তারা আরো বলেন, আম বাজারজাত করার সময় আড়তদের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হোন। এছাড়া আমের ভরা মৌসুমে সাপাহার উপজেলা সদর প্রায় তিনশ’ আমের মোকামকে আম কেনা হয়় । ফলে প্রধান সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হওয়ার ফলে আম বিপণনে বিড়ম্বনার শিকার হোন চাষি ও পথচারিরা। আম বাজারজাত করণের সমস্যা ও পথচারিদের ভোগান্তি দূর করতে প্রশাসনকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
পুুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, ‘নওগাঁর আমের ব্র্যান্ডিং করার জন্য গত বছর সুন্দর সুন্দর স্লোগান তৈরি করা হয়েছিল। এ বছরও সুন্দর সুন্দর স্লোগান তৈরি করা প্রয়োজন। আম ব্যবসায়ী ও চাষিরা যাতে কোনো প্রকার হয়রানি শিকার না হোন সে ব্যাপারে পুলিশ সব সময় সচেষ্ট থাকবে। এছাড়া আম ব্যবসাকে কেন্দ্র করে যাতে পরিবহন ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি না হয় সে ক্ষেত্রেও পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামছুল ওয়াদুদ জানান, চলতি মৌসুমে নওগাঁয় ২৬ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১৪ মেট্রিক টন হিসাবে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৬২ হাজার মেট্রিক টন।
জেলা প্রশাসক হারুন অর রশিদ জানান, চাষি ও ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো প্রকার হয়রানির শিকার না হোন সে ক্ষেত্রে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। আমের মোকামগুলোকে কেন্দ্র যানজটের যে সমস্যা তৈরি হয় সেটা দূর করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাপাহার উপজেলায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি হতে যাচ্ছে। এই অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি হলে আম সংরক্ষণাকার করা হবে। তখন আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা আরও লাভবান হবেন। আম ব্যবসায়ীরা যাতে সহজ শর্তে ঋণ পান এবং ভরা মৌসুমে অধিক সময় পর্যন্ত ব্যাংক খোলা থাকে সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
Related News
পাবনায় মাঠে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পাবনা সদর উপজেলায় বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে গোসল করতেRead More
স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে অসুস্থ ১৫ শিক্ষার্থী
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে ১৫ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালেRead More



Comments are Closed