Main Menu

জৈন্তাপুরে নির্বিচারে পাহাড় কর্তন, নিরব প্রশাসন

মোঃ রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ছোট বড় পাহাড় ও টিলার ভূমিগুলোতে প্রচুর কাঠাল, তেজপাতা ও নানা প্রজাতির লেবু উৎপাদিত হয়। তবে প্রভাবশালীরা সরকারি পাহাড় ও টিলা দখল করে বসতবাড়ী নির্মাণসহ পাহাড় শ্রেনীর ভূমি ক্রয় বিক্রয় করছে। অনেকটা প্রকাশ্যে এসব কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্ট পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে। পরিবেশবিদদের আশংকা জৈন্তাপুরের পাহাড় ও টিলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এগিয়ে না আসলে মারাত্মক আকারে পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিবে।

সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন বিগত দিনগুলোতে এসকল এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে পাহাড় কর্তনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞায় বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে পাহাড় কর্তনের মহোৎসব চলছে।

বর্তমানে নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা যোগদান করার ফলে চক্রটি পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকার পাহাড় কর্তন করে সমানভাবে পরিবহনযোগে মাটি বিক্রয় করা হচ্ছে। এছাড়া কেউ কেউ পাহাড় ও টিলাশ্রেণির ভূমি কেটে নির্মাণ করছেন ঝুঁকিপূর্ণ বসতবাড়ী।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ৫নং ফতেপুর (হরিপুর) ইউনিয়নের উপর শ্যামপুর গ্রামের হেলাল উদ্দিন এলাকায় পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছেন। রাতের বেলা বৈদ্যুতিক আলো জ্বালিয়ে কর্তন করছে টিলা। ১০-১৫ জন শ্রমিক পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিক জানান, স্থানীয় প্রশাসনের লোকজনদের টাকা দিয়ে তারা পাহাড় কর্তন করে মাটি বিক্রয় করছে। কত টাকা দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন- কত টাকা দিয়েছে সেটা হেলাল ভাই জানেন। বিভিন্ন সময় পুলিশ এসে টাকা নিয়ে যায়।

এছাড়া সে আরোও জানায় স্থানীয় কয়েকজন নেতা এই এলাকার সকল পাহাড় ও টিলা কাটার কাজে সহযোগিতা করে আসছেন।

এদিকে পরিবেশগত সমীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ছাড়পত্র ছাড়া সিলেট বিভাগের সদর, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, বিয়ানীবাজার, কোম্পানীগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায় পাহাড়কাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিগত ২০১১ সালের ১ মার্চ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) দায়ের করা রিটের রুল নিষ্পত্তি করেন বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও জাহাঙ্গীর হোসেনের নের্তৃত্বাধীন যৌথ বেঞ্চ এই রায় দেন। ২০১১ সালের ২৭ নভেম্বর এসব এলাকায় পাহাড় কাটা কেন এখতিয়ার বর্হির্ভূত ও জনস্বার্থ পরিপন্থী ঘোষনা করা হবে না এবং পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত দুঃস্থদের পুনর্বাসনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিল আদালত। রিটে পরিবেশ, ভূমি ও গৃহায়ন সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক, সিলেট সিটি করর্পোরেশন, সিলেট বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার, সিলেট জেলা অধিদফতরের উপ-পরিচালক, সিলেট সদর, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, বিয়ানীবাজার, কোম্পানীগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ ১৫ জনকে বিবাদী করা হয়েছিল।

আদালতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) পক্ষে ছিলেন এডভোকেট ইকবাল কবির লিটন ও রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইয়াহিয়া জামান।

এ বিষয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রুবেল শরিফ ও জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক জাকারিয়া মাহমুদ প্রতিবেদককে জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট অফিসে এই ব্যাপারে এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ করেছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা সরেজমিনে এসে পাহাড় কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে ৪০ লক্ষ টাকা জরিমানা ঘোষণা করে চলে যান।

পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রহস্যজনক কারণে সামান্য কিছু টাকা জরিমানা করে পাহাড় কর্তন না করার অঙ্গীকার নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তারা ফিরে এসে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও কিছু প্রভাবশালী নেতাদের ছত্র-চ্ছায়ায় তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো জানান, পাহাড় কর্তনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার ভূমি এবং জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশে খবর দিলেও কোন কাজ হচ্ছে না, বরং নির্বিচারে পাহাড় কর্তন অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত আজমেরী হক এ প্রতিবেদককে জানান- আমি জৈন্তাপুর উপজেলায় নতুন যোগদান করে কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছি। তবে উপজেলার যে সব ইউনিয়নে পাহাড় ও টিলা কর্তন করা হচ্ছে তা সরেজমিন পরিদর্শন করে কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

Share





Related News

Comments are Closed