জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ!
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সামনে শনিবার (৩ এপ্রিল) দিনভর বিক্ষোভ করেছেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। পরে বিকেল সাড়ে ৫টায় কলেজ কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা ঘরে ফেরেন।
টুপি ও পাঞ্জাবি পরে নিয়মিত ক্লাসে আসায় জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আব্দুল হালিম ও আইসিটি বিভাগের প্রভাষক মুজাহিদুল ইসলামকে ‘অব্যাহতি’ প্রদানের প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন কলেজের সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
এর আগে আব্দুল হালিম ও মুজাহিদুল ইসলামকে ‘অব্যাহতি’র অভিযোগ ওঠার পর সিলেটজুড়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (৩ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে কলেজের সামনে প্রতিষ্ঠানের সাবেক ও বর্তমান কয়েক শ শিক্ষার্থী এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন শুরু করেন।
তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছেন- এ দুই প্রভাষককে অব্যাহতি দেয়া হয়নি। বরং প্রতিষ্ঠানের পোষাকবিধি মানতে না পারলে তারা স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিতে পারবেন- এমনটাই বলা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে কলেজের সামনে মানববন্ধনকালে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল আরিফুল ইসলাম রেজা।
কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তিনি বলেন, অনলাইনে যে বিষয়টি ভাইরাল হয়েছে তা সত্যি নয়। প্রভাষক আব্দুল হালিম ও মুজাহিদুল ইসলামের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বা তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়নি। গভর্নিং বডির ৫২তম মিটিংয়ে তাদেরকে ডেকে প্রতিষ্ঠানের পোষাকবিধি মানার জন্য কঠোরভাবে বলা হয় এবং ৩১ মার্চের আগে তাদেরকে তিনবার শোকজ পাঠানো হয়। কিন্তু বার বারই তারা দুজন প্রতিষ্ঠানের পোষাকবিধি মানতে অনীহা প্রকাশ করেন। সর্বশেষ ৩১ মার্চ গভর্নিং বডির মিটিংয়ে তাদেরকে ডেকে বলা হয়- প্রতিষ্ঠানের পোষাকবিধি না মানলে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিতে পারেন। তবে তাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। এটাই তাদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ।
তবে ভাইস প্রিন্সিপাল আরিফুল ইসলাম রেজার এমন বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেননি বিক্ষোভকারীরা। তাই তারা দিনভর কলেজ গেটের সামনে অবস্থান করে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। পরে সাড়ে বেলা ৩টার দিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে ৬ শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে মতবিনিময় করেন।
এসময় আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়- প্রয়োজনে কলেজের পোষাকবিধি পরিবর্তন করে প্রভাষক আব্দুল হালিম ও মুজাহিদুল ইসলামকে স্ব স্ব স্থানে পুনর্বহাল করতে হবে। এ মর্মে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে রোববার সকালে একটি লিখিত আবেদন ও সুপারিশ কলেজ কর্তৃপক্ষ বরাবরে দাখিল করা হবে। দাবিগুলো আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন করে তারা।
মতবিনিময়কালে আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। এসময় জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মো. কুদ্দুসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
Related News
সিলেটের তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে পর্যটকদের হয়রানি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সিলেট হাইওয়েRead More
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে : এমপি লুনা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, একটি শিক্ষিত ওRead More



Comments are Closed