Main Menu

গোলাপগঞ্জে মামলা দিয়ে ইউপি সদস্যকে হয়রানির অভিযোগ

Manual1 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) রুহেল আহমদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে উল্টো তাকেই মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে রুহেল আহমদ এ অভিযোগ করেছেন।

Manual4 Ad Code

গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের কিসমত মাইজভাগ ফকিরপাড়া গ্রামের মরহুম আব্দুল হাই চৌধুরীর ছেলে সুমন আহমদ চৌধুরী (৩৫), আবুল খায়ের চৌধুরী ওরফে রাজু আহমদ (৩৭) ও আবুল হাসনাত চৌধুরী (৩৯) মিথ্যা মামলা দিয়ে এবং সংবাদপত্রে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে মানহানির পাশাপাশি সামাজিক ও মানসিকভাবে তাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

Manual7 Ad Code

রুহেল আহমদ পশ্চিম নিমাধল গ্রামের ছয়ফুল ইসলাম আরব আলীর পুত্র। তিনি হেতিমগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী। ব্যবসার সূত্রেই অভিযুক্ত সুমন আহমদ চৌধুরী ও তার ভাইদের সঙ্গে পরিচয়। হেতিমগঞ্জ বাজারে রানী কসমেটিক্স এন্ড টেলিকম, মেসার্স ফেমাস বস্ত্র বিতান ও মেট্রো মোবাইল শপসহ নামে-বেনামে তিন ভাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

রুহেল আহমদ জানান, জাগরণ ঋণদান সমবায় সমিতির নামে চড়া সুদে ঋণ দান করতেন অভিযুক্ত তিন ভাই। সমিতিতে ১ লাখ টাকা দিলে প্রতিমাসে ৩ হাজার টাকা মুনাফা এবং যে কোনো সময় মূল টাকা তুলে নেওয়া যাবে বলে তারা রুহেল আহমদকে বুঝান এবং বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করেন। ২০১২ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত চারটি চেকে ১২ লাখ ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন রুহেল আহমদ। ২০১৩ সালে লাভের ২ লাখ টাকা দেওয়ায় তিন ভাইয়ের ওপর তার আস্থা বেড়ে যায়। এভাবে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি ৫৬ লাখ টাকা দেন। কিন্তু ২০১৫ সালের ২ মার্চ টাকা নেওয়ার পর তারা বদলে যান। ছলচাতুরি করে টাকা দিতে বিলম্ব করেন। পঞ্চায়েতের চাপে আবুল খায়ের চৌধুরী রাজু ২০১৭ সালের ২৫ মে একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন এবং একই বছরের ২০ অক্টোবর শালিস বৈঠকে তারা অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষরের পাশাপাশি ৭টি চেক প্রদান করেন। কিন্তু এসব চেক ব্যাংকে ডিজঅনার হয়। ২০১৭ সালের ২ ডিসেম্বর রাজু ফ্রান্সে পালিয়ে যায়। এরপর শালিস ব্যক্তিবর্গ, পঞ্চায়েত ও তিন ভাইয়ের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেও এ ব্যাপারেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় ডিজঅনার হওয়া ৭টি চেক দিয়ে মামলা করেন রুহেল আহমদ।

রুহেল আহমদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তারা পেশাদার প্রতারক এবং প্রতারণার মাধ্যমে তারা অনেককে সর্বস্বান্ত করেছে। গোলাপগঞ্জ মডেল থানাসহ সিলেটের বিভিন্ন থানায় তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা রয়েছে। আমি ৭টি চেক ডিজঅনার মামলা করার পর তারা আবারও প্রতারণার নীলনকশা করতে থাকে। ফ্রান্স থেকে রাজু ও দেশে থাকা সুমন বিষয়টি আপসে নিষ্পত্তির চেষ্টা করে। ২০১৯ সালের ৩০ জুন অ্যাডভোকেট কবির আহমদ বাবরের বাড়িতে শালিসগণের সামনে আপসনামায় স্বাক্ষর করে প্রতারক সুমন আহমদ। তার ভাইয়ের স্বাক্ষরের জন্য অপেক্ষা করা হয়। এরপর তারা আমাকে ৬ লাখ টাকা প্রদান করে এবং বাকি টাকার চারটি চেক প্রদান করে। এ সময় একটি চেক ডিজঅনার মামলার রায় হয়ে যায়। আপসনামার শর্ত অনুযাযী বাকি ৬টি মামলা প্রত্যাহার করে নেই।’

Manual8 Ad Code

রুহেল আহমদ সাংবাদিকদের জানান, এরপর সুমন ও তার ভাইদের পক্ষে হেতিমগঞ্জ গ্রামের সুনাহর আলীর ছেলে মুহিব মিয়া (৪৫) বিষয়টি নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে রুহেল আহমদের কাছ থেকে সুমন আহমদের দেওয়া চারটি চেক এবং ৩০ জুনের অঙ্গীকারনামার মূল কপি নিয়ে যান। এরপর তারা অঙ্গীকারনামা ভূয়া এবং কোনো টাকা লেনদেন হয়নি বলে অভিযোগ করে রুহেল আহমদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। জাল চুক্তি সম্পাদনের অভিযোগ এনে অ্যাডভোকেট করিম আকবরীকেও মামলায় আসামি করা হয়। জালিয়াতির অভিযোগে গোলাপগঞ্জে জনপ্রতিনিধি ও আইনজীবীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে বলে তারা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ করে।

রুহেল আহমদ বলেন, ‘বাধ্য হয়ে গত ১০ মার্চ আমি প্রতারক তিন ভাই সুমন আহমদ, আবুল খায়ের রাজু ও আবুল হাসনাত এবং চেক ও চুক্তিনামা আত্মসাৎ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য মুহিব মিয়াকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করি। গত ১৩ মার্চ গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় মামলাটি নথিভুক্ত (নং-১৮) হয়।

রুহেল আহমদ জানান, তিন ভাইয়ের একের পর এক প্রতারণায় তিনি এখন নিঃস্ব। সঞ্চিত অর্থ ও মূল্যবান জমি বিক্রি করে তিনি তাদেরকে টাকা দিয়েছিলেন। টাকা ফেরত না পাওয়ায় এখন তিনি পথে বসেছেন। মামলা দায়ের করায় তারা এখন রুহেল আহমদকে প্রাণনাশেরও হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু পুলিশ এখন পর্যন্ত এই মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, পাওনা টাকা উদ্ধার এবং নিরীহ মানুষকে তাদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে তিনি প্রশাসনের পদক্ষেপ চেয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক ইউপি সদস্য ছালেহ আহমদ ছালিক, হেতিমগঞ্জবাজারের ব্যবসায়ী ছালিক আহমদ, সুহেল আহমদ, ফয়সল আহমদ, রহমত আলী, হেলাল আহমদ ও তালাল আহমদ প্রমুখ।

Manual8 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code