Main Menu
শিরোনাম
সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮         সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৭         মাধবপুরে গার্মেন্টসকর্মীকে ধর্ষণ         শপথ নিলেন গোলাপগঞ্জ পৌর মেয়রসহ নির্বাচিত কাউন্সিলররা         রাজনগরে ৪০০ আ.লীগ নেতাকর্মীর নামে মামলা         কানাইঘাটে আ.লীগের লুৎফুর রহমান মেয়র নির্বাচিত         চুনারুঘাটে আ.লীগের রুবেল মেয়র নির্বাচিত         বিশ্বনাথে প্রতারণা মামলায় প্রবাসী কারাগারে         সিলেট পথে ঘন ঘন ট্রেন লাইনচ্যুতি, ব্যাহত রেলসেবা         সিলেটে আরো ৫ জনের করোনা শনাক্ত, সুস্থ ৮         জৈন্তাপুরে নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাক খালে, চালক-হেলপার নিহত         লালাবাজারে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫        

এমসি ছাত্রাবাসে ধর্ষণ, ফের পেছালো সাক্ষ্য গ্রহণ

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় আজ‌ বুধবারও সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ১১ টায় সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হকের আদালতে মামলার ৮ আসামিকে হাজির করা হলেও আসেননি কোনো সাক্ষী। এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি‌ সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখেও তা হয়নি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শহিদুজ্জামান চৌধুরী জানান, গত ২৪ জানুয়ারি আদালতে এ ঘটনায় হ‌ওয়া দুটি মামলা একসাথে বিচার কাজ শুরু করার আবেদন করেন। বিচারক আবেদন খারিজ করে দেন এবং আজকের তারিখ নির্ধারণ করেন। এ আদেশের প্রেক্ষিতে তিনি হাই কোর্টে আবেদন করেছেন।

তিনি জানান, একই ঘটনায় হ‌ওয়া মামলা পৃথক দুটি আদালতে পরিচালিত হলে সকলকে দুই জায়গায় সাক্ষী দিতে হবে এবং প্রশ্নবিদ্ধ বিচারের সম্ভাবনা দেখা দিবে।

বিচারক হাই কোর্টের আদেশ দ্রুত নিয়ে আসার জন্য এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে আজ বাদীপক্ষের আইনজীবীকে আদেশ করেছেন। এ মামলায় মোট ৫১ জনকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে। আজ মামলার বাদীসহ ৫ জনের সাক্ষ্য দেয়ার কথা ছিল।

আসামী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, বাদী পক্ষ চাচ্ছেন দুটি মামলার বিচার একই আদালতে চলতে। কিন্তু এটা আদালত মানেননি। অনুমতি নেয়ার জন্য বাদী পক্ষ হাইকোর্টে যাবেন। তবে ধর্ষণ মামলার বিচার কাজ এই আদালতেই চলবে। যার জন্য বুধবার আদালতে কোন সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পিপি রাশিদা সাঈদা খানম জানান, বাদীপক্ষের আইনজীবী সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ছিনতাই মামলা এক‌ই আদালতে একসাথে বিচার কাজ শুরু করার আবেদন করেন। বিচারক তা খারিজ করলে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। এজন্য আজ‌ও সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি।

গত ১৭ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করে আজ বুধবার (২৭ জানুয়ারী) স্বাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন আদালত।

এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আবুল কাশেমের আদালতে ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহপরান থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।

অভিযোগপত্রে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে দল বেঁধে ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত করা হয়। আসামি রবিউল ও মাহফুজুরকে ধর্ষণে সহায়তা করতে অভিযুক্ত করা হয়। আট আসামিই বর্তমানে কারাগারে আছেন। তারা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত। মামলার অভিযোগপত্রে ঘটনার পর আসামিদের পালিয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন পর্যায় প্রত্যক্ষ করা দুজনসহ ৫১ জনকে সাক্ষী রাখা হয়।

গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেট নগরীর বালুচর এলাকার এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক নারী (২০)। কলেজের গেট থেকে স্বামীসহ তাকে ধরে ছাত্রাবাসে এনে স্বামীকে বেঁধে নারীকে ধর্ষণ করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। এ ঘটনায় তার স্বামী বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। ঘটনার পর আসামিরা ছাত্রাবাস থেকে পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ ও র‍্যাব। গ্রেফতারের পর আটজন আসামিকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আটজন আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।

 

 

0Shares





Related News

Comments are Closed