Main Menu

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজয় দিবসেও সংঘর্ষ!

শাহাব উদ্দীন ওয়াসিম, ইবি প্রতিনিধি: শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কর্মকর্তাদের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ফুলের ডালি ভাংচুর, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সাংবাদিকদের হুমকি, ভিসির নিকট পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ইত্যাদি ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনকালে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ‘মুক্ত বাংলা” প্রাঙ্গনে এসব ঘটনা ঘটে। এর আগেও ১৪ ডিসেম্বর স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়ার সময় কর্মকর্তাদের দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে, সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আবদুস সালাম ও প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন। পরে বেলুন উড়ানোর মধ্য দিয়ে দিবসের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। এসময় ভিসি প্রো-ভিসি’র নেতৃত্বে সকলে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের জন্য মুক্ত বাংলায় মিলিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিসি প্রফেসর ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান ও রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ মুক্তবাংলায় শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। এসময় পর্যায়ক্রমে ইবি শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি, ইবি শাখা ছাত্রলীগ ও কেন্দ্র ঘোষিত বঙ্গবন্ধু পরিষদ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে।

পরে ফুল দেওয়ার সময় অফিসার্স এসোসিয়েশনের একাধিক সদস্য জুতা পায়ে বেদিতে ফুল দিতে উঠে। এসময় পাশ থেকে ছাত্রলীগের কর্মীরা জুতা পায়ে বেদিতে উঠছেন বলে হৈচৈ শুরু করে। সাথে সাথে কর্মকর্তা সমিতির সদস্যরাও হৈ হুল্লোড় শুরু করে দিলে অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা তাদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়। মুহুর্তের মধ্যে কর্মকর্তা-ছাত্রলীগ এক জোট হয়ে তাদের উপরও চড়াও হয়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং ফুলের ডালি নিয়ে টানাহেচড়ার এক পর্যায়ে তা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। এসময় উভয় গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনা চলাকালে তাদের হাতে বাঁশ ও লাঠি-সোটা দেখা যায়। কর্মকর্তা সমিতির সদস্যরা একপর্যায়ে মুক্ত বাংলা চত্ত¡র থেকে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ ম্যুরাল ও ক্যাম্পাস গেইটে মহড়া শুরু করে এবং বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে। এ সময় তাদের ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের কাজে বাঁধা দেন আব্দুল আজিজ, সেলিমসহ কয়েকজন উত্তেজিত কর্মকর্তা।

ঘটনার পরপরই কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে নিজেদের দুঃখ প্রকাশ ও ভুল স্বীকার করেন এবং সাংবাদিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

এদিকে একই সময়ে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে হাতাহাতিতে জড়িয়েছে সহায়ক কর্মচারীদের দুটি গ্রুপ। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়ক টেকনিক্যাল কর্মচারী সমিতি ও ফুল দিতে গেলে বাঁধা দেয় সহায়ক কর্মচারি সমিতি। সেখানেও হট্টগোল সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে একে অপরের পুষ্পস্তবক ছিড়ে ফেলেন। এসময় সহায়ক কর্মচারী সমিতির সভাপতি আব্রাহাম লিংকন, সহায়ক টেকনিক্যাল কর্মচারী সমিতির কোষাধ্যক্ষ সালেহ আকরাম আকুলসহ কয়েকজন আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে জানা গেছে।

এরপর ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ও মুক্ত বাংলা প্রাঙ্গনে উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের ঘটনাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে এমনকি প্রধান ফটকের সামনে খুলনা-কুষ্টিয় মহাসড়ক এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এসময় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ব্যর্থ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান সবাইকে শান্ত হওয়ার আহবান জানালে তখনও হাতাহাতি চলতে থাকে। এসময় উত্তপ্ত পরিবেশে ইবি শাখা ছাত্রলীগের সহযোগিতায় বিভিন্ন হল, বিভাগ ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে।

পরে কর্মকর্তাদের উভয় গ্রুপ ভিসি’র নিকট ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। তবে উভয় গ্রুপেরই দাবি ঘটনাটি কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা নয় এটি অবশ্যই পূর্ব পরিকল্পিত। এর আগেও গত ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়াতে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গ্রুপের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও উত্তাপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের বিষয়ে প্রক্টর প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন বলেন, “এটা একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা। আমরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অংশ হিসেবে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছি যাতে এ ধরণের ঘটনা না ঘটে। এখানে আমরা যারা ছিলাম সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী। ভবিষ্যতে যেন এ ধরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সেই বিষয়টা লক্ষ্য রাখার জন্য সকলকে অনুরোধ করছি।”

এ ঘটনায় ভিসি প্রফেসর ড. আবদুস সালাম বলেন, “জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করার জিনিষ। আমি মনে করি যারা জাতীয় দিবসগুলোতে সংকীর্ণ মন মানসিকতা নিয়ে এ ধরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তাদের এ ধরণের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করাই ঠিক না।”

তিনি আরও বলেন ,এধরণের পরিবেশ সৃষ্টিকারীদের আচরণ অনভিপ্রেত এবং এটা শহীদদের প্রতি অবমাননার শামিল।

এদিকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এমন মারামারি ও পুষ্পমাল্য ভেঙে পায়ে মাড়ানোর ঘটনায় ক্যাম্পাসে নিন্দার ঝড় বইছে। ইবি জিয়া পরিষদ, সাদ দল, শাপলা ফোরাম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রমৈত্রীসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষক সংগঠনও ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। এছাড়া এই ঘটনাকে ইবি’র ইতিহাসের জঘন্যতম ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সরব হয়েছেন সাবেক বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

 

Share





Related News

Comments are Closed