Main Menu

বিশ্বনাথে কিশোরীর লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : সিলেটের বিশ্বনাথে ফাতেমা বেগম (১৫) নামের এক কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবার সন্ধা ৭টার দিকে উপজেলার অলংকারি ইউনিয়নের পেশকারগাঁও গ্রামের ফাতেমার স্বামী রফিক আলীর বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।

ফাতেমার মা মনোয়ারা বেগমের অভিযোগ তার মেয়েকে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন হত্যার পর রশি দিয়ে তীরের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহতের মা মনোয়ারা বেগম সাংবাদিকদের জানান, গত ৫ মাস পূর্বে তার মেয়ে ফাতেমাকে অলংকারি ইউনিয়নের পেশকারগাঁও গ্রামের রফিক আলীর সাথে বিবাহ দেন। বিবাহের কয়েকদিন পর থেকেই মেয়ের স্বামী রফিক আলী শুরু করে শশুর বাড়ির কাছে বিভিন্ন দাবি-ধাওয়া। কখনও টাকা, আবার কখনও মোবাইলফোনসহ অনেক কিছু। ফাতেমার মা-বাবা দিন মজুর থাকায় মেয়ের স্বামীর সকল আবদার পুরণ করতে পারেনি। গত শনিবার দুপুরে ফাতেমা তার মা-বাবাকে মোবাইল ফোনে জানায়, তার স্বামীকে যেন আর কিছুই না দেয়। কারন স্বামী তাকে যখন তখন অমানবিক নির্যাতন করে। এরপর থেকেই আর ফতেমার সাথে কথা বলতে পারেনি তার বাবা-মা। সন্ধায় খরব আসে ফাতেমা নাকি আত্নহত্যা করেছে।

ফাতেমার ১০ বছরের এক ছোট ভাই জানায়, ১০/১২ দিন পূর্বে সে ফাতেমার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। তখন কাছা লাকড়ি দিয়ে রান্না করতে না পারায় তার স্বামী বেধড়কভাবে লাঠি পেটা করেছে। পরে বাড়ির লোকজন এসে ফাতেমাকে রক্ষা করে। নতুবা ঐদিনই তাকে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন মেরে ফেলত।

এদিকে ফাতেমার লাশ স্বামীর বাড়ির লোকজন তাদের এলাকায় দাফন না করে সিলেট নগরীর মানিক পীর টিলায় দাফন করতে চাইলে ফাতেমার মা-বাবা বাঁধা দেন এবং লাশ বিশ্বনাথ পৌর এলাকার মুফতির গাঁও গ্রামে দাফন করা হয়।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানা গেছে।

এব্যাপারে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ ওসি শামীম মুসা সাংবাদিকদের জানান, লাশের গায়ে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার পরও ময়না তদন্তে হত্যার প্রমান পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

Share





Related News

Comments are Closed