Main Menu
শিরোনাম
খাদিমে নাঈম হত্যা, আরও ২ কিশাের গ্রেপ্তার         সিলেটে দুই ল্যাবে ৪ জনের করোনা শনাক্ত         সিলেটে আরও ৩০ জনের করোনা শনাক্ত, সুস্থ ৫৭         প্রবাসী পরিচয়ে তরুণীর সর্বনাশ, প্রতারক গ্রেপ্তার         জামিন পেলেন সুনামগঞ্জ পৌর মেয়র নাদের বখত         সুনামগঞ্জে নতুন ঘর পাচ্ছে ৩৯০৮টি গৃহহীন পরিবার         কমলগঞ্জে প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষনের শিকার         নবীগঞ্জে মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় কলেজ ছাত্রের মৃত্যু         সিলেটে ১ হাজার ৪০৬ গৃহহীন পেলেন নতুন বাড়ি         সিলেটে করোনায় আরো ৬ জন আক্রান্ত, সুস্থ ৪৭ জন         ধোপাগুলে শিশুকে ধর্ষণ, যুবক আটক         খাদিমে নাঈম খুন, ডেকে নেওয়া বন্ধু আটক        

রায়হান হত্যায় অভিযুক্ত এসআই আকবর গ্রেপ্তার

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটে রায়হান হত্যাকান্ডের প্রধান অভিযুক্ত নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) এস আই আকবরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার সকালে কানাইঘাট উপজেলার ডনা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

১৯ বিজিবি’র অধিনায়ক লে: কর্নেল রফিকুল ইসলাম পিএসসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আকবর আটক হওয়ার একটি ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হয়েছে।

তিনি জানান, ভারতের শিলচর এলাকায় স্থানীয় এলাকাবাসী এস আই আকবরকে আটক করেন। এরপর রহিম নামের এক বাংলাদেশীর কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। এরপর সীমান্ত এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে।

জানা যায়, সোমবার (৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের একটি দল তাকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে। ২৮ দিনের মাথায় কানাইঘাটের ডনা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট পিবিআই’র পুলিশ সুপার খালেকুজ্জামান। তিনি জানান, পিবিআই’র একটি দল কানাইঘাট এলাকায় রওয়ানা হয়েছে।

জানা যায়, পুলিশ হেফাজতে গত ১১ অক্টোবর নগরীর আখালিয়া এলাকার যুবক রায়হান আহমদ মারা যাওয়ার ঘটনায় এসএমপির এসআই আকবরসহ ৪ জনকে সাময়িক বহিস্কার ও ৩ জনকে প্রত্যাহার করা হয়। বরখাস্তদের মধ্যে রয়েছেন কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ ও টিটু দাস। প্রত্যাহার হওয়া তিনজন হলেন- এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেন।

এদিকে এসআই আকবরকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান । তিনি জানান, ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে কানাইঘাটের ডনা সীমান্ত থেকে জেলা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

গত ১০ অক্টোবর শনিবার মধ্যরাতে রায়হানকে নগরীর কাষ্টঘর থেকে ধরে আনে বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ। পরদিন ১১ অক্টোবর ভোরে ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, ফাঁড়িতে ধরে এনে রাতভর নির্যাতনের ফলে রায়হান মারা যান। ১১ অক্টোবর রাতেই রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন।

গ্রেফতারকৃত এসআই আকবর

এদিকে, সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মো. আজবাহার আলী শেখের তত্ত্বাবধানে মহানগর পুলিশের তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে ফাঁড়িতে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়। এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এর পর থেকে প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর বর্তমানে পলাতক ছিলেন। তাকে পালানোতে সহায়তা ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ২১ অক্টোবর ফাঁড়ির আরেক এসআই হাসানকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

তখন গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দুইদিন পরই আকবর সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতের মেঘালয়ে পালিয়ে যান।

এদিকে গত ১৩ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য রায়হানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল বাতেন। পরে গত ১৫ অক্টোবর পিবিআই সিলেটের আখালিয়া নবাবি মসজিদ কবরস্থান থেকে রায়হানের মরদেহ উত্তোলন কাজ শেষ করে। ময়না তদন্তের রিপোর্টে জানা যায় ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতেই রায়হানের মৃত্যু হয়।

পিবকিআই এঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও হারুন উর রশিদকে দুই দফায় আটদিন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহীকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তবে তারা কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হননি। এছাড়া রায়হানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগকারী সাইদুর শেখ নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

 

 

0Shares





Related News

Comments are Closed