সিলেটে স্কুলছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ
বৈশাকী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট সদর উপজেলার সর্দারগাঁও এলাকায় ৫ম শ্রেণীর এক ছাত্রী (১৩) ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় ওই স্কুল ছাত্রীর পিতা রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে জালালাবাদ থানায় দুজনকে আসামী করে মামলা (নং-৮) দায়ের করেছেন। ওইদিন রাতেই ওই স্কুল ছাত্রীকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে। স্কুল ছাত্রী রায়েরগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী।
আসামিরা হচ্ছে, জালালাবাদ থানাধীন রায়েরগাঁও এলাকার নাছির আলীর ছেলে জসিম মিয়া ও সর্দারগাঁও এলাকার তজম্মুল আলীর ছেলে এখলাছ আলী।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন করেন জালালাবাদ থানার এসআই জুবায়ের আহমদ। তিনি বলেন, স্কুল ছাত্রীকে প্রায় সপ্তাহ খানেক আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় স্কুল ছাত্রীর পিতা রবিবার রাতে দুজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। তাকে ওসিসিতে ওইদিন রাতেই ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ মামলার আসামীদেরকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
স্কুল ছাত্রীর পিতা বলেন, গত রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে আমার মেয়ে বাড়ির বাথরুমে যায়। ওই সময়ে বিদ্যুৎ ছিলো। একটু পরেই আবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এই ফাঁকে সর্দারগাঁও গ্রামের এখলাছ আমার মেয়েক মুখে চেপে ধরে ও রায়েরগাঁও গ্রামের জসিম আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে যায় বাছাই নদীর চরে। ওইখানে তারা দুজন মিলে ধর্ষণ করে। এরপর তারা আমার মেয়েকে নৌকায় করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য রাতে নদীর পাড়ে যায়। সেখানে মেয়েটির মামা বিষয়টি দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসেন। এসে দেখেন তাদের কাছে তার স্কুল পড়ুয়া ভাগ্নি। এরপর তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্কুল ছাত্রীকে ফেলে ঘটনার হোতারা দ্রুত পালিয়ে যায়। আমাদের পরিবার হিন্দু ধর্মের। আর আসামীরা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি। এজন্য ভয়ে গত এক সপ্তাহ কাউকে কিছু বলিনি।
এদিকে, গত আট মাসে সিলেট বিভাগে ৩৪০ জন কিশোরী-তরুণী, গৃহবধু ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আর এই সময়ে যৌন হয়রানি বা নানাভাবে আক্রান্ত হয়েছেন আরো ৪১৩ জন নারী। এ তথ্যটি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) সুত্রে জানা গেছে।
ওসিসি থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, জানুয়ারী মাসে ওসমানীর ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার আক্রান্ত ভিকটিমের সংখ্যা ছিলো ৬১ জন। এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন অর্ধশতাধিক কিশোরী-তরুণী-গৃহবধূ। ফেব্রুয়ারী মাসে ওসিসিতে চিকিৎসা নেন ৬৮জন। এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৫০জন। মার্চ মাসে চিকিৎসা নেন ৬৭জন। এরমধ্যে ৫২ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
এপ্রিল মাসে ২৪ জন ওসিসিতে চিকিৎসা নেন। এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার হন ২৩ জন। মে মাসে ২৮ জন ভিকটিম চিকিৎসা নিলেও ধর্ষণের শিকার হন ২৬ জন। জুন মাসে ৪৫ জন ভিকটিম চিকিৎসা নিলেও এদের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীর সংখ্যা ৩৭ জন। জুলাই মাসে ওসিসিতে চিকিৎসা নেন ৪৫ জন, এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার হন ৪৩ জন।
আগস্ট মাসে ওসমানীর ওসিসিতে ৫৮জন ভিকটিম চিকিৎসা নেন। এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার নারীর সংখ্যা ৪৮ জন। চলতি মাসের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওসিসিতে চিকিৎসা নেন ১৭ জন ভিকটিম। এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীর সংখ্যা ১১ জন।
সিলেট মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কার্যালয়ের উপপরিচালক শাহিনা আক্তার জালালাবাদকে বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের ঘটনায় বেড়েছে পরকিয়া প্রেম। সিলেটে বেশীর ভাগই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে প্রেম সংক্রান্তে। এসব ঘটনায় আক্রান্ত বেশী হচ্ছে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণীরা। মাঝে মধ্যে পরকিয়ার জেরে বিয়ের আশ্বাসে প্রতারিত হয়ে ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন অনেক গৃহবধূ। ধর্ষণ ও যৌন হয়রানী রুখতে হলে পরিবারিক ও ধর্মীয় শিক্ষার কোন বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন ওই নারী কর্মকর্তা।
Related News
কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচা নিয়ে টর্চ জ্বালিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৪০
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচার দেনাপাওনা নিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যেRead More
বিশ্বনাথে স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেফতার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় কছির আলী (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকেRead More



Comments are Closed