ঘুরে আসতে পারেন পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত
পর্যটন ডেস্ক: করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন লকডাউনে থাকার কারণে শরীর মনে এক ধরনের অস্বস্তি আসতে পারে। ছোট হয়ে আসতে পারে আপনার পৃথিবী। লকডাউনের কারণে দেশের সকল বিনোদন স্পট বন্ধ ছিল। বর্তমানে সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের বিনোদন স্পটগুলো খুলে দিতে শুরু করেছে। এ সময় নিজে ও পরিবার নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত থেকে। সাগরের বুকে অস্তমিত সূর্যের ম্রিয়মান আলোর রূপ দেখতে, বিশুদ্ধ বাতাসে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারেন। সাগরের উত্তাল হাওয়া সাময়িকভাবে হলেও বুকের ভিতর জমে থাকা দীর্ঘশ্বাসের কষ্ট ভুলিয়ে দেবে। বিস্তৃত সাগর সূর্য্যাস্তমিত বিকেল বিষণ্ন মনকে ছন্দে মাতিয়ে তুলতে পারে!
পতেঙ্গা চট্টগ্রাম শহরের সমুদ্রসৈকত যা কর্ণফুলী নদীর মোহনায় বন্দরনগরী থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। এটি চট্টগ্রাম শহরের একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর ঘাঁটি বিএনএস ঈসা খান পতেঙ্গার সন্নিকটে অবস্থিত। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের অনেক জেটি ও নেভাল একাডেমি এখানে রয়েছে।
পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের একদিকে সমুদ্র তলদেশ দিয়ে নির্মিত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম টানেল। এ টানেল সন্নিহিত এলাকায় নির্মিত হয়েছে ১৭ কিলোমিটারব্যাপী সিটি আউটার রিং রোড। আউটার রিং সড়ক থেকে সমুদ্রের দিকে নামতেই ৩০ ফুট প্রশস্তের হাঁটাপথ। এরপরেই অভ্যর্থনা জানাবে সুসজ্জিত বাগানের রং-বেরঙের বর্ণিল নানা ধরনের ফুল। এরপর বসার জন্য হাজারো আসন। এত উপভোগের পরেই হাঁটা যাবে সৈকতে, মিলবে সমুদ্রের নোনা পানি ছোঁয়ার স্বাদ।
সাধারণত বিকেল গড়াতে থাকলে জোয়ার আসতে শুরু করে। জোয়ার শুরুর আগে বাঁধ অনেকটা তলিয়ে যায়। তীরে এসে পড়ে ঢেউ। তবে প্রতিদিন দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে দর্শনার্থীরা ভিড় করেন। এখানে সবচেয়ে ভালো লাগবে সন্ধ্যার পরিবেশ। সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের দৃশ্য মনকে আরো বেশি পুলকিত করবে। সুতরাং সৈকতে থাকতে পারবেন সন্ধ্যা পর্যন্ত। এখানে রয়েছে ২০ টাকায় ঘোড়ার পিঠে চড়ার সুযোগ। সেইসাথে আছে ৩০ টাকায় স্পিড বোট কিংবা কাঠের নৌকায় ওঠার সুযোগও।
জাহাজের চলাচল কিংবা মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া উড়োজাহাজও দেখবেন। ডিজিটাল ক্যামরা বা ডিএসএলআর দিয়ে ছবি তোলার জন্য রয়েছে অসংখ্য ফটোগ্রাফার। চাইলে টাকার বিনিময়ে সুন্দর সুন্দর ছবিও তুলতে পারবেন তাদের মাধ্যমে।
সমুদ্র সৈকতের সাথেই ঝাউবনের ছায়াতলে গড়ে উঠেছে খাবারের দোকানসহ অনেক দোকান-পাট। খুব কম খরচে সুস্বাদু জিভে জল আনা স্ট্রিট ফুডের জন্য পতেঙ্গা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মসলা দিয়ে ভাজা কাঁকড়ার কথা না বললেই নয়, যা শসা ও পেঁয়াজ দিয়ে সাজানো এক প্লেট ছোলার সঙ্গে পরিবেশিত হয়। সৈকতে একটি বার্মিজ মার্কেটও গড়ে উঠেছে। সেখানেও ঘুরে ফিরে পছন্দের কেনাকাটা সেরে নেয়া যায়। একবার পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে পা রাখলে আপনার আর ফিরতে ইচ্ছে করবে না।
এছাড়া এই সমুদ্র সৈকতে শীতকালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকেরা পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে পিকনিক করতে আসে। এখানে সুটকি মাছ, সামুদ্রিক হস্ত শিল্প সামগ্রী পাওয়া যায়। নিরাপত্তার জন্য একটি পুলিশ বক্স রয়েছে।
যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সড়ক, রেল ও আকাশ পথে যেতে পারেন চট্টগ্রাম শহরে। এছাড়া নগর থেকে সড়ক পথে যেতে চাইলে অলংকার মোড়, এ কে খান হয়ে সরাসরি চলে যেতে পারবেন সৈকতে। সি-বিচ লেখা বাসগুলোতে চেপে বসলেই হবে শুধু। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন জায়গা থেকে সিএনজি ও অটোরিকশা নিয়েও যাওয়া যায়। এখান থেকে নেভাল বা সৈকত যেতে পারেন।
কোথায় থাকবেন?
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের কাছেই আধুনিক থাকার ব্যবস্থা আছে বাটারফ্লাই পার্কে। এখানকার রেস্টহাউজে কক্ষে বসেই উপভোগ করা যায় বাহারি প্রজাপতির ওড়াউড়ি। এ পার্কের বাটারফ্লাই স্যুইট কক্ষের প্রতিদিনের ভাড়া ৭,০০০ টাকা, সুপার ডিলাক্স কক্ষের ভাড়া ৫০০০ টাকা ও সাধারণ কক্ষের ভাড়া ৪০০০ টাকা। (লেখক: মনির ফয়সাল, চট্টগ্রাম)।
Related News
রাঙ্গামাটির সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
পর্যটন ডেস্ক: রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাঙ্গামাটি জেলাRead More
ধলাই নদ-সীমান্তের বুকজুড়ে সৌন্দর্যের হাতছানি
হাবিব সরোয়ার আজাদ: পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা স্বচ্ছ জল, সাদা পাথর আর সবুজ পাহাড়-সবRead More



Comments are Closed