Main Menu

যে কারণে ওসমানীনগরে প্রবাসী বৃদ্ধাকে খুন

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের ওসমানীনগরে ৫ হাজার টাকার জন্য যুক্তরাজ্য প্রবাসী রহিমা বেগম আমিনাকে (৬০ খুন করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে প্রবাসী নারীর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধারের পরপরই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত আব্দুল জলিল ওরফে কালু মিয়া (৩৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে উপজেলার নগরীকাপন গ্রামের মৃত আব্দুল কাছিমের ছেলে।

পুলিশ বলছে, শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য জানিয়েছেন আব্দুল জলিল কালু। গ্রেফতারকৃত কালু ২০০৭ সালে গোয়ালাবাজারে একইভাবে সংঘটিত হওয়া একটি হত্যা মামলারও আসামি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের কটালপুর গ্রামের মৃত আখলু মিয়ার স্ত্রী যুক্তরাজ্য প্রবাসী রহিমা বেগম ওরফে আমিনা (৬০) তার ৪ সন্তানসহ যুক্তরাজ্যে থাকতেন। গত ২ বছর ধরে গোয়ালাবাজারের করনসী রোডে নিজস্ব বাসায় তিনি একা বসবাস করছেন। পার্শবর্তী হেলাল ভিলায় ভাড়া থাকতো নগরীকাপন গ্রামের আব্দুল কাছিমের ছেলে আব্দুল জলিল ওরফে কালু।

পাশাপাশি বাসা থাকায় পরিচিতর সুবাদে কালু গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রবাসী রহিমা বেগমের কাছে ঈদ উপলক্ষে ৫ হাজার টাকা ধার চায়। রহিমা বেগম টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং কালুকে তাড়িয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রহিমা বেগমকে খুন করার পরিকল্পনা করে কালু। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত মঙ্গলবার রহিমার ঘরে লুকিয়ে থাকে কালু। কিছু সময় পর সে পিছন থেকে রহিমার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে রহিমা মাটিতে পরে যান। এরপর নড়াচড়া করতে থাকায় বটি দা দিয়ে তার গলা কেটে দেয় কালু। পরবর্তীতে ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায় কালু।

রহিমা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেল থেকে বন্ধ থাকায় দেশে তার আত্মীয়রা বৃহস্পতিবার রাতে রহিমা বেগমের বাসায় গিয়ে বাসাটি তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে গভীর রাতে থানা পুলিশের উপস্থিতিতে গেইট ও দরজার তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে বাথরুমের মেঝেতে রহিমা বেগমের গলা কাটা রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় রহিমা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার সকাল ১০টায় সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন পিপিএম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) রফিকুল ইসলাম, থানার ওসি শ্যামল বনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়া পুলিশ ইনভেস্টিগেশন অব ব্যুরো (পিবিআই) ও সিআইডির দুটি টিম ঘটনাস্থলে এসে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ওসমানী হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

এদিকে, শুক্রবার রাতে এ ঘটনায় একটি হত্যা মালমা দায়ের করেন নিহত রহিমার ছোট ভাই উপজেলার দিরারাই গ্রামের আব্দুল কাদির। মামলা দায়ের এবং লাশ উদ্ধারের পর হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে তৎপর হয়ে উঠে পুলিশ। এক পর্যায়ে শুক্রবার দিনগত রাত সোয়া ৩টার দিকে গোয়ালাবাজারস্থ হেলাল ভিলা (করনসী রোড) থেকে আব্দুল জলিল কালুকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে কালু তাকে ৫ হাজার টাকা ধার না দেওয়ায় রহিমা বেগমকে গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করেন। শনিবার (১ আগস্ট) পুলিশ তাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রহিমা বেগমের মোবাইল ফোন ও ২৮ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে সংঘটিত এ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত বটি দা উদ্ধার করে।

ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বনিক বলেন, ‘নিহতের ভাই আব্দুল কাদির বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনার সাথে সে জড়িত ছিল বলে স্বীকার করেছে। আব্দুল জলিল কালুকে গ্রেফতারের পর তার স্বীকারোক্তি মতে টাকা ধার না দেওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে সে একাই প্রবাসী মহিলাকে গলা কেটে হত্যা করেছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে। ইতোমধ্যে খুনের আলামত জব্দ করা হয়েছে। রোববার আদালতে আসামীকে সোপর্দ করা হবে।’

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজারস্থ করনসী রোডে রহিমা বেগম আমেনার নিজস্ব বাসা থেকে তার গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রহিমা বেগম উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের কটালপুর গ্রামের মৃত আখলু মিয়ার স্ত্রী। তিনি গোয়ালাবাজারস্থ নিজস্ব বাসায় একা থাকতেন।

Share





Related News

Comments are Closed