ওসমানীনগরে বাস-কার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৫
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের ওসমানীনগরে যাত্রীবাহী বাস ও কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত এবং ১ জন আহত হয়েছেন। হতাহতরা সবাই কারের যাত্রী। তারা শ্রীমঙ্গল থেকে সুনামগঞ্জে গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের বরায়া চাঁনপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার শ্যামনগর গ্রামের স্বপন কুমার দাস ও তার স্ত্রী লাভলী রানী দাস ও ৮ বছর বয়সী তাদের দুই জমজ সন্তান শৈবাল দাস ও সৌমিত্র দাস এবং প্রাইভেটকারের গাড়ি চালক হাশেম। তিনি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তাদের আরেক সন্তান সৌরভ দাসকে (১২) গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এবং নিহতদের মরদেহ ওসমানী হাসাপাতালে রাখা হয়েছে।নিহত স্বপন কুমার দাস ব্রাকের একজন কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর পরই ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ করেন। এসময় দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া কারটি কেটে নিহতদের মরদেহ বের করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রীমঙ্গল থেকে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা কারটির সাথে সিলেট থেকে কুমিল্লাগামী কুমিল্লা টান্সপোর্টের বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সিলেট হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মায়নুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বাস ও কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ৫জন নিহত হন। তাদের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। নিহত সবাই প্রাইভেটকারের যাত্রী ছিলেন। তারা শ্রীমঙ্গল থেকে সুনামগঞ্জের গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন।
এছাড়া গুরুতর আহত একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাসটি জব্দ করা হয়েছে।
সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি ওসমানীনগর থানা পুলিশও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে।
জানা যায়, দিরাইয়ের শ্যামারচরের বাসিন্দা স্বপন কুমার দাশ কাজ করতেন বেসরকারি সংস্থা ব্রাকে। থাকতেন মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে। করোনা ভাইরাসের কারণে গত ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়া হয়নি তাদের। এবার ছুটির মেয়াদ কম হলেও নাড়ির টানে স্বপরিবারে প্রাইভেট কার নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তাড়াতাড়ি বাড়ি যেতে স্ত্রী লাভলি, বড় ছেলে সৌরভ ও দুই জমজ শিশু সন্তান সৌমিত্র আর শৈবালকে নিয়ে শুক্রবার সকালেই রওয়ানা হন। কিন্ত কে জানতো এই যাত্রাই তার শেষ যাত্রা হবে!
সকাল সাড়ে ৭টায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকায় ঢাকাগামী কুমিল্লা ট্রান্সপোর্টের একটি বাস তাদের প্রাইভেটকারটিকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান চালকসহ ৫জন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার কাজ শুরু করলে অনেকটা ভাগ্যক্রমে তারা জীবিত উদ্ধার করেন বড় ছেলে সৌরভকে, তার অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন।
উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া সিলেট ফায়ার সার্ভিসের উপ পরিচালক কোবাদ আলী বলেন, বাসের চাপায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া প্রাইভেট কারটি কেটে টুকরো করে সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সৌরভকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসে। প্রয়োজনীয় রক্তও দান করেন তারা।
নিহত স্বপন কুমারের বোন দোলন দাস জানান, সাতমাস পর ভাইয়ের মুখ দেখার জন্য আকুল ছিলেন তিনি। সেইতো বাড়ি এল, কিন্তু এই আসা কেমন আসা।
একই পরিবারের ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দিরাই উপজেলার শ্যামারচর গ্রামে স্বপন কুমার দাসের এলাকায় শকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
Related News
কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচা নিয়ে টর্চ জ্বালিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৪০
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচার দেনাপাওনা নিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যেRead More
বিশ্বনাথে স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেফতার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় কছির আলী (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকেRead More



Comments are Closed