ছাতকে হুমকিতে সোনাই নদীর রাবার ড্যাম প্রকল্প
সেলিম মাহবুব, ছাতক (সুনামগঞ্জ) থেকে: ছাতকে অপরিকল্পিত ভাবে পাথর ডাম্পিং এবং লোডিং-আনলোডিংয়ের কারনে হুমকীর মুখে পড়েছে সোনাই নদীর বেড়ীবাঁধ ও রাবারড্যাম প্রকল্প। কতিপয় পাথর ব্যবসায়ী পাথর লোডিং-আনলোডিংয়ে সহজ সুবিধা নিতে বেড়ীবাঁধ কেটে ক্ষত-বিক্ষত করে তুলে গোটা প্রকল্পকে হুমকীর মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ফেলোডার দিয়ে নৌকায় পাথর লোডিং করতে বেড়ীবাধের বেশ কয়েকটি জায়গা কেটে ফেলা হয়েছে। আবার কোন-কোন ব্যবসায়ী রাবার ড্যাম এর গোড়ায় পাথর ডাম্পিং করে ওই পাথর নৌকায় লোড করতেও দেখা গেছে। সরকারী সম্পদ নষ্ট করে স্থানীয় এসব প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা দাপটের সাথে সোনাই নদী বেড়ী বাঁধের উপর জমজমাট ব্যবসা করে যাচ্ছে। স্থানীয়রা এর প্রতিবাদ করলেও এসব পাথর ব্যবসায়ীদের অশুভ শক্তির কাছে তাদের হার মানতে হচ্ছে বার বার।
বেড়ীবাধ ক্ষত-বিক্ষত হওয়ায় আগামী বোরো মৌসুমে ধান চাষাবাদের ক্ষেত্রে পানি সেচের তীব্র সংকট সৃষ্টিরও আশংকা করছেন এখানের কৃষকরা।
জানা যায়, উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বাহাদুর-বৈশাকান্দি এলাকার ১০ সহশ্রাধিক অনাবাদী জমিকে আবাদের আওতায় আনতে ২০০৮ সালে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সোনাই নদীর উপর রাবারড্যাম ও উভয় পাড়ে বেড়ীবাঁধ নির্মাণ করা হয়। রাবারড্যাম প্রতিষ্ঠার পর এখানের কৃষকদের ভাগ্যে উন্মোচিত হয় সম্ভাবনার এক নতুন দ্বার এবং সোনালী ফসল তুলতে পারে ঘরে। শেষ বর্ষায় রাবার ফুলিয়ে সোনাই নদীর পানি আটকিয়ে বোরো চাষাবাদে এসব পানি ব্যবহার করে এখানের কৃষকরা।
গত কয়েক বছর ধরে নদীর পূর্ব পাড়ে বেড়ীবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় পাথর ডাম্পিং করে ব্যবসা পরিচালনা করতে থাকে স্থানীয় কতিপয় ব্যবসায়ীরা। বর্ষা মৌসুমে পাথর লোডিং-আনলোডিংয়ে ফেলোডার বা ট্রাক্টর ব্যবহারের সুবিধার্থে এসব ব্যবসায়ীরা সরকারী বেড়ীবাধকে কেটে বাড়তি সুবিধা ভোগ করে থাকে। আবার বর্ষা শেষে ক্ষত-বিক্ষত বেরীবাঁধ মেরামতের কথা বলে এসব ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে চাঁদাও আদায় করে যাচ্ছে।
কয়েক বছর ধরে বেড়ীবাধের উপর পাথর ব্যবসায়ীদের চলে আসা তান্ডবে অস্থিত্ব হারাতে বসেছে সোনাই নদী বেড়ীবাঁধ ও রাবার ডাম্প। বিষয়টি দেখার যেন৷ কেউ নেই এখানে।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির, স্থানীয় ইউনুস আলী, আমির উদ্দিন, আবু তাহের, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান, মমতাজ আলী, বিল্লাল মিয়াসহ লোকজন জানান, বেড়ীবাঁধটি বর্তমানে খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বাঁধের বিভিন্ন স্থান কেটে ফেলা হয়েছে পাথর পরিবহনের সুবিধার জন্য। কেউ প্রতিবাদী হলে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেয়ার হুমকী দেয় তারা। বর্ষা শেষে বেড়ীবাঁধ পূনঃনির্মাণ না করা হলে কাটা অংশ দিয়ে পানি বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে বাঁধ মেরামতের জন্য অনেকটা বাধ্য হয়েই প্রতি কৃষককে একর প্রতি ৯০০ টাকা করে ওই ব্যবসায়ীদের দিতে হয়।
তারা আরো জানান, রাবার ড্যামের উপরে নৌকা উঠাতে সরকারী নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালী এসব ব্যবসায়ীরা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাবার ড্যামের উপর দিয়ে বড়-বড় ইঞ্জিন চালিত নৌকায় মাল পরিবহন করে ব্যবসা করছে। ফলে নৌকার ঢেউয়ে বেড়ীবাঁধের উভয় পাড়ে ভাঙ্গন ধরেছে। বিষয়টি দেখার জন্য স্থানীয় কৃষকরা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় সরকারী রাবার ড্যাম প্রকল্প এক সময় বন্ধ হয়ে যাবে। মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে এখানের কৃষকরা।
বিএডিসি পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল জব্বার খোকন জানান, প্রতি বছরই কোন না কোনভাবে বেড়ী বাঁধের ক্ষতি করা হচ্ছে। কৃষি এবং কৃষকের স্বার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবী জানান তিনি।
এ ব্যাপারে ছাতক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান জানান, বর্তমানে স্থানীয় একটি সমবায় সমিতি প্রকল্পটি দেখাশোনা করছে। বিষয়টি সমিতির দায়িত্বশীলদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Related News
জগন্নাথপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জে জগন্নাথপুরে প্রবাসে থাকা স্বামীর সঙ্গে কলহের জেরে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন।Read More
কমলগঞ্জে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে শফিকুর রহমান (৩৪) নামে এক যুবক আত্মহত্যাRead More



Comments are Closed