লাশের ৩ খণ্ড উদ্ধারের পর যেভাবে রহস্য উদঘাটন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : উদঘাটন হল রাজধানীর দক্ষিণখানে ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনকে (২৬) তিন খণ্ড করে নৃশংসভাবে হত্যার রহস্য। এ ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতারের পর ১৯ জুন শুক্রবার তারা মহানগর হাকিম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
তারা বিচারকের কাছে হেলাল উদ্দিনকে হত্যার কথা স্বীকার করে রোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মনি সরকার ও তার মা রাশিদা আক্তার। তারা আদালতকে জানায়, একটি ফটোস্ট্যাট মেশিন বিক্রির কথা বলে মনি সরকারের স্বামী চার্লস রুপম সরকার গত ১৪ জুন হেলালকে ডেকে তাদের দক্ষিণখান থানার তেঁতুলতলা, বেকারির মোড় মোল্লারটেকের বাসায় নিয়ে যায়।
একপর্যায়ে তাকে চা খেতে দেওয়া হয়। চার্লস রুপম সরকার চায়ের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিলে হেলাল সেখানেই অচেতন হয়ে পড়েন।
এরপর স্বামী-স্ত্রী মিলে ডিশ এন্টেনার তার গলায় পেঁচিয়ে দুই পাশ থেকে টেনে হেলালকে হত্যা করে। লাশ গুম করার জন্য চার্লস রুপম সরকার লাশটি বাসার বাথরুমে নিয়ে যায়। সেখানেই ধারালো চাকু ও বঁটি দিয়ে প্রথমে মাথা কাটে।
তারপর সারা শরীর চেপে চেপে রক্ত বের করে। এরপর নাভি বরাবর আরেক খণ্ড করে। মাথাটিকে একটি ছোট ব্যাগে ভরে ডোবায় ফেলে দেয়। দেহের দুই খণ্ড বস্তায় ভরে অটোরিকশায় করে নিয়ে দুটি স্থানে ফেলে দেয়।
ডিবি উত্তর বিভাগের ডিসি মশিউর রহমান জানান, চার্লস রুপম সরকারকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি। তবে হত্যাকাণ্ডের মোটিভ উদঘাটিত হয়েছে।
আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভিকটিম হেলালের ব্যবসার টাকা আত্মসাতের জন্যই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে।
তিনি জানান, গত ১৮ জুন বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি উত্তরের এয়ারপোর্ট জোনাল টিম দক্ষিণখানের বাসা এবং আবদুল্লাহপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মনি সরকার ও তার মা রাশিদা আক্তারকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে ৩৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
এরআগে গত ১৫ জুন সোমবার রাজধানীর দক্ষিণখানের মুক্তিযোদ্ধা সড়ক ও হাজী আবদুস সালাম সড়কের সংযোগ মোড়ে বস্তার ভেতর থেকে এক ব্যক্তির কোমর থেকে নিচের অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।
একই দিন দুপুরে বিমানবন্দর থানার ঈরশাল কলোনির পানির পাম্পের পাশ থেকে গলা থেকে নাভী পর্যন্ত অংশ উদ্ধার করা হয়। ১৬ জুন মঙ্গলবার দক্ষিণখান এলাকার একটি ড্রেনের পাশে পাওয়া যায় খণ্ডিত মস্তক।
দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক অপারেশন মো. সারোয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেন, সিআইডির ফরেনসিক টিম উদ্ধার করা লাশের হাতের টুকরো থেকে আঙুলের ছাপ নেয়। তা ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখা যায়, লাশটি হেলাল উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ীর। দক্ষিণখানের মধ্যপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা করতেন। তার বাড়ি পিরোজপুরে।
সৌজন্যে : বিডি প্রতিদিন
Related News
রামিসা হত্যার ফরেনসিক রিপোর্ট হস্তান্তর, চার্জশিট রোববার
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ঢাকার পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশু রামিসাকে হত্যার ঘটনায় ডিএনএ,Read More
ইয়াবা সেবন করে রামিসার ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালায় ঘাতক সোহেল
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে (৭)Read More



Comments are Closed