Main Menu

লকডাউন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নতুন শনাক্ত ৭

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শনিবার (১১ এপ্রিল) করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে দুই নারীর মৃত্যু, ঢাকার মুগদা হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা করোনায় আক্রান্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের এক ব্যক্তির মৃত্যু এবং নতুন করে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৭জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবরোধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে লক ডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে জেলা করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে কমিটির সভা থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়। এতে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে লক ডাউন কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন।

সভা শেষে জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন জানান, প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এ জেলায় জনসাধারণের প্রবেশ এবং প্রস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়ক-মহাসড়ক এবং নৌপথে অন্য কোনো জেলা থেকে কেউ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রবেশ অথবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে অন্য জেলায় গমন করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চেকপোষ্ট বসানো হবে। তেমনিভাবে নদীপথেও পুলিশের চেকপোষ্ট থাকবে। তবে জরুরি পরিসেবা চিকিৎসা, কৃষিপণ্য, গবাদি পশু খাদ্য, খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহ, সরবরাহ, গণমাধ্যম কর্মীরা এর আওতার বাইরে থাকবেন। জরুরি সেবা পরিচালনার জন্য ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক লক ডাউনের আওতামুক্ত থাকবে।

সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ, পৌর সভার মেয়র মিসেস নায়ার কবির, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার ও জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. মো. আবু সাঈদসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে শনিবার বিকেল ৫টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ বলেন, শনিবার করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকা এবং নবীনগরে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার মুগদা হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা করোনায় আক্রান্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ৭জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এদের মধ্যে রয়েছেন আখাউড়া উপজেলায় তিনজন, সদর উপজেলায় দুইজন, নবীনগরে ১জন এবং বাঞ্ছারামপুরে ১জন। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৫জন রোগীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার পূর্বমেড্ডায় অবস্থিত বক্ষব্যাধি হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এ পর্যন্ত জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে ৩৭০১ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৩১৫জন এবং জেলার বিজয়নগরে প্রাতিষ্ঠানিক হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৩৬জন। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৭টি আইসোলেন বেড এবং বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ২০টি আইসোলেশন বেড করা হয়েছে। আরো ৫০টি বেড প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জেলার কয়েকটি উপজেলা থেকে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ আছে এমন সন্দেহে ৬২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। এদের মধ্যে ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে তাদের সকলের করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। বাকি ৪৭ জনের পরীক্ষার ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নবীনগরের বৃদ্ধকে ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

Share





Related News

Comments are Closed