Main Menu

বাড়ছে সংক্রমণ, এখন যা করতে হবে

ডা. জাহিদুর রহমান: যে সব এলাকা লকডাউন করা হয়েছে, সেখানে অবিলম্বে ১৪৪ ধারা জারি করতে হবে। কারণ মানুষজন লকডাউন মানছে না। পুলিশ সেনাবাহিনী সক্রিয় থাকার পরও লকডাউন করা এলাকা থেকে মানুষ বের হচ্ছে বা অন্য এলাকা থেকে মানুষ প্রবেশ করছে। অনেকে করোনার হাত থেকে বাঁচতে চেষ্টা করছে লকডাউন করা এলাকা থেকে দূরে চলে যেতে। তারা বুঝতে চাচ্ছে না, কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে লক্ষণ বিহীন সংক্রমণের হার ৫০-৭০%। আপনি নিজে নিরাপদ থাকার জন্য অপেক্ষাকৃত কম উপদ্রুত অঞ্চলে যেতে চাচ্ছেন, কিন্তু এর মধ্যেই যে আপনি নিজে আক্রান্ত হয়ে যাননি, তার নিশ্চয়তা কী? সুতরাং ঘরে থাকুন। রাষ্ট্র আপনার ঘরে এসে টেস্ট করার জন্য নমুনা নিয়ে যাবে।

অন্যদিকে টেস্ট করার সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারলে লকডাউন করে রাখা আরও ক্ষতিকর। একটা বস্তি আপনি লকডাউন করলেন, অথচ যথেষ্ট টেস্ট না করলেন না। তাতে তো আপনি ঐ বস্তির সবাইকে করোনা আক্রান্তের ঝুঁকিতে ফেলে দিলেন। এই ক্ষেত্রে লক্ষণ প্রকাশ করুক বা না করুক, এক মাথা থেকে শুরু করে আরেক মাথা পর্যন্ত লকডাউন করা এলাকার সবার টেস্ট করতে হবে। সক্ষমতা না থাকলেই কেবল শুধু যাদের লক্ষণ প্রকাশ পায়, তাদের টেস্ট করবেন। কিন্তু আপনাদের ঘোষণা অনুযায়ী তো এখন প্রচুর (!) টেস্ট করার সক্ষমতা আছে নাকি?

আমাদের পলাতক ঘোষণা দিয়ে যে বিদেশি ডাক্তার আনতে গেলেন, তারা তো কেউ আসলেন না! চীনা বিশেষজ্ঞ ভিডিও কনফারেন্সে জানিয়ে দিলেন ঘরে থাকতে হবে আর বেশি করে টেস্ট করতে হবে। অথচ এসব কথা আমরা দেশীয় বিশেষজ্ঞরা দুই মাস আগে থেকেই বলে আসছি।

সুতরাং, মানুষকে ঘরে রাখার জন্য লকডাউন না, ১৪৪ ধারা জারি করুন। আর নির্বিচারে সেই এলাকার সবার কোভিড-১৯ টেস্ট করুন। আগেও বলেছি, এখনো বলছি। মানুষকে হাসপাতালে এসে টেস্ট করাতে বললে মহামারি ঠেকানো যাবে না। তাতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়বে। তাছাড়া একবার বলবেন ঘরে থাকুন, আবার বলবেন টেস্ট করতে হাসপাতালে আসুন, আবার হাসপাতালে আসার পর বলবেন, এখানে শুধু পরীক্ষা করা হয়, নমুনা নেয়া হয় অন্য হাসপাতালে! বিপদগ্রস্ত মানুষের সাথে এ কোন পর্যায়ের নিষ্ঠুরতা?

সারা দেশে এখন পর্যন্ত একটা হাসপাতাল চালু করতে পেরেছেন, যেখানে এক ছাদের নিচে কোভিড-১৯ পরিপূর্ণ ম্যানেজমেন্ট হয়? ১৪৪ ধারা জারিকৃত এলাকার প্রতিটি বাড়িতে যেয়ে যেয়ে নমুনা সংগ্রহ করুন। লোকবল লাগলে আমাদের সবাইকে ব্যবহার করুন। তারপর দেখেন করোনাভাইরাস কিভাবে কুপোকাত হয়।

ডা. জাহিদুর রহমান: ভাইরোলজিস্ট, সহকারী অধ্যাপক, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।

0Shares





Comments are Closed