করোনা নিয়ে উদ্বিগ্ন জার্মান মন্ত্রীর ‘আত্মহত্যা’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় অর্থ সংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এক জার্মান মন্ত্রী মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ মার্চ) রেলাইনের ওপর থেকে তার ছিন্নভিন্ন মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিদারুণ উদ্বেগ ও জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থতার হতাশা থেকেই থমাস শেফার নামে ওই মন্ত্রী আত্মঘাতী হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি জার্মানির হেসে প্রদেশের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। বাণিজ্যিক রাজধানী ফ্রাঙ্কফুট এ প্রদেশেই অবস্থিত।
ডয়েচে ভেলের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং মাইনজের মধ্যবর্তী হোচাইম শহরে হাইস্পিড ট্রেন লাইনের ওপরে একটি মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা প্যারামেডিকসদেরদ খবর দেয়। দেহটি ছিন্নভিন্ন হওয়ার কারণে প্রত্যক্ষদর্শীরা মন্ত্রীকে সনাক্ত করতে পারেননি।
চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়েই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে পেরেছে পুলিশ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার প্রকোপ থেকে অর্থনীতিকে কীভাবে বাঁচাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন ৫৪ বছরের শেফার। করোনা ঠেকাতে আর্থিক সহায়তা নিয়ে সম্প্রতি বিবৃতিও দিতে দেখা যায় তাকে।
জার্মান দৈনিক ফ্রাঙ্কফুর্টার আলগেমাইনে জাইটংয়ের এক প্রতিবেদনে এ ঘটনা তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মন্ত্রী একটি সুইসাইড নোট রেখে গেছেন। সেখানে তিনি তার আত্মহত্যার কারণ বলেছেন।
হেসে প্রদেশের স্থানীয় পত্রিকাগুলোর প্রতিবেদন দেখে বুঝা যায়, সাম্প্রতিক সময়ের তিনি ঘন ঘন জনসমক্ষে আসছিলেন। মূলত করোনাভাইরাস সঙ্কটের এই মুহূর্তে সরকারের আর্থিক সহযোগিতা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতেই তিনি ঘন ঘন কথা বলতেন।
শেফার ছিলেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য। হেসে প্রাদেশিক রাজনীতিতে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সক্রিয় ছিলেন। আর প্রায় ১০ বছর ধরে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাকে ওই প্রদেশের ভাবী মুখ্যমন্ত্রী মনে করা হতো। ২০২৩ সালে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ভোলকার বোফিয়ারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কথা ছিল তার।
রোববার এক বিবৃতিতে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমরা এটা বিশ্বাসই করতে পারছি না। অত্যন্ত দুঃখের খবর। তিনি আরো বলেন, কভিড-১৯ মহামারী নিয়ে শেফার খুবই চিন্তিত ও অবসাদের মধ্যে ছিলেন। তার প্রধান উদ্বেগ ছিল বিশেষ করে এই সময়ে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষা তিনি পূরণ করতে পারবেন কিনা। কিন্তু তার কাছে মনে হচ্ছিল এখান থেকে মুক্তির পথ নেই। তিনি সবকিছু মিলে খুবই হতাশ ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন! তার স্বজনদের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রইল।
Related News
হঠাৎ সৌদিতে জরুরি সতর্কতা জারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার প্রেক্ষাপটে সীমান্তবর্তী আসির প্রদেশের খামিস মুশাইত ওRead More
পশ্চিমবঙ্গে একসঙ্গে ২৫২ মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পর্যালোচনা চালানোর অংশ হিসেবে ২৫২টি মাদরাসা বন্ধের নোটিশ দিয়েছেRead More



Comments are Closed