Main Menu

লোভাছড়া কোয়ারিতে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

কানাইঘাট প্রতিনিধি: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী লোভাছড়া পাথর কোয়ারিতে অভিযান চালিয়ে স্ক্যাভেটর মালিককে ধরে নিয়ে যায় উপজেলা প্রশাসনের টাস্কফোর্স; পরে অবশ্য ৪ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে ছাড়া পান তিনি। আর অভিযানকালে ধ্বংস করা হয়েছে ১টি স্ক্যাভেটর, ২টি ফেলোডার, ২৩ পাম্পিং মেশিন ও ৮ হাজার ফুট স্পেশাল পাইপ।

সোমবার (২৪ ফেব্রয়ারী) সকাল ১১টায় লোভাছড়া পাথর কোয়ারিতে অভিযান পরিচালনা করেন কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ বারিউল করিম খান। অভিযানকালে সাউদগ্রামের ফারুক আহমদের বসত বাড়ীর আঙ্গিনায় রাখা ২টি ফেলুডার ও একটি স্ক্যাভেটর ভাংচুর করা হয়। পরে ফারুক আহমদের ছেলে কানাইঘাট সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মোঃ বাশার আহমদকে নির্বাহী কর্মকর্তা বারিউল করিম খানের নির্দেশে আটক করে বিকেলে তার কার্যালয়ে নিয়া আসা হয়।

সেখানে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষন আইন ১৯৯৫, ধারা ৬ (ঙ) এবং বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০, ধারা ৪(ছ)আইনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বারিউল করিম খান বাশার আহমদকে মামলা দায়েরের মাধ্যমে ৪ লক্ষ টাকা নগদ জরিমানা আদায় করেন।

এছাড়া টাস্কফোর্সের অভিযান কালে বিভিন্ন পাথরের গর্তে থাকা পানি সেচের কয়েক লক্ষ টাকা মূল্যের ২০/২৫টি মেশিন ও লক্ষাধিক টাকার প্লাষ্টিকের পাইপ ধ্বংস করা হয়।

এদিকে মোবাইল কোর্ট থেকে ছাড়া পেয়ে বাশার আহমদ দাবি করেন, ‘তার বাড়ীর উঠানে রাখা তাদের পরিবারের নষ্ট ফেলুডার ও গোয়াইনঘাট উপজেলার মোঃ শাহপরান নামের এক ব্যক্তির ১টি স্ক্যাভেটর ও ১টি ফেলুডার প্রায় সপ্তাহ দিন থেকে ফেলে রাখা ছিল। অভিযানের সময় তার বাবা ফারুক আহমদ কানাইঘাট সদরে ছিলেন, আর তিনি ছিলেন মূলাগুল বাজারে। হঠাৎ করে আইন শৃংখলা বাহিনী আমার বাড়ীতে প্রবেশ করতে দেখে তিনি সেখানে গেলে তাকে আটক করা হয়েছে।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার বাড়ীতে অচল ফেলুডার, স্কেবেটর রাখার দায়ে অভিযানকালে তা ভাংচুর এবং আমাকে ৪ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অথচ কোয়ারি এলাকার বিভিন্ন গর্তে অভিযানকালে প্রকাশ্যে অসংখ্য ফেলুডার স্ক্যাভেটর দিয়ে কাজ করা হয়।’

স্থানীয় সচেতন মহল কোয়ারিতে টাস্কফোর্সের অভিযানকে স্বাগত জানালেও সাউদগ্রাম ও বড়গ্রাম এলাকার বিভিন্ন বাড়ীতে এবং কোয়ারি এলাকায় প্রভাবশালীদের অনেক ফেলুডার, স্ক্যাভেটর দিয়ে দিনে এবং রাতের বেলা পাথর উত্তোলনের গর্তের কাজ করা হচ্ছে।

অভিযান শেষে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বারিউল করিম খান জানান, লোভাছড়া পাথর কোয়ারিতে পরিবেশ ধ্বংসকারী কোন যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। লোভাছড়া পাথর কোয়ারিতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে যারা পাথর উত্তোলন করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ সহ উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Share





Related News

Comments are Closed