Main Menu

স্বেচ্ছামৃত্যু চান যে দেশের নাগরিকরা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাধা বিপত্তি নিয়েই জীবনের বয়ে চলা। সৃষ্টিকর্তার দেয়া এই এক জীবনে বাধাকে কাটিয়ে বেঁচে থাকাই আসল উদ্দেশ্য। কিন্তু কিছু সময় জীবনের স্বাভাবিক দর্শন ভুলে গিয়ে, জীবনটাকে শেষ করে দেওয়ার ভাবনা জন্ম নেয় মনে। তখন মানুষের শিক্ষা, চেতনা, মূল্যবোধ কোনওটাই কাজ করে না। শুধুই একটা কথাই মনে হয়, সব শেষ করে দিয়ে জীবন থেকে মুক্তি নেয়া।

আর ঠিক এই অদ্ভুত এই অনুভূতির শিকার নেদারল্যান্ডের অধিবাসীরা। যা তাদের কাছে খুব স্বাভাবিক একটা বোধ। সেই দেশের হাজারো মানুষ একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করতে শুরু করেছেন।

নেদারল্যান্ডে যাদের বয়স ৫৫ পেরিয়েছে, তারা নিজেদের জীবন শেষ করে দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছেন। এমনটা নিশ্চিত করেছেন নেদারল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুগো ডে-জং।

নিজের রিপোর্টে তিনি বলেছেন, ৫৫ বছরের বেশি বয়স হলেই তাদের দেশের ১৮ শতাংশ মানুষ স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানাচ্ছেন। কিন্তু কেন? ওই রিপোর্টের দাবি, তাদের দেশের মানুষরা আদতে খুবই শান্তিপ্রিয়। তাই শান্তিতেই মৃত্যুবরণ করতে চাইছেন তারা।

মোট কথা তাদের দাবি, যন্ত্রণাহীন মৃত্যু। বেশি বয়সে কোনও রোগে জর্জরিত হয়ে খাটে শুয়ে জীবনটা শেষ করতে চান না তারা। শান্তিতে এই স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন প্রচুর পরিমাণে সরকারের কাছে এসেছে। জানা গিয়েছে, প্রায় ১০,১৫৬ ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করতে চান।

এই প্রেক্ষিতেই সিনেটে সে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বক্তব্য রাখার সময় বলেন, ‘নাগরিকদের এমন আশ্চর্যজনক সিদ্ধান্তে সরকার এবং সমাজের উপর ব্যপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সরকারের উচিত বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে সামাজিক ইস্যু হিসেবে দেখা এবং ভাবা উচিত কেন মানুষ এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বাধ্য হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যারা স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করছেন তারা কেন জীবনে হতাশায় ভুগছেন সেটাও সরকারের বিবেচনা করতে হবে। এবং এদের নতুন করে জীবনের আসল উদ্দেশ্য খুঁজে পেতে সরকারের উচিত সাহায্য করা।’

উল্লেখ্য, ২০০১ সাল থেকেই নেদারল্যান্ডে এই অদ্ভুত বিষয়টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যারাই ৫৫ বা ৬০ বছর পার করে ফেলছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানাতে শুরু করছেন। সেই কারণে এই ধরনের কোনও আবেদনের উপর সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আর, স্বেচ্ছামৃত্যুর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে এমন দেশও একমাত্র নেদারল্যান্ড।

Share





Related News

Comments are Closed