‘ভূমি আত্মসাতে মাকে ছেলে-মেয়ের নির্যাতন’
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: বিয়ের সময় স্বামীর দেয়া জমি ফিরিয়ে নিতে সৎ পুত্র, কন্যা ও স্বামীর অসহনীয় নির্যাতনে নিজের জীবন অতিষ্ঠ বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্বনাথ উপজেলার জানাইয়া গ্রামের আশিক আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী মনোয়ারা বেগম। তাদের এসব কাজে ইন্ধন দিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন তথা কথিত সাংবাদিক, রামধানা গ্রামের রইছ আলীর ছেলে আক্তারুজ্জামান সাহেদ। এখন স্বামী ও সৎ ছেলে মেয়েরা তিনি ও তার মেয়েকে মারধোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার পাঁয়তারা করছেন। আক্তারের ভয়ে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ মামলা না নেয়ায় তিনি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আক্তার বিভিন্ন পত্রিকায় তার কিশোরী মেয়ের চরিত্র হনন করে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, জানাইয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আশিক আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী তিনি। তার প্রথম পক্ষের তিন মেয়ে, দুই ছেলে। আর আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে। বিয়ের সময় স্বামী আমাকে ৮ শতক জমি দিয়েছিলেন। সেই জমিটুকু কেড়ে নেয়ার জন্য সৎ ছেলে ইমামুল নানা চক্রান্তে লিপ্ত। তারা আমাকে ও আমার মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৪ ডিসেম্বর আমার স্বামী তুচ্ছ কারণে আমার মেয়েকে মারধোর করেন। প্রতিবাদ করলে তিনি আমাকেও মারধোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেন। ইমামুল ও তার বোনেরাও এ সময় আমার স্বামীকে সহযোগিতা করেন। প্রাণে মারার হুমকি দিলে আমি থানায় অভিযোগ দাখিল করি। সে দিনই তদন্তে আসেন থানার এসআই লুৎফুর রহমান। তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হন। পুলিশের কাছে যাওয়ার অপরাধে পরদিন ৫ ডিসেম্বর সৎ ছেলে ইমামুলের নেতৃত্বে তার মা রাহেলা বেগম (৪৫), ভাই সাইফুল ইসলাম (১৯) ও তিন বোন জুবেদা (২৪), সাহেদা (২২) ও মাজেদা বেগম (১৮) আমি ও আমার মেয়ের উপর হামলা চালায়। এসময় ইমামুল আমার গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করতে উদ্যত হয়। সাইফুল আমার গলার ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়। তার মা ও বোনেরা আমার ঘরের ড্রয়ারে রাখা আরো ৭ ভরি স্বর্ণের গহনা, নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে। কোনমতে প্রাণে বেঁচে গেলেও আমি ও আমার মেয়ে মারাত্মক আহত হই। থানায় মামলা দায়েরের জন্য গেলে ওসি মামলা না নিয়ে কোর্টে মামলা করতে বলেন।
মনোয়ারা বলেন, এসময় থানার ওসি বলেছেন, থানায় মামলা নিলে তারা পুলিশের চাকরি খেয়ে ফেলে। আমি মেয়েকে বাঁচাতে হাসপাতালে যাই। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ৮ ডিসেম্বর সিলেট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের (নম্বর-৪১১/২০১৯) করি।
মনোয়ারা বলেন, পরে ১০ ডিসেম্বর একটি জাতীয় দৈনিক ও কয়েকটি নামসর্বস্ব অনলাইন পত্রিকায় আমি ও আমার মেয়ের চরিত্র হনন করে কুরুচিপূর্ণ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আমি এই সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানাই। তাদের অপকর্মের নেপথ্যে আছে তথাকথিত সাংবাদিক, রামধানা গ্রামের রইছ আলীর ছেলে আক্তার আহমদ ফায়েজ। সে-ই এসব মিথ্যা সংবাদ প্রচার করছে। জুবেদার সাথে দীর্ঘদিন ধরে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তাই সে তাদের পক্ষ হয়ে কাজ করে। তার ভয়ে থানা পুলিশও তাদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে চায়না। জুবেদারা তাদের হাতে সাংবাদিক রয়েছে, মেরে ফেললেও কেউ কিছু করতে পারবেনা ইত্যাদি বলে হুমকি ধমকি দেয়। তাদের অপরাধ তদন্ত করতে গেলে তারা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের নামে ধর্ষণের হুমকি, ইয়াবা দিয়ে ধরিয়ে থানায় নেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে বলে আক্তার সংবাদ প্রকাশ করে পুলিশ কর্মকর্তাদের হয়রানি করে। এমন অপবাদ দিয়ে এর আগে তারা কামরুজ্জামান নামক একজন এসআইকে গত বছর ক্লোজড করিয়েছিল। এবারও তারা এসআই আব্দুল লতিফকে জড়িয়ে এমন অপবাদ দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমার নামে দেয়া জায়গা ৮ শতক জমির দলিল স্বামী ও সৎ ছেলে নিয়ে গেছে। সৎ ছেলে ইমামুল চরিত্রহীন লম্পট। তার লাম্পট্য ও নির্যাতনের কারণে তার স্ত্রী এখন বাপের বাড়ি থাকছে। তাছাড়া সে এতই লম্পট যে, একাধিকবার আমার মেয়ে ও তার সৎ বোনের ইজ্জত লুন্ঠনের চেষ্টা করেছে। তিনি আক্তার ইমামুলের ব্যাপারে দ্রত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করতে সিলেটের পুলিশ প্রশাসকসহ আইনশৃঙখলা বাহিনীর প্রতি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহনের আহবান জানান।
Related News
সিলেটে ৪ পয়েন্টে বেড়েছে নদ-নদীর পানি
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায়Read More
সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তে মিনহাজ উদ্দিন (২৫) নামে এক বাংলাদেশিRead More



Comments are Closed