Main Menu

দেড় যুগেও এমপিও ভুক্ত হয়নি সালুটিকর কলেজ

Manual8 Ad Code

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি: ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে ঐতিহ্যবাহী পিয়াইনগুল কলিম উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে সালুটিকর ডিগ্রী কলেজের শুভ সূচনা। ২০০২ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত পিয়াইনগুল কলিম উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়টি সালুটিকর কলেজের অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

২০০৪ থেকে সালুটিকরস্থ নন্দিরগাঁও ইউনিয়ন কমপ্লেক্সটি ২০০৬ পর্যন্ত অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে সালুটিকর কলেজের নিজস্ব স্থানে পৌছে। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে কলেজটির অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ববার গ্রহণ করেন প্রয়াত মো. আব্দুল খালিক চৌধুরী।

Manual1 Ad Code

২০০২ সালে কলেজটি পাঠদানের অনুমতি লাভ করে। ২০০৫ সালে প্রথম স্বীকৃতি পেয়ে ২০২১ সাল পর্যন্ত সর্বশেষ স্বীকৃতি রয়েছে। কলেজটির ২১০ শতক নিজস্ব জমিতে ৩টি একাডেমিক ভবন রয়েছে। একাডেমিক ভবন গুলোর মধ্যে দ্বিতল ২টি ও ৪র্থ তলা বিশিষ্ট ১টি ভবনে ২২টি শ্রেণি কক্ষে পাঠদান চলছে। কলেজটির সূচনা লগ্ন থেকে ২০১৯ পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ২ শত ৭৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৮শত ৫৪জন শিক্ষার্থী সফলতা লাভ করে। কলেজটি প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত গড় পাশের হার ৬৭%।

সালুটিকর কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. শাকির উদ্দিন। তিনি ২০০৭ সালে প্রভাষক হিসেবে সালুটিকর কলেজে যোগদান করেন। অসুস্থতা জনিত কারণে অধ্যক্ষ প্রয়াত মো. আব্দুল খালিক চৌধুরী মৃত্যুবরণ করলে মো. শাকির উদ্দিন কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ৩০ অক্টোবর ২০১৪ থেকে মো. শাকির উদ্দিন সালুটিকর কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কলেজটিতে ১৪ জন প্রভাষক, ১জন ল্যাইব্রেরিয়ান, ৪জন প্রর্দশক (বিএ পাস) ডিগ্রী শাখায় ১০ জন প্রভাষকসহ ৬জন কর্মচারী রয়েছেন। সালুটিকর কলেজটির বর্তমান পর্যায়ে নিয়ে আসতে প্রয়াত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল খালিক চৌধুরী কঠোর পরিশ্রম করেছেন। অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে প্রয়াত মো. আব্দুল খালিক চৌধুরী কঠিন ও জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

Manual5 Ad Code

কলেজ প্রতিষ্ঠা হওয়ার দেড় যুগ অহিবাহীত হলেও আজ পর্যন্ত এমপিও ভুক্তির তালিকায় অর্ন্তভুক্ত হতে পারেনি। প্রভাষক ও কর্মচারীদেরকে প্রতি মাসে নাম মাত্র বেতন ভাতা প্রদান করলেও ব্যয় হয় প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতনে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষক ও কর্মচারীদের নাম মাত্র বেতন ভাতা। ফলে শিক্ষক ও কর্মচারীদের বকেয়া বেতনের হিসাব দিনে দিনে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। সিলেট সদর, কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলার মিলনস্থল ঐতিহাসিক সালুটিকর বাজার। সালুটিকর বাজারের সন্নীকটে প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত সালুটিকর কলেজ। দৃষ্টি নন্দন ৪র্থ তলা বিশিষ্ট আইসিটি ভবন, দ্বিতল ২টি একাডেমিক ভবন, স্মৃতিসৌধ ও ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার কলেজের সৌন্দর্য্য দ্বিগুন বৃদ্ধি করেছে।

নিজস্ব ক্যাম্পাস ঘুরে পরিদর্শনকারীরা কলেজটি এমপিও ভুক্ত নয় মানতে নারাজ। হাওর বাওর, খাল-বিল, নদী-নালা ও নিন্মাঞ্চল হিসেবে সালুটিকর অঞ্চল দেশ বিদেশে পরিচিত। সিলেট সদর, কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলার মিলনস্থল সালুটিকর এলাকা। শিক্ষা ক্ষেত্রে হাজার গুণ পিছিয়ে পড়া এই জনপদকে এগিয়ে নিতে নন্দিরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত নজরুল ইসলাম নজর সালুটিকর কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।

এ অঞ্চলের জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষানুরাগী ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দদের উৎসাহী করে সালুটিকর কলেজ প্রতিষ্ঠা করায় আজ সুফল ভোগ করছেন এ অঞ্চলের মানুষ। শুধু মাত্র এই কলেজ থেকেই ৮৫৪ জন শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তারা অনেকেই সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই কলেজের শিক্ষকগণের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি।

Manual4 Ad Code

খোঁজ নিয়ে জানা যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্তির জন্য ক্ষেত্রে যেসব শর্তাবলী রয়েছে তার মধ্যে সালুটিকর কলেজে স্বীকৃতি, শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা শতভাগ রয়েছে। কিন্তু এমপিও ভুক্তির আবেদনের সময় ২০১৫ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফলাফল যোগ করায় শর্তাবলী পরিপূর্ণ হয়নি। এখানে ২০১৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪৫.৩৮%, ২০১৬ তে ৫৬.৮০% ও ২০১৭ তে ৬১.৩৮% চলতি বছরের এমপিও হওয়া বিয়ানীবাজার উপজেলার বৈরাগী বাজার আডিয়াল কলেজের ২০১৭ সালে ৬৮.৭%, ২০১৬ সালে ৬০.৮% এবং ২০১৫ সালে ৬১.৬%। যা এমপিও ভুক্তির শর্তানুযায়ী যথাযথ নয়।

এ ব্যাপারে সালুটিকর কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাকির উদ্দিন বলেন কলেজ প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে ২০১৯ পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর গড় পাশের হার ৬৭%। এমপিও ভুক্তির আবেদনে কর্তৃপক্ষ ২০১৫-২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর ফলাফল যোগ করায় এমপিও ভুক্তির শর্তাবলী পরিপূর্ণ হয়নি। তবে কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে অধ্যাবধি কলেজটির গড় ফলাফল বিবেচনা করে এমপিও ভুক্তি করা প্রয়োজন।

এ ব্যপারে সালুটিকর কলেজ গর্ভনিং বডির সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, সালুটিকর কলেজ এমপিও ভুক্তির জন্য আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করেছি। আশা করি সংশোধীত এমপিও ভুক্তির তালিকায় সালুটিকর কলেজ থাকবে।

Manual5 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code