Main Menu

জগন্নাথপুরে যুবকের বয়স ১০০ বছর!

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের গন্ধর্ব্বপুর (অপাসাধু) গ্রামের এক যুবকের বয়স জাতীয় পরিচয়পত্রে ১০০ বছর দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে অত্র এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে।

জানা যায়, গন্ধর্ব্বপুর (অপাসাধু) গ্রামের মৃত মো. ফজর আলীর ছেলে মো. শিপন মিয়া, জাতীয় পরিচয় পত্রে তার বয়স দেওয়া হয়েছে ০১-০২-১৯১৯ ইংরেজি। সঠিক জন্মতারিখ ছিল ০১-০২-১৯৯১ ইংরেজি। বর্তমান বয়স ২৮ বছর। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল জাতীয় পরিচয়পত্র করা হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে পাবার পর শুরু হয় কার্ড সংশোধনের দৌড় ঝাঁপ। উপজেলা নির্বাচন কমিশন সহ বিভিন্ন স্থানে গিয়েও যুবকের কার্ড সংশোধন করতে সমস্যা দেখা দেয়।

ক্ষোভের সাথে যুবক শিপন মিয়া জানান, ‘উপজেলার সকলের মতো আমিও আমার আইডি কার্ড পেয়ে হতবাক হয়ে যাই। আমার নাম-ঠিকানা সব ঠিক আছে। জাতীয় পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার জন্য এ সময় যথেষ্ট যোগ্য লোকের অভাব সত্যিই তখন ছিল কিনা! একজন নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্র, যা দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সে নিজেকে পরিচয় দেবে, সেখানে এতবড় ভুল রেখে কিভাবে তা নাগরিকদের মাঝে বিতরণ করা হয়! শুধু আমার নয়, অসংখ্য মানুষের আইডি কার্ডে বিচিত্র সব ভুলে ভরা। অনেকের আইডি কার্ডে এমন ভুল, যা সে অন্যকে দেখাতেও লজ্জা পায়। ভুল হতেই পারে মানুষের, তবে ভুলের পরিমাণ যখন বেশি হয়, তা-ও আবার একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে, তা কিভাবে মেনে নেয়া যায়। দীর্ঘ দিন ধরে আমার আইডি কার্ডে ভুল রয়ে গেছে।

অবশেষে উপজেলাস্থ নির্বাচন অফিসে গিয়ে আইডি কার্ড সংশোধনের পথ খোলা হয়। আমি বছর খানেক আগে আমাদের উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখি, আবেদনের জন্য সোনালী ব্যাংকে গিয়ে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা ট্রেজারি চালান করতে হবে। সোনালী ব্যাংকে ট্রেজারি চালান করা যে অনেক ঝামেলা ও সময়ের ব্যাপার, তা আগে থেকেই জানা থাকায় সেদিনের জন্য সংশোধনের কাজ মুলতবি রেখে ফিরে এলাম। ভাবলাম, পরে লম্বা সময় নিয়ে আবার আসব। আমি গ্রামের সাধারণ কৃষক হওয়ায় যেকোনো সময় উপজেলা নির্বাচন অফিসে যেতে পারি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জাতীয় পরিচয় পত্রের কাজে দক্ষ লোক নিয়োগ দিয়ে কাজ করা হউক।’

এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা নির্বাচন কমিশনার মুজিবুর রহমানে সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আগের দিনে ভোট সংগ্রহে অনেক অদক্ষ লোক ছিল। এখন আর ভুল হয় না। দক্ষ লোক দিয়ে এসব কাজ করা হয়। তথ্য এন্ট্রি করা লোক বা প্রিন্টে ভুল হতে পারে। তথ্য সংশোধন করতে যে সব কাগজ লাগে সে কাগজ গুলো নিয়ে আসলে সংশোধন হয়ে যাবে।

Share





Related News

Comments are Closed