Main Menu
শিরোনাম
শ্বনাথে শিক্ষিকার আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা         সিলেট জেলায় আরও ৪৬ জনের করোনা শনাক্ত         সিলেটে পরিবহন নেতা ফলিক বহিষ্কার         ছাতকে রেলওয়ের নৈশপ্রহরী খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩         শাবির ল্যাবে আরো ৩৮ জনের করোনা শনাক্ত         জগন্নাথপুরে তরুণীকে গনধর্ষণ, আটক ৪         কোম্পানীগঞ্জ থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড         গোলাপগঞ্জে ভাদেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত         সিলেট বিভাগে আক্রান্ত বেড়ে ৫৫৭৩, মৃত্যু ৯৫         চুনারুঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জরিমানা         জৈন্তাপুরে ৯৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২         শায়েস্তাগঞ্জে ইউএনও করোনায় আক্রান্ত        

‘সিলেটে নতুন হাউজিং স্টেট গড়ে তোলা হবে’

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এম আব্দুল মোমেন বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে অতি দারিদ্রের হার ৫ ভাগের নিচে নেমে আসবে। এশিয়ার ৪৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপির হার এখন সবার উপরে। বর্তমান সরকার দারিদ্র বিমোচনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সারা দুনিয়ার মাঝে বাংলাদেশের জিডিপির হার এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দুনিয়ার সকল জিনিস বাংলাদেশে তৈরী হবে। প্রত্যেকের কাছে এখন কিছু টাকা আছে।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) রাতে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত কমিটির মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চেম্বার হল রুমে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট চেম্বারের নবনির্বাচিত সভাপতি আবু তাহের মোঃ শুয়েব।

সভায় মন্ত্রী আরো বলেন, সিলেটে নতুন করে একটি হাউজিং স্টেট করতে হবে। তিনি একটি জায়গা খোঁজার জন্য সিলেটের মানুষের প্রতি আহবান জানান। ব্যবসায়ীরা সরকারের একটি অংশ দাবী করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর উপদেষ্টা নিয়োগ করেছেন একজন ব্যবসায়ী। সিলেট চেম্বার সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, আমি ভাগ্যবান। একজন ভাল প্রশাসক পেয়েছিলাম। তাঁর নেতৃত্বে সুন্দর একটি নির্বাচন সম্ভব হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, সিলেটে আমার নির্বাচনী এলাকায় অফিস উদ্ভোধন করেছি। যাতে করে নির্বাচনী এলাকার মানুষ লিখিত আকারে বিভিন্ন দাবী দাওয়া নিয়ে অফিসে আসে। সে অনুযায়ী কাজ করবেন বলে মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, প্রতি সংসদ সদস্যকে নিজ নির্বাচনী এলাকায় অফিস খরচের জন্য সরকার কিছু টাকা দেয়। কিন্তু এমপিরা অফিস খুলেন না।আমি আফিস খুলেছি। আপানরা অফিসে যাবেন, চা কফি খাবেন।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আয়তন বৃদ্ধি করা হবে বলে মন্ত্রী বলেন, সিটির পরিধি বেড়ে ১৭৯ বর্গ কি.মি. করা হবে। এ জন্য বাজেটও বেশি পাওয়া যাবে। মেয়রের মর্যাদাও বাড়বে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে বৃহত্তর সিলেটের ৫ জন মন্ত্রী ও ১ জন উপদেষ্টা কেবিনেটে রয়েছেন। এ সুযোগ সিলেটবাসীকে কাজে লাগাতে হবে। সিলেটের জন্য উপযোগী প্রকল্প ও প্রস্তাব মন্ত্রণালয়গুলোতে পাঠাতে হবে। তিনি বলেন, ট্যুরিস্ট স্পটগুলোর উন্নয়ন ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে ৬ লেনে রূপান্তরের জন্য ইতোমধ্যে টাকা বরাদ্দ হয়েছে, অচিরেই এর কাজ শুরু হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেনের এসি বগি না থাকায় শ্রীমঙ্গলের চা নিলাম কেন্দ্রের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং পর্যটন বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি রেলমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন এবং রেলমন্ত্রী যথাশীঘ্র সম্ভব সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেনের এসি বগি সংযোজন করা হবে বলে জানিয়েছেন। তিনি সিলেটে নির্মিত বঙ্গবন্ধু হাই-টেক পার্কে প্লট বরাদ্দের লক্ষ্যে যথাযথভাবে আবেদন করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানান।

তিনি সিলেট চেম্বারের নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এবারের নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এরকম একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য তিনি সিলেট চেম্বারের সদ্য প্রাক্তন প্রশাসক, নির্বাচন বোর্ড ও আপীল বোর্ডকে ধন্যবাদ জানান। তিনি সিলেট চেম্বারের নবনির্বাচিত প্রেসিডিয়াম ও পরিচালকবৃন্দকে ফুল দিয়ে বরণ করেন এবং সকলের প্রতি শুভকামনা জানান।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সিলেট চেম্বারের সাবেক প্রশাসক আসাদ উদ্দিন আহমেদ ,সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ।

বক্তব্য রাখেন, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি আফজল রশিদ চৌধুরী, চেম্বারের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমদ মিসবাহ, চেম্বারের সিনিয়র সহ সভাপতি চন্দন সাহা, চেম্বারের সাবেক পরিচালক হিজকিল গুলজার, শাহ আলম, আমিরুজ্জামান চৌধুরী, চেম্বারের নির্বাচনী বোর্ডের চেয়ারম্যান এডভোকেট নাসির উদ্দিন, আপিল বিভাগের চেয়ারম্যান সামিউল আলম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চেম্বারের সাবেক নেতা এমদাদ হোসেন। শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন শেখ ঘাট জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সাদিকুর রহমান ।

সভাপতির বক্তব্যে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি আবু তাহের মোঃ শোয়েব বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে দৃপ্ত পদে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। তারই ধারাবাহিকতায় মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি তার মেধা ও কূটনৈতিক তৎপরতা দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সিলেটে অনেকগুলো মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হয়েছে এবং হচ্ছে যার মধ্যে শ্রীহট্ট ইকোনমিক জোন, বঙ্গবন্ধু হাই-টেক পার্ক, শ্রীমঙ্গলে চা নিলাম কেন্দ্র, তামাবিলে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর, বাদাঘাটে নতুন জেলখানা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তিনি সিলেট চেম্বারের আবেদনের প্রেক্ষিতে সিলেটে ১০০ একর জমি নিয়ে মাল্টি সেক্টরাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, সিলেটে মাল্টি সেক্টরাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপিত হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প যেমন সমৃদ্ধ হবে তেমনি আমদানী নির্ভরতা কমিয়ে এখান থেকে উৎপাদিত পণ্য ভারতের সেভেন সিস্টার ও বিদেশে রপ্তানী করা যাবে। তিনি সিলেটের পর্যটন খাতের উন্নয়নে রাতারগুল, বিছনাকান্দি, লালাখাল, টাঙ্গুয়ার হাওড় ও অন্যান্য দৃষ্টিনন্দন ট্যুরিস্ট স্পটগুলোর যাতায়াত ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবী জানান। এছাড়াও তিনি সিলেট-আখাউড়া রেলপথ দ্রুত সংস্কার, সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক সংস্কার, সিলেটে পুণরায় গ্যাস সংযোগ চালু, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সংস্কার সহ বিভিন্ন দাবী দাওয়া তুলে ধরেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরে বিভাগীয় চেম্বার হিসেবে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার দাবী জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কাস্টম্স এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কমিশনারেট সিলেট এর কমিশনার গোলাম মোঃ মুনীর, যুগ্ম কমিশনার মিনহাজ উদ্দিন, এনএসআই এর অতিরিক্ত পরিচালক মনসুর আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংক এর নির্বাহী পরিচালক মাকসুদা বেগম, সিলেট চেম্বারের সহ সভাপতি তাহমিন আহমদ, পরিচালক মোঃ মামুন কিবরিয়া সুমন, মাসুদ আহমদ চৌধুরী, মোঃ এমদাদ হোসেন, মোঃ সাহিদুর রহমান, পিন্টু চক্রবর্তী, মুশফিক জায়গীরদার, এহতেশামুল হক চৌধুরী, আব্দুর রহমান, ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, মোঃ আব্দুর রহমান (জামিল), হুমায়ুন আহমেদ, মোঃ আতিক হোসেন, আলীমুল এহছান চৌধুরী, ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী, মোঃ আমিনুজ্জামান জোয়াহির, খন্দকার ইসরার আহমদ রকী, সিলেট চেম্বারের নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান এডভোকেট মোঃ নাসির উদ্দিন খান, সদস্য এডভোকেট সৈয়দ শামীম আহমদ, এডভোকেট মোঃ জুনেল আহমদ, আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান এডভোকেট এ কে এম শমিউল আলম, সদস্য এডভোকেট মোঃ রাজ উদ্দিন, হারুন আল রশিদ দিপু, নির্বাচন বোর্ডের সাবেক সভাপতি বিজিত চৌধুরী, সিলেট চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি এম মুহিবুর রহমান, সাবেক সহ সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, মোঃ আতিকুর রহমান, ইফতেখার আহমদ সোহেল, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বারের ১ম সহ সভাপতি শফিউল আলম নাদেল, মোঃ খয়রুল হুসেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমেদ সেলিম, আটাব সিলেটের সভাপতি আব্দুল জব্বার জলিল।

0Shares





Related News

Comments are Closed