বিপুল টাকাসহ যুবলীগ নেতা শামীম আটক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ সময় কার্যালয়ের ভেতর থেকে বিদেশি মুদ্রা, মদ, একটি আগ্নেয়াস্ত্র, নগদ অর্থ, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর চেক উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় আরও সাতজনকে।
শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শামীমকে রাজধানীর নিকেতনের ১১৩ নম্বর বাসা থেকে আটক করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন র্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম।
র্যাবের একজন সদস্য সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, শামীমের অফিস থেকে ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর চেকসহ নগদ ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমানে এফডিআর ও ডলার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) জব্দ করা হয়েছে। শামীমের কাছে একটি অস্ত্রও পেয়েছে র্যাব। তবে সেই অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি।
এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শামীমের ৭ দেহরক্ষীকে নিজেদের হেফাজতে নেয় র্যাব।
র্যাব-১ সূত্রে জানা গেছে, শামীমের দেহরক্ষীদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র লাইসেন্সকৃত কি না তা যাচাই করা হবে।
র্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জি কে শামীম ঠিকাদারি জগতের প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। তিনি যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক। তবে বিএনপি সরকারের আমলে শামীম যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। ওই সময়ই তিনি বিএনপি নেতাদের সমর্থনপুষ্ট হিসেবে গণপূর্ত ভবনের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণে নেন। যুবদলের সহ-সম্পাদকের পদেও ছিলেন জি কে শামীম।
পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে ধীরে ধীরে যুবদল ছেড়ে যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন শামীম। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পদেও রয়েছেন কেন্দ্রীয় এই যুবলীগ নেতা। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচনের জন্য প্রচারণাও চালিয়েছিলেন শামীম।
শামীম নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সন্মানদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে।
টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। জি কে শামীম যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক বলে লোকমুখে শোনা গেলেও সংগঠনটির শিক্ষা সম্পাদক মিজানুল ইসলাম মিজু বলছেন, শামীম যুবলীগের কেউ নন, তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।

শামীমের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানির কর্মচারী দিদারুল আলম জানান, সকালে নিকেতনের ৫ নম্বর সড়কের ১১৩ নম্বর ভবন শামীমের বাসায় কয়েকজন সাদা পোশাকে প্রবেশ করেন। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থানের পর শামীমকে সঙ্গে নিয়ে তার প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় ১৪৪ নম্বর ভবনে অভিযান শুরু করে র্যাব।
তিনি আরো জানান, শামীমের বাসায় সাতজন গার্ড ছিলেন। তাদের সঙ্গে থাকা অস্ত্রের লাইসেন্স দেখতে চাইলে দেখানো হয়। কিন্তু এরপরও অস্ত্রসহ তাদেরকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা এখন কোথায় আছে জানি না।
এরআগে অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে র্যাবের হাতে আটক হয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। অস্ত্র ও মাদকের পৃথক দুই মামলায় তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
সম্প্রতি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতার বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপরই ছাত্রলীগের পদ হারান শোভন-রাব্বানী। এরপর আটক হন খালেদ ও আজ শামীমের কার্যালয়ে অভিযান চালায় র্যাব।
Related News
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রের
Manual3 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা নিতে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কঠোর নির্দেশনাRead More
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের বিক্ষোভ
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহRead More



Comments are Closed