জম্মু ও কাশ্মীর ভেঙে দুই ভাগ, পথে পথে সেনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তথা স্বায়ত্বশাসনের ৩৭০ ধারা বাতিল এবং রাজ্যটিকে দুই ভাগ করে পুনর্গঠনের বিল পাস হয়েছে ভারতের রাজ্যসভায়।
সোমবার (৫ আগস্ট) এ বিল পাসের পর তাতে সই করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। এর মধ্য দিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরকে পুনর্গঠিত করে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা হয়েছে।
এর একটি জম্মু ও কাশ্মীর এবং অন্যটি লাদাখ। জম্মু ও কাশ্মীরে যোগযোগ, ইন্টারনেট, মোবাইল সেবা বন্ধ করে এক নজিরবিহীন ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।
মর্যাদা খর্ব করে কাশ্মীরিদের অধিকারহরণের এই বিল পাস হবার পর বিরূপ পরিস্থিতির আশঙ্কায় পুরো অঞ্চল জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
অচল হয়ে পড়েছে জনজীবন। সেখানে অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। অনেক রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। স্কুল-কলেজও বন্ধ রয়েছে। প্রায় সব মুসলিম রাজনীতিবিদকে হয় গৃহবন্দি নয়তো আটক করা হয়েছে।
দেশ বিভাগের পর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যটিকে ভারতের প্রতি অনুগত রাখতে জওহর লাল নেহেরুর উদ্যোগে ৩৭০ ধারায় যে মর্যাদা দেয়া হয়েছিল তা বাতিলের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কংগ্রেস।
এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতের এমন উদ্যোগের নিন্দা জানিয়ে কাশ্মীরিদের প্রতি নৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। পাকিস্তানের সংসদে জরুরি অধিবেশন ডাকা হয়েছে।
পাকিস্তানে সংযুক্ত আজাদ কাশ্মীরে সব দলের রাজনৈতিক নেতারা ভারতের এ উদ্যোগের নিন্দা জানিয়ে কাশ্মীরের সঙ্গে থাকার অঙ্গীকার করেছেন।
গৃহবন্দী দশা থেকে গ্রেফতার করা হলো জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিকে। গ্রেফতার করা হয়েছে আরেক সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহকেও। রোববার রাত থেকেই তাদের গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিলো। গ্রেফতারের পর মুফতিকে শ্রীনগরের হরিনিবাস বিশ্রামাগারে নেওয়া হয়েছে। এনডিটিভি।
কাশ্মীর পুলিশের একটি সূত্র এনডিটিভিকে নিশ্চিত করেছে সোমবার মুফতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তাকে কোন থানায় বা কারাগারে না নিয়ে বাড়ির কাছের সরকারি এক অতিথিশালায় নেয়া হয়েছে। পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান মুফতি, গত বছরের জুলাই পর্যন্ত বিজেপির সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় ছিলেন।
রোববার (৪ আগস্ট) রাত থেকে মুফতি ছাড়াও কাশ্মীরের আরো দুই মূলধারার রাজনীতিবীদ ওমর আবদুল্লাহ ও সাজ্জাদ লোনকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিলো। এরপরেই সকালে রাজসভায় বিল তুলে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয়। লোনকে এখনও আনুষ্ঠানিক গ্রেফতার দেখানো হয়নি।গৃহবন্দি করা হয়েছে। গৃহবন্দি হওয়ার আগে তারা রাষ্ট্রপতির এমন আদেশ এবং রাজ্যভাগের দিনটিকে কালো দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তারা বলেছেন, বিজেপি সরকারের এমন ভয়াবহ সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলকে বারুদপুরীতে পরিণত করবে। এ এলাকায় তরুণ-তরুণীরা হতাশ, ক্ষুব্ধ হয়ে বিধ্বংসী হতে পারেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, কাশ্মীরের স্থানীয় রাজনীতিকদের কোনো প্রভাব থাকবে না বিক্ষুব্ধ জনগণের ওপর।তথ্যসূত্র : বিবিসি
Related News
সৌদির ভিসা ব্যবস্থায় নতুন সুবিধা!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পর্যটন ভিসা ব্যবস্থায় নতুন সুবিধা যুক্ত করেছে সৌদি আরব। নতুন ব্যবস্থার আওতায় এখনRead More
এবার আরও ভয়ংকর সক্ষমতার মিসাইল তৈরির পথে ইরান!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিজেদের তৈরি ব্যালিস্টিক মিসাইলের সীমা বা রেঞ্জ দুই হাজার কিলোমিটার রাখার বাধ্যবাধকতা তুলেRead More



Comments are Closed